রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন




নির্বাচনি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত, ৮ আসনে পরিবর্তন

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ জুন, ২০২৩ ৩:৩০ pm
CEC election commission নির্বাচন কমিশন ইসি সিইসি Kazi Habibul Awal কাজী হাবিবুল আউয়াল নির্বাচন সিইসি ইসি cec ec election প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল cec
file pic

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়ায় কোনও পরিবর্তন ছিল না। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আটটি সংসদীয় আসনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি। বৃহস্পতিবার (১ জুন) প্রজ্ঞাপনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

যে আটটি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এসেছে সেগুলো হলো— পিরোজপুর-১ ও পিরোজপুর-২, কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২, ফরিদপুর-২ ও ফরিদপুর-৪ এবং নোয়াখালী-১ ও নোয়াখালী-২। এরমধ্যে চারটি আসনের সীমানায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের নির্ধারিত সীমানা অনুযায়ী, পিরোজপুর-১ আসনটি পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ধারিত নতুন সীমানায় এই আসনটি পিরোজপুর সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগে কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-২ সংসদীয় আসনটি নতুন সীমানা অনুযায়ী কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠন করা হয়েছে। অর্থাৎ ইন্দুরকানী উপজেলাকে পিরোজপুর-২ আসন থেকে সরিয়ে পিরোজপুর-১ আসনে এবং নেছারাবাদ উপজেলাকে পিরোজপুর-১ আসন থেকে পিরোজপুর-২ আসনে যুক্ত করা হয়েছে।

দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১ আসনটি নতুন সীমানায় দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলা নিয়ে গঠিত হলো। আগের সীমানা অনুযায়ী হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ আসনটি নতুন সীমানায় হোমনা ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠন করা হলো।

নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা এবং সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনটি এখান থেকে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বাদ দেওয়া হয়েছে। সেটা যুক্ত করা হয়েছে ফরিদপুর-৪ আসনের সঙ্গে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের সীমানায় ফরিদপুর-৪ আসনটি ভাংগা ও চরভদ্রাসন এবং কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ছাড়া সদরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল। নতুন সীমানায় এই আসনটি ভাংগা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হলো।

নোয়াখালী-১ ও ২ আসনের সীমানায় একটি ইউনিয়ন রদবদল করা হয়েছে। নোয়াখালী-১ থেকে বজরা ইউনিয়ন কেটে নোয়াখালী-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। নোয়াখালী-১ আসনটি চাটখিল উপজেলা এবং বারগাঁও, নাটেশ্বর ও অম্বর নগর ইউনিয়ন বাদে সোনাইমুড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল। এখন সেটি হলো চাটখিল উপজেলা এবং বারগাঁও, নাটেশ্বর, অম্বর নগর ও বজরা ইউনিয়ন বাদে সোনাইমুড়ী উপজেলা নিয়ে। আর সেনবাগ উপজেলা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও, নাটেশ্বর ও অম্বর নগর নিয়ে আগে গঠিত নোয়াখালী-২ আসনটি নতুন সীমানায় সেনবাগ উপজেলা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও, নাটেশ্বর, অম্বরনগর ও বজরা ইউনিয়ন নিয়ে গঠন হয়েছে।

এর বাইরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে নতুন গঠিত প্রশাসনিক এলাকা অন্তর্ভুক্তের ফলে আরও আটটি আসনে পরিবর্তন এসেছে। অবশ্য এ আটটির ক্ষেত্রে আসনগত কোনও পরিবর্তন আসেনি।

এর মধ্যে কালকিনি উপজেলা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-৩ আসনের সঙ্গে ডাসার উপজেলা যুক্ত হওয়ায় নতুন সীমানায় এই আসনটি হয়েছে কালকিনি ও ডাসার উপজেলা নিয়ে। ময়মনসিংহ-৪ আসনে ময়মনসিংহ সদর আসনের সঙ্গে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনকে যুক্ত করা হয়েছে।

আর ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা নিয়ে একাদশের গঠিত সুনামগঞ্জ-১ আসন ধর্মপাশা ও মধ্যনগর করায় মধ্যনগরের নাম যুক্ত হয়েছে। জগন্নাথপুর ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনের দক্ষিণ সুরমার নাম পরিবর্তন করে সরকার শান্তিগঞ্জ উপজেলা করার নির্বাচনি সীমানায় এই অংশটুকু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনের সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন এবং তিনটি ইউপির আংশিক সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ আসনে পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে সিলেট-১ আসনে সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ২৭ নম্বর এবং ৩১ থেকে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা, একই কারণে সিলেট-২ আসনে পরিবর্তন হয়ে সিটি করপোরেশনের ২৮ থেকে ৩০ ও ৪০ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে। কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলা আসন নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৩ আসনের সদর উপজেলা ভেঙে ঈদগাঁও নামে নতুন আরেকটি উপজেলায় করায় এই নামটিও যুক্ত হয়েছে নতুন সীমানায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা ‘পুনর্নির্ধারণ’ করে তা খসড়া আকারে প্রকাশ করে ইসি। তবে খসড়ায় আসনগুলোর বর্তমান সীমানা বহাল রাখা হয়েছিল। নতুন প্রশাসনিক এলাকা (উপজেলা, ওয়ার্ড) সৃষ্টি হওয়ায় শুধু ছয়টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে তাতে কোনও আসনের বর্তমান সীমানার পরিবর্তন হয়নি। শুধু নতুন প্রশাসনিক এলাকার নাম যুক্ত হয়েছে।

ইসির খসড়ার ওপর স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি-আপত্তি জানানোর সময় দেওয়া হয়েছিল। সেসব দাবি-আপত্তি নিয়ে শুনানি শেষে নতুন সীমানা নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১ জুন তারিখে প্রজ্ঞাপনে সই করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলম। প্রজ্ঞাপনটি আজ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD