শৈত্যপ্রবাহ ও হাড় কাঁপানো শীতে রংপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাপমাত্রা উঠানামার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। জবুথবু হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। বিশেষ করে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। রংপুরের গঙ্গাচড়া, পীরগাছা, কাউনিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৩০টি চরাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষজনের দুর্ভোগ বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। শীতবস্ত্র না পেয়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। সেইসঙ্গে অসাবধানতায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। শীতজনিত কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়ে হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৯নং ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স শিউলী জানান, এবার কোল্ড ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০-৪০ জন শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হচ্ছে।
শিশু বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. তানভীর চৌধুরী বলেন, আক্রান্ত ৫ শতাধিক রোগীর চিকিৎসার সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। গত ৪ দিনের ব্যবধানে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১০ মাসের শিশু ওমর আলী, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থেকে আসা ৩ বছরের শিশু, গাইবান্ধার নবজাতক, কুড়িগ্রামের চিলমারীর আড়াই বছরের শিশু মুন্নী, নগরীর শালবন এলাকার ১৯ মাসের শিশু মাহমুদুল হাসানসহ ১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওদিকে বার্ন ইউনিটে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে চরাঞ্চলের শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১৯ রোগী নতুন করে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গঙ্গাচড়ার আফরোজা (৩৭), পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার নসিমন বেওয়া (৬৮) নামে দু’ নারীর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদের শরীরের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
এরমধ্যে দু-একজনকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। জেলার সঙ্গে সঙ্গে রংপুরের ৮ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ওদিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার বিনবিনার চরের কৃষক লুৎফর রহমান ও কুড়িবিশ্যা গ্রামের আব্দুল হালিম জানান, গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে, খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে গিয়ে অসাবধানতায় আগুন লেগে যায়। রংপুরের সিভিল সার্জন ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রংপুর অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। দিন দিন তাপমাত্রা কমে আসার কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি কাবু হচ্ছে। এদিকে শীতের কারণে রংপুরের ফুটপাথের দোকানগুলোর শীতবস্ত্র বিক্রি বেড়েছে। শীতের প্রকোপের কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছেন না। খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে রংপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক ড. চিত্রলেখা নাজনীন শীতবস্ত্র বিতরণ করে চলেছেন। এ ছাড়া প্রতিদিনের বাংলাদেশের পাঠক সংগঠক অদম্য বাংলাদেশ ৩শ’ শীতার্তের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে গতকাল। লক্ষ লক্ষ মানুষ হাড় কাঁপানো শীতে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এগিয়ে আসেনি সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতারা এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিসের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রংপুর অঞ্চলে ১২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠানামা করছে।