শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন




সরকারি ব্যাংক–আর্থিক প্রতিষ্ঠান/ পদোন্নতির নীতিমালা নিয়ে অসন্তোষ

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৩ ১:২৫ am
Central Bank কেন্দ্রীয় ব্যাংক Bangladesh Bank bb বাংলাদেশ ব্যাংক বিবি
file pic

এখন থেকে সরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পদে পদোন্নতি ও পদায়ন দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পদায়নও করতে পারবে। আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই জিএম পদে পদোন্নতি দিয়ে আসছিল। সে ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকেই পদায়নের সুযোগ ছিল।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গত সপ্তাহে সরকারি খাতের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও জিএম পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা জারি করে এই বিধান যুক্ত করেছে। নতুন এ নীতিমালা নিয়ে রূপালী ব্যাংক ছাড়া রাষ্ট্রমালিকানাধীন অন্য ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, ২০০৫-২০০৬ সালের দিকে রূপালী ব্যাংক বিক্রির আলোচনা হয়েছিল। এ নিয়ে ওই সময়কার সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগও নেওয়া হয়। তাতে সে সময় অনেকে ব্যাংকটির চাকরি ছেড়ে দেয়। তাতে শূন্য পদে দ্রুত পদোন্নতি পান ব্যাংকটির অনেক কর্মকর্তা।

এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির (বিআরসি) মাধ্যমে ১৯৮৮, ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের কেউ কেউ পদোন্নতি পেয়ে এমডি হয়ে গেছেন। আর অন্য ব্যাংকে একই ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া অনেকে এখনো উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদে রয়েছেন। এখন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিএম পদোন্নতির সিদ্ধান্তে রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারাই বেশি লাভবান হবেন। কারণ, তাঁরা রাষ্ট্রমালিকানাধীন অন্য ব্যাংকের শূন্য পদে পদায়নের সুযোগ পাবেন।

বিআরসির অধীনে নিয়োগের সময় কর্মকর্তারা কর্মস্থল হিসেবে পছন্দের তালিকায় একেবারে শেষে রাখতেন রূপালী ব্যাংককে। ওই সময় পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বিআরসির অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১৯৮৮ সালে যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের কেউ কেউ নির্বাহী পরিচালক হিসেবে অবসরে গেছেন। আর দুজন ডেপুটি গভর্নর হয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৮ সালে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নিয়োগ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, এমডি, ডিএমডি ও জিএম পদে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এখন এসব কর্মকর্তা নিয়োগের দায়িত্ব পুরোপুরি মন্ত্রণালয় নিয়ে গেছে। অথচ সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পর নিজেরাই জিএম পদে পদোন্নতি দিয়ে আসছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয় এর আগে ২০১৯ সালেও একবার নীতিমালা করে সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জিএমদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। এখন নতুন করে একই ধরনের উদ্যোগে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বেশির ভাগ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, ‘পদোন্নতি নিয়ে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে, তার একটা সুষ্ঠু সুরাহা হওয়া জরুরি। কারণ, পদ ফাঁকা থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ব্যাংক পদোন্নতি দিয়েছে। আবার পদ না থাকায় অনেকেই পদোন্নতি পাননি। এখন দ্রুত পদোন্নতি পাওয়াদের আবার এগিয়ে দিলে অন্যরা মনোবল হারাবেন। এতে একধরনের বিশৃঙ্খলাও তৈরি হতে পারে।’

মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, জিএম পদে পদোন্নতি পেতে ডিজিএম হিসেবে কমপক্ষে তিন বছর এবং ৯ম গ্রেড হতে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হবে।এ শর্তের কারণে জনতা, সোনালী, অগ্রণী ব্যাংকের ৯ম গ্রেড থেকে ২৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যাংকাররাও পদোন্নতির তালিকায় আসতে পারছেন না।কারণ, ডিজিএম হিসেবে তাঁদের তিন বছর পূর্ণ হয়নি।অথচ রূপালী ব্যাংকে একই গ্রেডের অনেকেই জিএম পদের পদোন্নতির জন্য যোগ্য হবেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD