বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন




ঢাকা ওয়াসায় ওভারটাইম বাবদ খরচে বিস্ময়কর তথ্য

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৩ ১২:৩১ pm
Managing Director WASA Taqsem A Khan ওয়াসা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি তাকসিম আহমেদ খান
file pic

ঢাকা ওয়াসায় বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার। এর মধ্যে স্থায়ী জনবলের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। বাকিরা অস্থায়ী (চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সিং)। তবে এ স্থায়ী জনবল নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ টাকা নেন ওভারটাইম হিসেবে, যা ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে উৎসব হিসেবে বিবেচিত। ২০১৯, ২০২০ এবং ২০২১ সালে ওয়াসার অভ্যন্তরীণ অডিটের নথিতে দেখা গেছে ওভারটাইম উৎসবের এমন চিত্র।

এর মধ্যে ২০১৯ সালে ওভারটাইম বাবদ খরচ হয়েছে ৭৭ কোটি, ২০২০ সালে ৪২ কোটি, ২০২১ সালে ৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। কেবল ওভারটাইমই নয়, ওয়াসার বিভিন্ন কর্মকর্তার রুমে যে পত্রিকা রাখা হয়, তার বিল বাবদও কয়েক লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসার বিগত তিন বছরের অভ্যন্তরীণ অডিটের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে এমন বিস্ময়কর তথ্য। কোনো কোনো বছর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেসিক সেলারির থেকেও ওভারটাইমের টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। আবার যেসব বছরে ওভারটাইম কম দেখানো হয়েছে, ওইসব বছরে খরচ বেড়েছে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মচারীদের টাকার পরিমাণ। বিপুল টাকা খরচ করা হয়েছে বিভিন্ন অ্যালাউন্স ও সুযোগ-সুবিধা নেওয়া বাবদও। তবে বছর বছর এ টাকার তারতম্য রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে বিভিন্ন মিটিংয়ের সম্মানী বাবদ। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে কম্পিউটার মেইনটেন্যান্সেও। পত্রিকার বিল বাবদও খরচ হয়েছে বেশুমার। বিধি অনুসারে ওভারটাইম একটি ঐচ্ছিক ব্যাপার। কোনো শ্রমিক দৈনিক নির্ধারিত ৮ ঘণ্টার পর অতিরিক্ত কাজ করলে তা ওভারটাইম হিসেবে গণ্য করা হয়।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একজন কর্মচারীর সারা মাসে অফিস সময় ধরা হয় গড়ে ১৭৫ ঘণ্টা। এটা ধরেই তাদের ঘণ্টায় বেতন হিসাব করা হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী, সাধারণ কর্মচারীরা অতিরিক্ত কাজের জন্য মূল বেতনের দ্বিগুণ পান। তবে তা মূল বেতনের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই।

ওয়াসার ২০১৯ সালের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাবদ খরচ হয়েছে ৭১ কোটি টাকা। তবে ওভারটাইম হিসেবে খরচ হয়েছে তার চেয়েও বেশি। সেই টাকার পরিমাণ ৭৭ কোটি টাকারও বেশি। চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী বেসিক বেতনের চেয়ে ওভারটাইম বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। একই বছরে দৈনিকভিত্তিতে শ্রমিকদের মজুরি ২০ কোটি ৩৬ লাখ, যানবাহন মেইনটেন্যান্স ৩ কোটি, বিজ্ঞাপন বাবদ ২ কোটি ৯১ লাখ, অফিস মেইনটেন্যান্স ১ কোটি ৬২ লাখ, অফিস ফার্নিচার মেইনটেন্যান্স বাবদ ৩ লাখ ৬৭ হাজার, কম্পিউটার মেইনটেন্যান্স ১৮ লাখ এবং সম্মানীভাতা বাবদ ৮৭ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। এ ছাড়াও রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বাবদ প্রায় ৭ কোটি, কনসালট্যান্ট ফি বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা। সংবাদপত্র বিল বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

২০২০ সালের অডিটের নথি অনুসারে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মূল বেতন হিসেবে খরচ হয়েছে ৭৮ কোটি টাকা, আর ওভারটাইম হিসেবে খরচ দেখানো হয়েছে ৪২ কোটি টাকা। একই বছরে দৈনিক হাজিরাভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন ছিল ৪৩ কোটি। অথচ ২০১৯ সালে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে শ্রমিকদের বেতন ছিল ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি খরচ হয়েছে দৈনিক হাজিরাভিত্তিতে শ্রমিকদের পেছনে। এ ছাড়াও রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বাবদ প্রায় ১ কোটি খরচ হয়েছে। যদিও তা আগের বছরের তুলনায় ছয় কোটি টাকা কম। বিস্ময়করভাবে খরচ দেখানো হয়েছে সংবাদপত্রের বিল দেখানোর ক্ষেত্রেও। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে সংবাদপত্র বিলে। যদিও তা এর আগের বছর দেখানো হয়েছিল ২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, সংবাদপত্রের বিল এত টাকা হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ প্রথম শ্রেণির কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জোনপ্রধান ব্যতিত কাউকে সংবাদপত্র দেওয়া হয় না।

এর বাইরেও যানবাহন মেইনটেন্যান্স ২ কোটি ৭৯ লাখ, বিজ্ঞাপন বাবদ ২ কোটি ১৯ হাজার, অফিস মেইনটেন্যান্স ২ কোটি ৬৯ লাখ, অফিস ফার্নিচার মেইনটেন্যান্স বাবদ ৪ লাখ ১৮ হাজার, সম্মানীভাতা প্রায় ১ কোটি, কম্পিউটার মেইনটেন্যান্স ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

২০২১ সালে অভ্যন্তরীণ অডিটের তথ্যমতে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৭৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ওভারটাইম বাবদ ব্যয় করা হয়েছে ৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মচারীদের বিল বাবদ ব্যয় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। যদিও তা আগের বছর ছিল ২০ কোটি টাকারও বেশি। এ ছাড়াও নাইট অ্যালাউন্স বাবদ ১২ লাখ ৫৯ হাজার, কনভেন্স বাবদ খরচ ২ কোটি ৮৯ লাখ, বিজ্ঞাপন বাবদ খরচ ৩ কোটি ৮৬ লাখ, অফিস মেইনটেন্যান্স বাবদ ৩ কোটি ৭৮ লাখ, অফিস ফার্নিচার মেইনটেন্যান্স ৫ লাখ ৫৩ হাজার, প্রিন্টিং অ্যান্ড স্টেশনারি ১ কোটি ৮৪ লাখ, বিনোদন বাবদ খরচ হয়েছে ৯৮ লাখ ৭৪ হাজার, রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বাবদ ১ কোটি ৫৩ লাখ, সম্মানীভাতা বাবদ খরচ হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ, কম্পিউটার মেইনটেন্যান্স বাবদ খরচ ২৪ লাখ ৫৪ হাজার। সংবাদপত্রের বিল বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে দেড় লাখ টাকা।

এ বিষয়ে লিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে বক্তব্য জানতে চাইলে ওয়াসার জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আবদুল কাদের বলেন, এখানে আমার কিছু বলার নেই। ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করার পরামর্শ দেন তিনি। তবে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খানকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD