বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন




রংপুরের ৫৪৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ ৯:৪৮ am
Primary School pity Physical education assembly paradetraining assemble primary secondary psychomotor play movement exploration health physical fitness Physical education ফিজিক্যাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ স্কুল পিটি ক্লাস শারীরচর্চা সমাবেশ examination exam school admission Online Class অনলাইন ক্লাস বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস classroom class room মাধ্যমিক শ্রেণি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমসিকিউ পরীক্ষা কলেজ স্কুল শিক্ষক প্রাথমিক Directorate of Primary Education primary schools school প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর
file pic

রংপুর জেলার ৫৪৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। এমন পরিস্থিতিতে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। সেইসঙ্গে দাফতরিক নানা কাজে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের।

শিক্ষকরা বলছেন, গত ১৩ বছর ধরে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে বহুবার লিখিতভাবে জানানোর পরও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের নানা ধরনের দাফতরিক কাজ করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান করাতে পারছেন না। সেইসঙ্গে একজন প্রধান শিক্ষক যেভাবে দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যালয়ের দাফতরিক কাজগুলো করবেন, তা একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে করা সম্ভব হয়ে উঠে না। আবার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য মানে বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক নেই। এ অবস্থায় পাঠদান ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ৪৫৫টি। এর মধ্যে ২৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। পাশাপাশি ৩০২টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন সহকারী শিক্ষকরা। এর মধ্যে কাউনিয়া উপজেলার ২৪টি, গংগাচড়ার ১৯টি, তারাগঞ্জের ৪১টি, পীরগঞ্জের ১৩টি, পীরগাছার ৩৫টি, বদরগঞ্জের ৩৩টি, মিঠাপুকুরের ৫৩টি এবং সদর উপজেলার ২৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাউনিয়া উপজেলার দুজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা মানে একজন শিক্ষক নেই। এতে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পাঠদান করানো যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে অন্য শিক্ষকদের ওপর চাপ পড়ে। ক্লাস বেশি নিতে হয়। পাশাপাশি দাফতরিক কাজে ব্যাঘাত ঘটে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাফতরিক কাজে জেলা শহরে গেলে বিদ্যালয়ে দুজন শিক্ষক থাকেন। তখন তাদের হিমশিম খেতে হয়।

এভাবে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালের পর থেকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ রয়েছে। গত ১৩ বছরে নতুন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় জেলার তিন শতাধিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বিষয়েও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি আমরা। এরপরও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা জেলার সম্ভাব্য প্রধান শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠিয়েছি। এখনও কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। এক্ষেত্রে আমাদের কিছুই করার নেই।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৩ বছর ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। তার ওপর প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। সেসব শূন্য পদ পূরণের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থার নেওয়ার অনুরোধ জানান এই দুই শিক্ষা কর্মকর্তা।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD