পরিত্যক্ত ঘোষিত আটটি ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। মার্কেটগুলো ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া হিসেবে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। বুধবার উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মার্কেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছিল। ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে যেতে চান না, তারা আদালতেও গেছেন। কিন্তু ভবনগুলো অনিরাপদ থাকার কারণে আগুনের ঝুঁকি, ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে ফেলার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা ভবনগুলোতে লাল কাপড় টানিয়ে দিয়েছি। ভবন থেকে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। তারা যদি না সরে, ম্যাজিস্ট্রেটরা সরিয়ে দেবে। এসব কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হবে। আগে মানুষের জীবন, তারপর ব্যবসা। মার্কেট ভেঙে ফেলা হলেও ব্যবসায়ীরা যাতে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন, সেজন্য মার্কেটগুলোর আশপাশের খোলা জায়গা চিহ্নিত করে শেড করে দেয়া হবে এবং সিটি করপোরেশন এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে।
২০১৯ সালের ১লা এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ৪৩ মার্কেটের মধ্যে ২০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এর মধ্যে গুলশান উত্তর কাঁচা মার্কেট, গুলশান দক্ষিণ পাকা মার্কেট, মোহাম্মদপুর কাঁচাবাজারের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা, রায়েরবাজার মার্কেট, কাওরান বাজার ১ নাম্বর মার্কেট, কাওরান বাজার ২ নাম্বর মার্কেট, কাওরান বাজার অস্থায়ী কাঁচা মার্কেট (কিচেন মার্কেট), কাওরান বাজার কাঁচামালের আড়ত মার্কেট ভবন অতি নাজুক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এসব মার্কেটে এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। গত মাসে বঙ্গবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এবং নিউ মার্কেটের আগুনের পর পরিত্যক্ত এসব মার্কেটের ভবন ভাঙতে তৎপর হয় ঢাকা উত্তর সিটি।