শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন




রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৩ ৪:২২ pm
highway hig hway Dhaka Metropolitan Police dmp ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি রোড accident rash road যানজট রাস্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি dhaka তল্লাশিচৌকি ঢাকা বিএনপির গাবতলী ঢাকামুখী বাস যানবাহন তল্লাশি পুলিশ ঢাকা প্রবেশমুখ নয়াপল্টন রোড accident rash road যানজট রাস্তা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি police vigilant পুলিশ অভিযান মোতায়েন bnp বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিএনপি গণসমাবেশ Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
file pic

জাতীয় নির্বাচনের বাকি প্রায় এক বছর। এর আগেই সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। নির্বাচন সামনে রেখে যেকোনও ধরনের অপতৎপরতা রোধে এখন থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়ে গেছে। মামলা রয়েছে এমন ব্যক্তি ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২২ সালে স্থানীয় নির্বাচনসহ রাজনৈতিক কারণে দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় সব কটিতেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত এক বছরে বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নির্বাচনসহ রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪৭৯টি। এতে নিহত হয়েছেন ৭০ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার ৯১৪ জন।

রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা জেলায়। ঢাকায় ২৯টি ঘটনায় প্রায় ৪৫৯ জন আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ৩ জন। এ ছাড়া কুমিল্লা জেলায় ২৮টি ঘটনায় প্রায় ২৬৯ জন আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন ২ জন। চট্টগ্রামে ২৫টি ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৩৩২ জন এবং নিহত হয়েছেন ৭ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় বগুড়া জেলায় ১০টি ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৭৬ জন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধী যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারিতে আসা বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী এবং প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিকল্পনা করা হবে।

গত নভেম্বর ‌ও ডিসেম্বর মাসে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করেছে। পাশাপাশি বিএনপিও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ এবং মিটিং-মিছিল করেছে। এ ছাড়া অন্য দলগুলো ছোটখাটো সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, একদিকে যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা বাড়বে, সেই সঙ্গে পক্ষ-বিপক্ষ দলের জমায়েত বাড়বে।

যদিও ক্ষমতাসীন সরকারি দলের সভা-সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের গোলযোগের খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির সমাবেশ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মামলাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে অনেককে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নুর খান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন আইনের আওতায় থেকেই কাজ করে। মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের কারণে অনেক সময় সংঘাত বেড়ে যাচ্ছে। তাদের ভূমিকা অনেক সময় আইনের মধ্যে থাকছে না। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশঙ্কা অমূলক নয়। এসব সংঘাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখনই থামাতে পারবে, যখন তারা স্বাধীনভাবে আইনের ভেতর থেকে কাজ করতে পারবে।

পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া শাখার এআইজি মনজুর রহমান বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতারের কাজ করে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক বিষয় বিবেচনা করা হয় না। যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা থাকে, তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল-মঈন বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করে তাদের গ্রেফতার করি, এ বিষয়ে কারও কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয় না। এ ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে থাকলে তাদের বিষয়েও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। [বাংলা ট্রিবিউন]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD