রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন




সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০২৩ ১১:৪৫ am
Cylinder Liquefied petroleum gas LPG এলপিজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস সিলিন্ডার
file pic

চলতি মার্চের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে সরকার নির্ধারিত এ দামের তোয়াক্কা করছেন না ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অন্তত ১৫০-২৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রতি সিলিন্ডার। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, পাইকারিতেই তাদের সরকারি দরের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। এ কারণে খুচরায় বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শাহজাদপুর, মগবাজার, কারওয়ান বাজার ও কাজীপাড়া এলাকার বিভিন্ন দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে বসুন্ধরা এলপিজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। আর পেট্রোম্যাক্স, ওমেরা, পেট্রিগেজসহ কয়েকটি কোম্পানির প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে খুচরা বাজারে বসুন্ধরা কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোম্পানিগুলোর ১২ কেজির এলপিজি গ্যাসের মূল্য ছিল ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা। এরপর ফেব্রুয়ারির ২০ তারিখের পর দাম কমে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় নেমে আসে। আর চলতি মাসের শুরুতে দাম আরেক দফা কমে ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তারা জানান, ১২ কেজির বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার পাইকারিভাবে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে। আর অন্যান্য কোম্পানির সিলিন্ডার চলতি মাসের শুরুতেই ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। সরকারিভাবে ভোক্তাদের ক্রয়ের জন্য যে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে তার চেয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদেরই কিনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।

কারওয়ান বাজারের একজন বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা কিনি বেশি দামে। তাহলে এর থেকে কিছু লাভ করেই তো বিক্রি করব। সিন্ডিকেট করে দাম বেশি রাখে কোম্পানিগুলো। সরকার কী দাম ঠিক করে দিল না দিল, তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা নিজেদের মতো করেই দাম নির্ধারণ করে।’

এ সময় তিনি জানুয়ারির ৩১ তারিখে কেনা ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের ভাউচার দেখিয়ে বলেন, ‘তখন ১৬৫০ টাকা দরে কিনেছি। তাহলে আমাকে তো এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।’ তবে এরপরে কোম্পানিগুলো থেকে কেনা সিলিন্ডারের জন্য কোনো ভাউচার দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

গত জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তা ১ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। যদিও সরকারি সংস্থাটির নির্ধারিত এ দামের চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা বেশি দিয়েই ভোক্তাদের কিনতে হয়েছে।

এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের দাম প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো, যা সৌদি কার্গো মূল্য বা সিপি নামে পরিচিত। এটিকে ভিত্তিমূল্য ধরে বিইআরসি ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে।

বিইআরসি ঘোষিত নতুন দাম অনুযায়ী, ১৫ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৭৭৮ টাকা, ২০ কেজি ২ হাজার ৩৭৮, ২৫ কেজি ২ হাজার ৯৬৪, ৩০ কেজি ৩ হাজার ৫৫৭, ৩৫ কেজি ৪ হাজার ১৫০ ও ৪৫ কেজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৩৪ টাকা।

ওরিয়ন গ্যাস লিমিটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার প্রকৌশলী অনুপ কুমার সেন বলেন, ‘আমাদের তো আমদানি করতে হয়। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দর বেশি থাকে, তখন আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। দাম বেশি হলে ডিস্ট্রিবিউটররা এলপিজি সিলিন্ডার নেয়া বন্ধ করে দেন। এ কারণে অনেক এলপিজি আমাদের কাছে থেকে যায়। দামের একটা হিসাব করে আমরা বাজারে সরবরাহ করি। আবার যখন দাম কম দিয়ে আমরা আমদানি করি, তখন কম দামে ডিস্ট্রিবিউটররা আমাদের কাছ থেকে কিনে রেখে দেন এবং চাহিদা বাড়লে বেশি দামে বাজারে সরবরাহ করে। এখানেই গ্যাপটা তৈরি হয়।’

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, ‘যারা দাম নির্ধারণ করেছেন, দায়টা তাদের। দাম যদি নির্ধারণ করার জন্যই শুধু নির্ধারণ করা হয়ে থাকে তাহলে তো কিছু বলার নেই। এখন মনে হচ্ছে, তাদের দায়িত্বটাই শুধু হলো দাম নির্ধারণ করে দেয়া। এরপর তা বাস্তবায়ন হলো কি হলো না, তা দেখার দায়িত্ব তাদের না। অনেকটা দায়সারা কাজ। আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের বলতে পারে যে এই টাকা আমরা নির্ধারণ করে দিলাম। এ দামে যেন ভোক্তা কিনতে পারে। কিন্তু এমনটা আমরা দেখছি না।’

সমন্বয়হীনতার ফলে আইন না মানার প্রবণতাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দাম না মানার সংস্কৃতি একটা সামাজিক সংক্রমণ। সব পণ্যেই এখন এ অবস্থা। দাম মানার ক্ষেত্রে তদারকির অভাবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দাম না মানার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটা ভবিষ্যতের জন্য আরো হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের মহাপরিচালক মহোদয়ের সভাপতিত্বে এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে আমরা মিটিং করেছিলাম। বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি কেন সেটা খোঁজার চেষ্টা করেছি। তদারকি বাড়ানোর পরে প্রায় ১০০ টাকার মতো দাম কমে এসেছে। তবে তারা এখন অন্যভাবে বেশি দাম নিচ্ছে। সার্ভিস চার্জের কথা বলে বাড়তি টাকা নিচ্ছে। কিন্তু আমরা বাড়তি দামের বিষয়ে কঠোর। সারা দেশে আমাদের টিম কাজ করছে। চলমান রয়েছে নিয়মিত অভিযান। কোনো ভোক্তা অভিযোগ করলে আমরা ভোক্তা আইনে ব্যবস্থা নেব।’ [বণিক বার্তা]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD