শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ন




ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনের সাড়ে ৩ মাসেও চালু হয়নি হাসপাতালটি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৭ মে, ২০২৩ ১০:২৫ am
Child Hospital Rangpur Rangpur Ma o Shishu Haspatal রংপুর শিশু হাসপাতাল রংপুর মা ও শিশু হাসপাতাল
file pic

১০০ শয্যার বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু অপেক্ষার প্রহর গুনছেন এলাকাবাসী। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এটি উদ্বোধন করলেও এখনও চালু করা হয়নি। জনমনে প্রশ্ন জেগেছে, কাঙ্ক্ষিত এই হাসপাতালটি কবে আলোর মুখ দেখবে।

সরেজমিনে হাসপাতালটি ঘুরে দেখা গেছে, বর্ণিল সাজে সজ্জিত রংপুর হাসপাতাল ভবনে যেন সুনসান ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আবাসিক চিকিৎসক, চার নার্স ও নিরাপত্তাপ্রহরীরা কর্মহীন অলস সময় কাটাচ্ছেন। চত্বরে শিশুদের জন্য নির্মিতি বিভিন্ন খেলার রাইডগুলো ধুলায় মলিন হয়ে পড়ে আছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাবেক সদর হাসপাতাল চত্বরে প্রায় এক দশমিক ৭৮ একর জমির ওপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে তিন বছর আগে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। নির্মাণের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে সব ভবন হস্তান্তর করে। করোনার সময় সেটিকে বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে মহামারি কেটে গেলেও অজ্ঞাত কারণে শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম আজও শুরু হয়নি। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষ আশায় বুক বাঁধেন। তবে এখনও উদ্বোধনেই আটকে আছে হাসপাতালটি। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিংবা জনবল নিয়োগ করে সেবার কাজ শুরু হয়নি।

রংপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাবুল আলম জানান, সাড়ে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের ২১ নভেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই বছর সময় বেঁধে দেওয়া হলেও এর আগেই কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিনতলা বিশিষ্ট মূল হাসপাতাল ভবনে প্রতি তলায় ২০ হাজার ৮৮২ বর্গফুট আয়তনসহ মোট ৬২ হাজার ৮৪৬ বর্গফুট আয়তনের হাসপাতালের প্রথম তলায় জরুরি ও বহির্বিভাগ, চিকিৎসকদের চেম্বার ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরি রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার ও বার্ন ইউনিট এবং তৃতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ড ও কেবিনের ব্যবস্থা রয়েছে। ডাক্তারদের, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আলাদা আলাদা ভবন রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্মাণের পর ২০২০ সালের ৮ মার্চ হাসপাতাল ভবনটি জেলা সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে করোনায় বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে এখনও শিশু হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল এবং শিশু স্বাস্থ্য সেবার যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়নি।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির জানান, চালু করতে প্রশাসনিক অনুমোদন প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল পাওয়া গেলেই চালু করা হবে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এ বি এম আবু হানিফ বলেন, হাসপাতালটির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এবং জনবলের চাহিদা নির্ধারণ করে বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। দাফতরিক কাজ চলছে। ধৈর্য ধরেন, ভালো জিনিস পাবেন।

সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, বিষয়টি আমি জানি। এটি স্থানীয় এমপি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেখা উচিৎ। মন্ত্রী উদ্বোধন করার পরও চালু না হওয়া দুঃখজনক। তিনি দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানান।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD