শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ১০:৩৮ অপরাহ্ন




আলু ছাড়া সব নিত্যপণ্য আমদানি করতে হয়: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৩ ১০:৫৬ am
Tipu Munshi Minister of Commerce বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি
file pic

একমাত্র আলু বাদে সব নিত্যপণ্যের চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এমন তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে টেবিলে প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করা হয়।

দিদারুল আলম তার প্রশ্নে দেশে প্রতিবছর কী পরিমাণ চাল, গম, আলু, পেঁয়াজসহ ১০টি নিত্যপণ্য উৎপাদিত হয় এবং চাহিদা পূরণে কোন কোন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়, এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী এ তথ্র জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী এসব পণ্যের উৎপাদন ও আমদানির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে চালের চাহিদা ৩ কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদিত হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা হয়। গমের উৎপাদন ১০ লাখ ৮৬ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা রয়েছে ৬৩ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে সিআইএসভুক্ত দেশ কানাডা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা হয়।

বছরে দেশে আলুর চাহিদা ৮৮ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। আর উৎপাদন হয় ১ কোটি ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। প্রক্রিয়াজাতকরণে উৎপাদিত আলুর ২৫ শতাংশ নষ্ট হয় বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা ২০ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু দেশে উৎপাদিত হয় ২ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা হয়।

বছরে ডালের চাহিদা ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদিত হয় ৮ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, নেপাল ও তুরস্ক থেকে আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হয়। বছরে দুধের চাহিদা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু দেশে উৎপাদিত হয় ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দুবাই, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ড থেকে আমদানি করা হয়।

বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় ৩৬ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ শতাংশ নষ্ট হওয়ায় চাহিদা পূরণে ভারত, মিয়ানমার, মিশর ও তুরস্ক থেকে আমদানি করা হয়।

রসুনের চাহিদা ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদন হয় ৭ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। উৎপাদিত রসুনের ১০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করণে ক্ষতি হওয়ায় চাহিদা পূরণে ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা হয়। বছরে আদার চাহিদা ৩ লাখ মেট্রিক টন, দেশে উৎপাদিত হয় ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। বাকি আদা ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা হয়। বছরে ভুট্টার চাহিদা ৬৯ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। দেশে উৎপাদিত হয় ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, তুরস্ক, ভারত ও সিআইএসভুক্ত দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

বাণিজ্য ঘাটতি ৩০ হাজার ৯৬১ মিলিয়ন ডলার

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিমের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৩০ হাজার ৯৬০ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চীন ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ২৯ হাজার ৫২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী প্রধান প্রধান বাণিজ্য ঘাটতির কয়েকটি দেশের নাম জানান সংসদে। তিনি জানান, চীনে থেকে আমদানি করা হয় ১৮ হাজার ৫০৯ মিলিয়ন ডলার। রফতানি করা হয় ৬৮৩ দশমিক ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১৭ হাজার ৮২৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। ভারত থেকে আমদানির ১৩ হাজার ৬৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার, বিপরীতে এক হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার রফতানি করা হয়। দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি ১১ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া অন্য প্রধান বাণিজ্য ঘাটতির দেশগুলো হলো— সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, কাতার, সৌদি আরব, জাপান, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পাকিস্তান। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

করোনাকালে ৪ লাখ ৪৩ হাজার প্রবাসী ফেরত আসে

প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের হিসাবমতে, করোনাকালে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯০২ জন প্রবাসী আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মীদের আর্থসামাজিক পুনর্বাসনের জন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭০৬ জনকে ৪২৯ কোটি ৫৯ কোটি পুনর্বাসন ঋণ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫২ হাজার ৭৪ জনকে বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ১ হাজার ১০৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা অভিবাসন ঋণ দেওয়া হয়েছে।

১৮ লাখ ৫৯ হাজার খাদ্যশস্য মজুত

চলতি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত দেশের সরকারি খাদ্য গুদামে ১৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত আছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, এর মধ্যে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৪ মেট্রিক টন গম, ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৩২১ টন চাল এবং এক হাজার ৩৮১ টন ধান মজুত আছে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২২-২৩ অর্থবছরের ৩ লাখ মেট্রিক টন ধান ও ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে এক হাজার ৬ মেট্রিক টন ধান ও চালকল মালিকদের কাছ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার ৯৯০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা সরকারের রয়েছে। এর মধ্যে জি টু জি পদ্ধতিতে ভারত, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমার হতে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন চাল সরকারি সংরক্ষণাগারে পাওয়া গেছে।

বেসরকারি পর্যায়ে ৪৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী।

চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৫০ হাজার লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির জন্য জি টু জি পদ্ধতিতে রাশিয়া এবং ইউক্রেন ও বুলগেরিয়া হতে আমদানির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন গম সরকারি গুদামে আছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD