সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন




দেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে: সালমান এফ রহমান

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২ ৩:০৪ pm
salman f rahman Private Industry and Investment Adviser to Honorable Prime Minister Sheikh Hasina সালমান ফজলুর রহমান সালমান এফ রহমান প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা
file pic

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রচুর সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তিতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা (বিডা) যৌথভাবে ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্লাশ মব’ নামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। মঙ্গলবার জাপানের টোকিওতে এএনএ ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে এটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান ফজলুর রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। বিএসইসি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এছাড়া বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এবং বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ‘ফিফটি ইয়ারস অব বাংলাদেশ : দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত দুবাই, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, লস অ্যাঞ্জেলেস, সান্তাক্লারা, জুরিখ, জেনেভা, লন্ডন, ম্যানচেস্টার এবং আবুধাবিতে বিনিয়োগ সম্মেলন করেছে সংস্থাটি।

জাপানে অনুষ্ঠিত ‘ইনভেস্টমেন্ট ফ্ল্যাশ মব’ প্রোগ্রামটি শুরু হয় বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে অনুষ্ঠান ও বিনিয়োগ বিষয়ে তথ্যচিত্র (অডিওভিজুয়াল) প্রদর্শন করা হয়। অডিওভিজুয়ালসমূহ প্রদর্শন শেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান পর্ব আরম্ভ হয়।

সালমান এফ রহমান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান। জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দেশগুলোর একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক এক বিশেষ সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক। তিনি বলেন, জাপানের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে নিজের দেশের মতো অনুভূতি পান, এখানে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন না ও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশে রুপান্তরিত হয়েছে এবং আগামীতে বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। তিনি ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের কথা বলেন এবং এক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি আগামীতেও বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম মূল প্রবন্ধে ভূরাজনৈতিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। এ সময় বাংলাদেশের মানবসম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, ভূমি ও পানি সম্পদ এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার দরুণ বাংলাদেশের উন্নয়নের অপার সম্ভাবনাময় দিকও তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশ ও জাপানের ৫০ বছরের বন্ধুত্বের সম্পর্ক, বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগসহ বাংলাদেশে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো- অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অবদানের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের রিটার্ন, মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন এবং বিগত ১২ বছরে বাংলাদেশের বাজারে ক্যাপিটাল রেইজং এর উন্নতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উজ্জ্বল ভবিষ্যত এবং অশেষ সম্ভাবনার কথা ব্যাখ্যা করে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে এই উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ এর নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া জাপানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানা সুযোগ-সুবিধার তথ্য তুলে ধরেন এবং ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ সংস্কারে কাজ করছে বলে জানান। তিনি জাপানি বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহের কথা জানান এবং বাংলাদেশে জাপানের বিশ্বমানের প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য
করেন।

শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কিভাবে সহজে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন সে বিষয়ে আলোচনা করেন। কিভাবে নন রেসিডেন্ট ইনভেস্টমেন্ট টাকা অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ কার্যক্রম করা যায় এবং ট্রেড পরিচালনা করা যায় সে বিষয়টি তিনি ব্যাখ্যা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাপানের বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক-সামাজিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জোরদার করার কথা বলেন। বিগত ৫০ বছরের অর্জন বাংলাদেশের মানুষের জন্য আগামী ৫০ বছর অনুপ্রেরণার কাজ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বাংলাদেশের মাতারবাড়ি তাপ বিদুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টে জাপানের প্রত্যক্ষ সহায়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আগামীতেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ সব সময় একটি বন্ধুসুলভ গন্তব্য হিসেবে থাকবে বলে জানান।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD