শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন




চামড়ার মোজা বা কাপড়ের মোজার উপর মাসেহ করার পদ্ধতি

কোন ধরনের মোজার উপর মাসেহ করা জায়েজ?

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৩ ১:২৩ pm
Sock মোজা
file pic

প্রশ্ন: আমাদের দেশের জনগণ অনেক ধরনের মোজা পরিধান করে থাকেন। কেউ চামড়ার মোজা পরেন। কেউ সুতার পাতলা মোজা পরেন। কেউ নাইলনের মোজা বা তুলার মোজা পরিধান করেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো- কোন ধরনের মোজার উপর মাসেহ করা জায়েজ?

উত্তর: আমাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী মোজা তিন ধরনের হতে পারে।

১. চামড়ার মোজা। এ ধরনের মোজার উপর সর্বসম্মতভাবে মাসেহ করা জায়েজ। বুট জুতা এবং গামবুটের উপর মাসেহ করা জায়েজ আছে।

ইমাম আবূ হানীফা (রহ.) বলেছেন, আমি ততক্ষণ পর্যন্ত মোজার উপর মাসাহের প্রবক্তা হইনি, যতক্ষণ পর্যন্ত না বিষয়টি আমার কাছে দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার হয়েছে। (আলবাহরুর রায়েক-১/২৮৮, জাকারিয়া)

হাসান বসরী (রহ.) বলেন, সত্তরজন বদরী সাহাবীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। তাদের প্রতিজনকেই চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করতে দেখেছি। (বাদায়েউস সানায়ে-১/৭৭, জাকারিয়া আহকামুল কুরআন, ইমাম জাসসাসকৃত-২/৪২৫)

২. এমন পাতলা মোজা, যা চামড়ারও নয়, আবার চামড়ার মোজার কোন গুণাগুণও তাতে পাওয়া যায় না। যেমন আজকালকার সুতার মোজা, নাইলনের মোজা বা তুলার মোজা ইত্যাদি। এসব মোজার উপর মাসেহ করা জায়েজ হবে না।

আল্লামা কাসানী (রহ.) বলেন, মোজা যদি এতটা পাতলা হয় যে, তা ভেদ করে পানি ভেতরে প্রবেশ করে, তাহলে তার উপর সবার ঐকমত্যে মাসেহ করা জায়েজ নেই। (বাদায়েউস সানায়ে-১/৮৩, জাকারিয়া বুক ডিপো)

৩. এমন মোজা যা চামড়ার নয়; কিন্তু মোটা হবার কারণে চামড়ার মোজার গুণ পাওয়া যায়। এমন মোজার উপর মাসেহ করা জায়েজ আছে, যদি তিনটি শর্ত পাওয়া যায়।

ক. মোজাটি এতটুকু মোটা হতে হবে যে, এর মাঝে পানি পড়লে তা পায়ে পৌঁছে না।

খ. উক্ত মোজা এতটুকুই মোটা যে, মোজাকে কোন কিছু দিয়ে বাঁধা ছাড়াই শুধু মোজা পা দিয়ে দুই-আড়াই কিলোমিটারের মতো হাঁটা যাবে, কিন্তু মোজা ছিঁড়বে না।

গ. মোজা এতটুকু বড় হতে হবে যে, টাখনুসহ ঢাকা থাকতে হবে।

সুতরাং উপরের আলোচনায় স্পষ্ট হলো যে, আমাদের দেশের প্রচলিত কাপড়ের পাতলা মোজার উপর মাসেহ করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।

ইবনে নুজাইম (রহ.) বলেন, সুতা বা চুলের পাতলা মোজার উপর মাসেহ করা জায়েজ নেই সর্বসম্মত মতানুসারে। (আলবাহরুর রায়েক-১/৩১৮, জাকারিয়া)

উল্লেখ্য, ১. ওজু করার পর মোজা পরিধান করলে পরবর্তীতে ওজু নষ্ট হয়ে গেলে তার উপর মাসেহ করতে পারবে। মোজা পরিধান করার পর গোসল ফরজ হয়ে গেলে সেই মোজার উপর মাসেহ করা জায়েজ হবে না।

২.মুকিম হলে একদিন এক রাত, আর মুসাফির হলে তিন দিন তিন রাত মোজার উপর মাসেহ করতে পারবেন।

সূত্র: সহিহ বুখারি -২০২. সুনানে তিরমিজি-৯৩ হেদায়া-১/৬১.বাদায়েউস সানায়ে-১/৭৫-৮৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/৮৫. মাজমাউল আনহুর-১/৭৪

উত্তর দিয়েছেন- মুফতি সাদেকুর রহমান, মুফতি ও মুহাদ্দিস, শেখ জনূরুদ্দীন (র.) দারুল কুরআন মাদ্রাসা, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা।

[মুফতি সাদেকুর রহমান]

চামড়ার মোজা বা কাপড়ের মোজার উপর মাসেহ করার পদ্ধতি

প্রশ্ন
আমার প্রশ্ন পবিত্র অবস্থায় পরিহিত কাপড়ের মোজার ওপর মাসেহ করা বিষয়ক হাদিস সম্পর্কে। ইবনে খুজাইমা বলেন, সাফওয়ান বিন আসসাল এর হাদিসে যা উদ্ধৃত হয়েছে সে অনুযায়ী- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার নির্দেশ দিয়েছেন; যদি আমরা পবিত্র অবস্থায় মোজাদ্বয় পরিধান করি; মুসাফিরের জন্য তিনদিন এবং মুকীম এর জন্য একদিন, একরাত।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে- আমি কি ধরে নিতে পারি যে, হাদিসে উল্লেখিত একদিন একরাত বলতে ২৪ ঘণ্টা? সেটা হলে, আমি যে কোন সময় পবিত্র অবস্থায় কাপড়ের মোজা পরিধান করতে পারি এবং ২৪ ঘণ্টার ভিতরে যখনই আমি ওযু করব তখন শুধু মোজার উপর মাসেহ করব? উদাহরণতঃ আমি যদি কোনদিন রাত ১১টায় মোজা পরিধান করি পরেরদিন রাত ১১ টা পর্যন্ত ওযুকালীন সময়ে উক্ত মোজার ওপর মাসেহ করা আমার জন্য জায়েয?

