বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন




জট কমাতে জরুরি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার চিন্তা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ৯:৫৯ am
Dope test biological material urine hair blood breath sweat oral fluid ড্রাগ টেস্ট মাদক পরীক্ষা মাদকাসক্ত সনাক্তকরণ পেশাদার মোটরযান ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু নবায়ন চালক ডোপ টেস্ট চালকদের
file pic

জট কমাতে জরুরি ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। ড্রাইভিং পরীক্ষার তারিখ দ্রুত আগানো, পরীক্ষার জটিলতা দূর করার নানা পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। নিয়মানুযায়ী শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য গ্রাহক যে আবেদন করে তার ২ মাস পর পরীক্ষা নেয়া হয়। কখনো কখনো আবার পরীক্ষা নেয়া হয় ৩ মাস পরও। এজন্য কেউ দ্রুত পরীক্ষা দেয়ার জন্য নানামুখী তদবির করেন। পরীক্ষা দেয়ার পর আবার লাইসেন্স পাওয়ার জন্য বিআরটিএ অফিসগুলোতে ভিড় করেন। এতে কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ডের জন্য অনেকেই পরীক্ষা দিয়েও স্মার্ট কার্ড পাচ্ছেন না। এ ছাড়াও যারা গাড়ির লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন তারাও পাচ্ছেন না স্মার্ট কার্ড।

সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২-এর বিধি ৬-এর উপবিধি ৮-এ বলা আছে- শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ ২ মাস অতিক্রান্ত না হলে কোনো প্রার্থী দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। তবে চাকরির আবেদন ও বিদেশ গমনের জন্য প্রমাণ দাখিল সাপেক্ষে সময়সীমার এই বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। সে হিসেবেই বিধিমালার ৬-এর উপবিধি-৮ সংশোধন করতে চাইছে বিআরটিএ।

ঢাকাসহ সারা দেশে ৪ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স বিতরণ প্রক্রিয়া ঝুলে আছে। অনেক গ্রাহকের আবেদনের সময় এক বছর হয়ে গেলেও মুঠোফোনে আসেনি কার্ড তৈরি হওয়ার কোনো বার্তা। কার্ড না পাওয়ার কারণে বিআরটিএ থেকে পাওয়া সিøপ দিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন চালকরা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অপারেশন উইং’র পরিচালক লোকমান হোসেন মোল্লা জানান, ‘লাইসেন্স তো আর একটি ফরম নয় যে, এটি পূরণ করে দিলেই হলো। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। তবে ডেলিভারি জট কমানোর জন্য কর্তৃপক্ষের নানামুখী উদ্যোগ আছে।’

বিআরটি সূত্রে জানা গেছে, বিআরটিতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে নানামুখী ভোগান্তি রয়েছে। আবেদনের পর পরীক্ষার জন্য মোবাইলে ম্যাসেজ আসা না আসা, পরীক্ষা দেয়াসহ স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়াসহ নানামুখী দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রাহকদের। এতে ভিড় জমছে বিআরটিতে। তাদের চাপের কারণে অফিসগুলোতে অন্য সেবা নিতে আসা গ্রাহকরা দ্রুত সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়াও সড়কে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাতে, চাকরির আবেদনের জন্য এবং বিদেশ গমনের স্বার্থে অনেকেই দ্রুত লাইসেন্স পেতে চান। বিশেষ করে বিদেশগামীরা দ্রুত লাইসেন্স পেতে চান। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নানা জটিলতার কারণে তাদের লাইসেন্স পেতে দেরি হচ্ছে। আবেদনের পর শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের পর ন্যূনতম ২ মাস অপেক্ষা করতে হয় পরীক্ষার জন্য। পরীক্ষার আবেদন দ্রুত আগানোর জন্য অভিযোগ আসে অর্থ লেনদেনের। এরমধ্যে অনেকেই আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হন। কোনো কোনো গ্রাহক নানা মাধ্যমে তদবির করেন।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ২০ মাসে প্রায় ১৪ লাখের মতো নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ে। তবে আবেদন অনুযায়ী লাইসেন্স সরবরাহ করতে পারেনি বিআরটিএ। মূলত তখনই জট প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সূত্র জানায়, বিআরটি কর্তৃপক্ষ আগের আবেদিত লাইসেন্সগুলো ডেলিভারির কাজ সম্পন্ন করতে চাইছেন। এতে যারা নতুন করে আবেদন করেছেন তাদের জন্য লাইসেন্স পেতে দেরি হচ্ছে। পুরনো লাইসেন্সগুলো দেয়া হয়ে গেলে নতুন করে আবেদনগুলো তারা দ্রুত ডেলিভারি দিতে পারবেন। সূত্র জানায, জরুরি লাইসেন্স কোন প্রক্রিয়ায় দেয়া হবে এবং এর ফি সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে কতো টাকা নেয়া হবে তা বিবেচনা করছে বিএরটিএ। তবে যে ৯ হাজার টাকা ফি ধারণ করা হয়েছে তা ১২ হাজার টাকা করা হতে পারে বলে জানা গেছে। [মানবজমিন]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD