বিশ্বের অন্যতম শীতলতম স্থান হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার ইয়াকুৎস্ক শহর। বর্তমানে শহরটির তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেছে।
দোকানপাট প্রায় বন্ধ। দিনভর বরফ পড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়ার স্রোত। বাসিন্দারা বলছেন, হাড়হিম ঠাণ্ডার সাথে তাদের মস্তিষ্ক মানিয়ে নিয়েছে। শহরের আরেক বাসিন্দা নুরগুসুন স্টারোস্টিনা। বাজারে মাছ বিক্রি করে সংসার চালান স্টারোস্টিনা। তিনি জানালেন, এখন আর মাছ ফ্রিজে রাখার দরকার পড়ছে না।
এত ঠাণ্ডাতে এমনিই মাছ ভালো থাকছে। গোটা শহরই চলে গেছে বরফের নিচে। দেখে মনে হবে কেউ যেন সাদা রং করে দিয়েছে। গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর, দোকানপাটের ওপর বরফের আচ্ছাদন। রাস্তাঘাটে পুরু বরফের স্তর জমে আছে। ঠাণ্ডার ছোবল থেকে বাঁচতে বাঁধাকপির কায়দায় পোশাক পরতে হচ্ছে। অর্থাৎ এমন পোশাক যাতে অনেকগুলো স্তর থাকে। তবে কোনো কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না ঠাণ্ডার মরণ কামড়।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, শহরের তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ায় প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের উষ্ণ রাখতে বাড়তি ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
বরফ ও কুয়াশায় ঢাকা শহরের অনেকেই বলছেন, নাজেহাল অবস্থা সকলের। রাস্তায় বেরনো যাচ্ছে না।
শহরটির ক্ষেত্রে জানুয়ারি সবচেয়ে ঠান্ডা মাস। অন্যতম শীতলতম স্থান হওয়ায় শহরের বাসিন্দারা এমনিতেই হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় বসবাস করতে অভ্যস্ত।
শহরটির এক বাসিন্দা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলার সময় তার পরনে ছিল দুটি চাদর, একাধিক স্তরের হাতমোজা, টুপি ও হুড।
ইয়াকুৎস্ক শহরের ওই বাসিন্দা বলেন, আপনি এই ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করতে পারবেন না। তাই হয় আপনি মানিয়ে নিন, সে অনুযায়ী পোশাক পরুন, নয়তো আপনি কষ্ট ভোগ করুন।
২০১৮ সালে শহরটিতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়েছিল। তখন চোখের পাপড়ি পর্যন্ত ঠান্ডায় জমে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন শহরটির বাসিন্দারা।
মাথায় দুটি স্কার্ফ, হাতে দুই জোড়া গ্লাভস এবং একাধিক টুপি এবং হুড লাগানো পোশাক পরে শহরের বাসিন্দা আনাস্তাসিয়া গ্রুজদেভা জানালেন, এত ঠাণ্ডার সাথে লড়াই করা বেশ কঠিন। হয় আপনাকে ঠাণ্ডার সঙ্গে মানানসই পোশাক পরতে হবে না হলে আপনি এখানে থাকতে পারবেন না।
বরফ ও কুয়াশায় ঢাকা শহরের অনেকেই বলছেন, নাজেহাল অবস্থা সকলের। রাস্তায় বেরনো যাচ্ছে না।