রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন




সমাবেশ: পল্টনে অনড় বিএনপি, সতর্ক আ'লীগ

সমাবেশ: পল্টনে অনড় বিএনপি, সতর্ক আ’লীগ

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ৮:৩৩ pm
people লোক মানুষ রাজনীতি bnp বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিএনপি গণসমাবেশ Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
file pic

আসছে ১০ই ডিসেম্বর বিএনপি’র ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ। এই সমাবেশ ঘিরে চলছে পাল্টাপাল্টি। সমাবেশের ৩ দিন বাকি থাকলেও এখনো ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় বাড়ছে উত্তাপ। সরকারের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হলেও বিএনপি নয়াপল্টন বা আশেপাশের এলাকায়ই সমাবেশ করতে চায়। এজন্য আলোচনা চলছে।

নেতারা বলছেন, সমাবেশ হবে। নয়াপল্টন বা আরামবাগের সড়কে হবে। যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সড়কে তারা সমাবেশ করার অনুমতি দিতে চায় না। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সমাবেশের ভেন্যুর বিষয়ে একটা সমাধান হবে এতে তিনি আশাবাদী। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি দলের নেতাকর্মীদের বুধবার থেকে পাড়া মহল্লায় সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেন।

ওদিকে সমাবেশে অংশ নিতে ইতিমধ্যে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসা শুরু করেছেন। কেউ কেউ কয়েকদিন আগেই ঢাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

এজন্য দলীয় কার্যালয়ের সামনে বেড়েছে নেতাকর্মীদের আনাগোনা। বিভিন্ন স্লোগানে সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়া বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলার সমাবেশে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। এতে নানা দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে সমাবেশে অংশ নিতে হয়েছিল নেতাকর্মীদের। ঢাকায় এখনো পরিবহন ধর্মঘটের ব্যাপারে কোনো আভাস না পাওয়া গেলেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাই অনেকে আগেই ঢাকায় চলে আসতে শুরু করেছেন। তারা যেকোনো মূল্যে ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল করতে চান। এজন্য প্রস্তুতি চলছে।

বিএনপি’র ১০ই ডিসেম্বরের সমাবেশে অংশ নিতে লক্ষ্মীপুর থেকে গত সোমবার দুপুরে ঢাকা আসেন কমলনগর চর কাদিয়া ইউনিয়নের শ্রমিক দলের সভাপতি নূর নবী চৌধুরী। ঢাকায় আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন। তিনি বলেন, আমরা সমাবেশের উদ্দেশ্যে আগেই চলে এসেছি। আরও অনেকেই এসেছেন। আমরা ঢাকায় থাকবো। সমাবেশ সফল করে গ্রামে ফিরে যাবো। মানিকগঞ্জ বিএনপি’র জেলা কমিটির এক নেতার সঙ্গে কথা হয় নয়াপল্টনে। তিনি বলেন, আমাদের নামে অযথা মামলা দেয়া হয়েছে।

এজন্য আগেই ঢাকায় চলে এসেছি। নেত্রোকোনা থেকে এরশাদ নামের এক কর্মী ঢাকা এসেছেন। তিনি জানান, সামনে গাড়ি বন্ধ থাকতে পারে এজন্য আগেই একসঙ্গে ১০ জন ঢাকায় চলে এসেছেন। তাদের এলাকা থেকে আরও অনেকের আসার কথা রয়েছে। তারাও দু’একদিনের মধ্যে ঢাকায় চলে আসবেন। মাদারীপুর শিবচর উপজেলা থেকে একসঙ্গে ২০ জন বিএনপি নেতাকর্মী গত সোমবার সকালে ঢাকায় এসেছেন। কামাল হোসেন বলেন, বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ চলাকালে পরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ঢাকায় সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে। এতেও যেকোনো সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। তখন আামাদের ঢাকায় আসতে কষ্ট হবে। তাই সময় নিয়েই চলে এসেছি।

এদিকে নয়াপল্টনে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইনি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অনিরাপদ।