আমি আরও আশা করব, আপনারা আমাকে অবহিত করবেন যে, মোজার কোন অংশের উপর মাসেহ করতে হবে? আমি জানি যে, মোজার নীচের অংশের ওপর মাসেহ করা জায়েয নয়। কিন্তু, মোজার পার্শ্বদ্বয়, সামনে ও পিছনের অংশ কি মাসেহ করা ফরয? আশা করি আপনারা জবাব দিবেন। কারণ এর ফলে আমার জীবন ধারণ অনেক সহজ হয়ে যাবে। যেহেতু আমার ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। এ ক্ষেত্রে অবহেলা করলে আমি অনেক কুমন্ত্রণা ও অসন্তুষ্টির শিকার হই।

উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।

চামড়ার মোজা কিংবা কাপড়ের মোজার ওপর মাসেহ করার সময়কাল শুরু হয় প্রথমবার ওযু ভাঙ্গার পর প্রথমবার মাসেহ করা থেকে। প্রথমবার মোজা পরিধানের সময় থেকে নয়।

মাসেহ করার পদ্ধতি:

দুই হাতের ভেজা আঙ্গুলগুলো দুই পায়ের আঙ্গুলের ওপর রাখবে। এরপর হাত দুইটি পায়ের গোছার দিকে টেনে আনবে। ডান পা ডান হাত দিয়ে মাসেহ করবে; বাম পা বাম হাত দিয়ে মাসেহ করবে। মাসেহ করার সময় হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁকা ফাঁকা করে রাখবে। একাধিকবার মাসেহ করবে না। [দেখুন: শাইখ ফাউযানের ‘আল-মুলাখ্‌খাস আল-ফিকহি ১/৪৩]

শাইখ উছাইমীন (রহঃ) বলেন: অর্থাৎ মোজার যে অংশ মাসেহ করা হবে সেটা উপরের অংশ। শুধু পায়ের আঙ্গুলের দিক থেকে পায়ের গোছার দিকে হাত টেনে আনবে। একত্রে দুই হাত দিয়ে দুই পা মাসেহ করবে। অর্থাৎ ডান হাত দিয়ে ডান পা মাসেহ করবে এবং একই সময়ে বাম হাত দিয়ে বাম পা মাসেহ করবে। যেমনটি দুই কান মাসেহ করার ক্ষেত্রেও করা হয়। কেননা সুন্নাহ থেকে বাহ্যিকভাবে এটাই জানা যায়। দলিল হল মুগিরা বিন শুবা (রাঃ) এর উক্তি: “তিনি দুই পায়ের ওপর মাসেহ করেছেন”।তিনি এ কথা বলেননি যে, ডান পা দিয়ে শুরু করেছেন। বরং বলেছেন: “দুই পায়ের ওপর মাসেহ করেছেন”। এ কারণে সুন্নাহ থেকে বাহ্যিকভাবে এটাই জানা যায়। হ্যাঁ, যদি এমন হয় যে, তার এক হাত কাজ করে না সেক্ষেত্রে সে বাম পায়ের আগে ডান পা মাসেহ করে তাহলে ঠিক আছে। অনেক মানুষ দুই হাত দিয়ে ডান পা মাসেহ করে এবং দুই হাত দিয়ে বাম পা মাসেহ করে— এর কোন ভিত্তি নেই। তবে ব্যক্তি মোজার উপরের অংশ যেভাবেই মাসেহ করুক না কেন সেটা জায়েয হবে। আমরা এখানে যেটা আলোচনা করেছি সেটা হচ্ছে উত্তম পদ্ধতি কোনটি সে সম্পর্কে।[সমাপ্ত]

[দেখুন: ফাতাওয়াল মারআ আল-মুসলিম ১/২৫০]

মোজার দুই পার্শ্ব কিংবা পেছনের অংশ মাসেহ করবে না। যেহেতু এ বিষয়ে কোন দলিল নেই। শাইখ উছাইমীন বলেন: “কেউ হয়ত বলতে পারে যে, বাহ্যিক দৃষ্টিতে মোজার ওপরের অংশ মাসেহ করার চেয়ে নীচের অংশ মাসেহ করা অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ নীচের অংশে মাটি ও ময়লা লাগে। কিন্তু, আমরা চিন্তাভাবনা করে পেয়েছি মোজার ওপরের অংশ মাসেহ করা অধিক যুক্তিযুক্ত এবং বিবেক-বুদ্ধিসম্মত। কারণ এ মাসেহ দ্বারা পরিষ্কার করা বা নির্মল করা উদ্দেশ্য নয়। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি ইবাদত পালন করা। যদি আমরা মোজার নীচের অংশ মাসেহ করতাম তাহলে তো মোজা আরও বেশি ময়লা হয়ে যেত। আল্লাহই ভাল জানেন।

[দেখুন ‘আল-শারহুল মুমতি ১/২১৩]

সূত্র: শাইখ মুহাম্মদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD