বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন




বিএনপির গণঅবস্থান শুরু, সতর্ক পুলিশ, পাহারায় আ’লীগ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৩ ১১:৪৪ am
রাজনীতি bnp বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Bangladesh Nationalist Party BNP ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বিএনপি গণসমাবেশ Bangladesh Nationalist Party BNP Mirza Fakhrul Islam Alamgir বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর mass sit-in programme bnp গণঅবস্থান
file pic

সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ সরকারসহ ১০ দফা দাবিতে বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এতে যোগ দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ হাজারও নেতাকর্মী। বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই নয়াপল্টন সড়কের উপর অবস্থান করছেন। ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে প্রবেশ করছেন। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে নয়াপল্টনে। কেন্দ্রীয় নেতারা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন। বিভিন্ন পয়েন্টে বাজানো হচ্ছে দলীয় সংগীত।

বিএনপির এই গণঅবস্থানের প্রধান অতিথি হিসেবে অতিথি থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে কর্মসূচির সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কর্মসূচি চলবে বিকেল তিনটা পর্যন্ত। সমাপনী বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্দোলনের ৩য় ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এদিকে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনে শরিক হয়েছে গণফোরাম (একাংশ)। মতিঝিল নটরডেম কলেজের উল্টো দিকের রাস্তায় গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করছে দলটি। জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীতে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করছে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে সমমনা গণতান্ত্রিক জোট।

এছাড়া বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিতে ১৫টি সংগঠনের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘সমমনা গণতান্ত্রিক জোট’। রোববার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশে আসে এই জোট।

কর্মসূচিতে বিএনপি নেতারা কে কোন বিভাগে থাকবেন

রাজধানী নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে রয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মির্জা আব্বাস।

সিলেটে রয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রাজশাহীতে আব্দুল মঈন খান, ময়মনসিংহে নজরুল ইসলাম খান, চট্টগ্রামে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরিশালে সেলিমা রহমান, রংপুরে রয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এছাড়াও কুমিল্লায় বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, খুলনায় থাকবে শামসুজ্জামান দুদু, ফরিদপুরে থাকবে অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান অবস্থান করছেন।

কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কর্মসূচি পালনে সমন্বয় করছেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধিবাসী জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা, সাবেক এমপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব, জেলা/মহানগর বিএনপির সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব/প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক।

ঢাকায় ‘সতর্ক’ অবস্থানে পুলিশ

সারাদেশে বিভাগীয় শহরে বিএনপির পূর্বঘোষিত গণঅবস্থান কর্মসূচি আজ। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি করবে দলটির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা এ কর্মসূচি চলবে।

বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচি ঘিরে যাতে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আজ সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর নয়াপল্টন, কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টন ও মতিঝিলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপিকে শান্তিপূর্ণভাবে গণঅবস্থানের জন্য ডিএমপি অনুমতি দিয়েছে। জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ না করে বিএনপিকে শান্তিপূর্ণভাবে গণঅবস্থান কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকগুলো রাজনৈতিক দল গণঅবস্থান কর্মসূচি করার জন্য অনুমতি চেয়েছে। আমি বলেছি, যেহেতু আগামীকাল (বুধবার) লাখ লাখ মানুষ ঢাকা শহরে অফিসে যাতায়াত করবেন, সেজন্য যান চলাচল যেন বন্ধ না হয়। যান চলাচল বন্ধ না করে তাদের কর্মসূচি করার কথা বলেছি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে দলগুলোকে অনুরোধ করছি, আগামীকাল একটি অফিসিয়াল ডে (কর্মদিবস)। লাখ লাখ লোক অফিসে যাতায়াত করবেন। তাই তাদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি, তারা যেন কোনো প্রকার রাস্তা অবরোধ না করেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে যান চলাচল বন্ধ করে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি যেন না করা হয়। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সহযোগিতা পাবেন।

সতর্ক আওয়ামী লীগ, পাহারায় নেতাকর্মীরা

বিএনপির পূর্বঘোষিত গণঅবস্থান কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। রাজধানীসহ সারাদেশে বিভাগীয় শহরগুলোতে দলটির নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারা বসিয়েছেন। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ চারটি পয়েন্টে সমাবেশে করবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল ও জোট ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে একযোগে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। এরই মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেছেন। বেলা ১১টায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এদিকে বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচির দিন সকাল ১০টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আলোচনা সভা আয়োজন করেছে। গত সোমবার (৯ জানুয়ারি) এ সভাকে বিএনপির সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সমাবেশ উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিলেও পরে সেটি সংশোধন করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বেলা ১১টায় শাহবাগে বিএনপির গণঅবস্থান কর্মসূচির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি করছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। একই সময়ে ফার্মগেটে সমাবেশ করছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ। দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সমাবেশ করবে। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। বিকেলে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিএনপির নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সমাবেশ হবে। সেখানেও বক্তব্য রাখবেন ওবায়দুল কাদের।

সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও অন্য রাজবন্দিদের মুক্তিসহ ১০ দফা দাবিতে বুধবার সারাদেশে বিভাগীয় শহরে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

বিএনপির এ গণঅবস্থান কর্মসূচি প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খুব একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল ১০ তারিখ (১০ ডিসেম্বর) নিয়ে। এত ঢাকঢোল পিটিয়ে ১০ তারিখে তারা চলে গেল গোলাপবাগে। সেটা আমি বলতে চাই না যে সেখানে তাদের যেতে হলো। এখন আবার বলে ১১ তারিখ (১১ জানুয়ারি) থেকে তারা আন্দোলন করবে। আবার সঙ্গে জুটে গেছে অতি বাম, অতি ডান। সব অতিরা এক হয়ে, আতি-পাতি নেতা হয়ে তারা নাকি একেবারে ক্ষমতা থেকে আমাদের উৎখাত করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে, জনগণের কল্যাণে কাজ করে। কেউ আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিল, আর আওয়ামী লীগ পড়ে গেল, এত সহজ নয়।

বিএনপির কর্মসূচিকে ইঙ্গিত করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর তো গেল, আওয়ামী লীগ কি মোকাবিলা করেনি? আজকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ, অনেক বেশি শক্তিশালী। আমরা যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র, যে কোনো ধরনের আন্দোলনের নামে সহিংসতার সমুচিত জবাব দিতে প্রস্তুত।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD