যশোরে অগভীর নলকূপ স্থাপনের সেচযন্ত্রের লাইসেন্স পেতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষক। লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে তারা মাসের পর মাস ঘুরছেন। অনেক আবেদন ফাইলবন্দি হয়ে আছে।
যশোরের চাঁচড়ার বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) সেচ অফিসের তথ্য মতে, সেচযন্ত্র লাইসেন্সের জন্য জেলার আট উপজেলায় ৯৫০টি আবেদন জমা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৩০০ আবেদন রয়েছে শার্শা উপজেলার। জেলার সব উপজেলার সেচ কমিটি থেকে প্রায়ই নতুন নতুন আবেদন পাঠানো হচ্ছে। এজন্য প্রতি মাসেই বাড়ছে আবেদনের সংখ্যা।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মৌতা গ্রামের আলী আহম্মদ অগভীর নলকূপ স্থাপনে অনুমতি পেতে দুই মাস আগে আবেদন করেন। নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের পর বিএডিসি, ভূমি, বিদ্যুৎ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শনে যাবেন। কিন্তু আলী আহম্মদের আবেদনের পর মাঠ পরিদর্শনেই যাননি সংশ্লিষ্টরা। কবে যাবেন সেটাও নিশ্চিত নন তিনি। ফলে অগভীর নলকূপ স্থাপন করে চলতি বোরো মৌসুমে খেতে সেচ দেয়া অনিশ্চিত হয়েছে তার।
একই অবস্থা শার্শার ডিহি ইউনিয়নের এক কৃষকের আবেদনপত্রের। তার আবেদনপত্রেরও কোনো সুরাহা হয়নি। তিনি বলেন, ‘মাঠ পরিদর্শন করতে আসেননি সংশ্লিষ্টরা। খোঁজখবর নিয়ে জানতে পেরেছেন তার আবেদনপত্রটি বিএডিসির চাঁচড়া অফিসে পড়ে রয়েছে। অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এখন মাঠে কাদা। তাই মাঠ পরিদর্শনে যেতে দেরি হবে।’
যশোরের চাঁচড়ার বিএডিসির সেচের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, ‘উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আর তিনি সদস্য সচিব। সেচ কমিটির সভাপতি বরাবর করা আবেদনপত্রটি সদস্য সচিব হিসেবে (বিএডিসির সেচ দপ্তর) তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিএডিসি, বিদ্যুৎ বিভাগ, উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথভাবে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রস্তাবিত সেচ এলাকার চারপাশে অবস্থিত নলকূপের অবস্থান, ফসলের পরিমাণ ও বিবরণসংবলিত প্রতিবেদন দেন তারা। প্রতিবেদন মূল্যায়ন শেষে সেচযন্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়, কিন্তু জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মাঠ পরিদর্শনে যেতে দেরি হচ্ছে। এজন্য কৃষক ভোগান্তির শিকার হন।
তিনি আরো বলেন, ‘সেচ লাইসেন্স পেতে অনেক কৃষক তদবিরকারীদের পিছে অর্থ খরচ করেন বলে শুনেছি। তবে তার অফিসের লোকজন জড়িত নয়। আমরা চেষ্টা করি সব আবেদনই নিয়মের মধ্যে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেয়ার। অনেক কৃষক লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য না। তখন তারা অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেন। এতে তাদের বদনাম হয়।’
শার্শা উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র পাল বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে বিএডিসির সেচের কোনো অফিস নেই। আবেদনগুলো যশোরের চাঁচড়ায় বিএডিসি কার্যালয়ে সেচ কমিটির সদস্য সচিবের কাছে চলে যায়। সেখান থেকে মাঠ পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পেতে সময় লাগে। আবার প্রতি মাসে শত শত আবেদন জমা হচ্ছে। আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে সময় লাগছে। কৃষক যাতে ভোগান্তি না পান সে চেষ্টা করে যাচ্ছি।’