আমরা সেখানে কোনো প্রোগ্রাম করবো না। সেটা আমাদের স্ট্যান্ড। আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলেছি, অতীতে বিএনপি অফিসের সামনে অনেক প্রোগ্রাম হয়েছে। মহাসমাবেশ হয়েছে। নয়াপল্টনের অফিসের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই। বিএনপি রাস্তায় সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না- ডিএমপি কমিশনারের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ডিএমপি’র অনুরোধে আমরা পরবর্তীতে বলেছি যে, বিএনপি’র পার্টি অফিসের পাশে আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনে যে স্থানটি রয়েছে। আশপাশে মাঠও আছে। আমাদের সমাবেশের দিনটি বন্ধের দিন। সেখানে আমরা প্রোগ্রাম করতে পারি। বিকল্প হিসেবে।

আমরা তাদের কাছে সেই সহযোগিতা কামনা করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী তারা সেখানে আমাদের সহযোগিতা করবেন। আরামবাগে যদি স্থান দেয় ডিএমপি। তখন কী করবেন? জবাবে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, আমরা তো রাজপথের লোক। সড়ক ছাড়া কোথায় করবো। আমরা রাজপথটাকে বেছে নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমাদেরকে তারা রাজপথে প্রোগ্রাম করতে দিতে বাধ্য হবে। যদি তা না করেন তাহলে দায়-দায়িত্ব তাদের উপরে বর্তায়। দায় তাদেরকে নিতে হবে।

পাড়া মহল্লায় সতর্ক থাকার নির্দেশ আওয়ামী লীগের: ওদিকে বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রস্তুত হয়ে যান। আগামীকাল (বুধবার) থেকে সব পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা- সব জায়গায় সতর্ক পাহারা বসবে। গতকাল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, খেলা হবে, ডিসেম্বরে খেলা হবে, নির্বাচনে খেলা হবে। আন্দোলনের বিরুদ্ধে খেলা হবে। ভোট চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে। বিজয়ের মাস প্রস্তুত হয়ে যান। ১৩ বছরে ১৩ মিনিটও দাঁড়াতে পারে না। তারা নাকি সরকার পতন করবে। বিএনপি ডাকে মহাসমাবেশ, বাস্তবে হয় সমাবেশ। আওয়ামী লীগ ডাকে সমাবেশ, বাস্তবে হয় মহাসমাবেশ।

সংঘাত চাই না-কাদের: বিএনপি’র সমাবেশকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আশা করছি, বিরোধী দল শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করবে। দলীয়ভাবে আমরা তাদের সঙ্গে কখনো সংঘাত সৃষ্টি করিনি, এমনকি আমরা সংঘাত চাই না। গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ১০ই ডিসেম্বর বিএনপি’র সমাবেশ স্থল নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, হয়ে যাবে (সমঝোতা)। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে ঘন মেঘ ঘনীভূত হয়, আবার চট করে চলে যায়। এ ব্যাপারে আপনি কী আশাবাদী? জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, অলওয়েজ আই অ্যাম ইন্টারনাল অপটিমিস্টিক (আমি চিরন্তন আশাবাদী মানুষ)। আমি আশাবাদী।

আপনি কী মনে করেন তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে, না কি সরকার আরামবাগে অনুমতি দেবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেটাই হোক, একটা সমঝোতায় আসবে। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই, আমরা সরকারে আছি, আমরা কেন দেশের অশান্তি চাইবো? আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, কেন এমন কাজ করবো? এখন যদি আতঙ্কের কোনো কাজ বা যদি কোনো উস্কানি দেয়া হয়। আমাদের ওপর যদি ঝাঁপিয়ে পড়ে, আমরা কী চুপ করে বসে থাকবো? ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে তিনি বলেন, তিনি প্রথম এসেছেন, এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। এর ভেতরেও আমরা সবকিছু আলোচনা করেছি। সড়ক যোগাযোগ নিয়ে আমাদের কিছু প্রকল্প আছে। সেগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ভারতীয় হাইকমিশনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার কোনো মতামত দেননি বলেও জানান ওবায়দুল কাদের। ভারত কেমন নির্বাচন দেখতে চায়? জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এসব কিছু নিয়ে কথা হয়নি। অহেতুক আমি মিথ্যা কথা বলবো কেন? তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বলেছি যে বিরোধী দল আন্দোলন করছে। তারা সরকারের পদত্যাগ চাচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচন করবে না। ১০ই ডিসেম্বরে বিএনপি’র মহাসমাবেশ নিয়েও কথা হয়েছে। সমাবেশের স্থান নিয়ে বিএনপি অনড়, সেটাও জানিয়েছি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD