দেশের মধ্যবিত্ত সমাজ দুর্বল হওয়ার হওয়ার ফলেই অলিগার্কদের উত্থান হয়েছে বলে মনে করছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বুধবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও ন্যায্যতার লক্ষ্যে নাগরিক এজেন্ডা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামাজিক সুরক্ষা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীন আনাম আলোচনার সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মিডিয়া ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও সামাজিক সুরক্ষায় সকল শ্রেণীর মানুষের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চারটি পৃথক উপস্থাপনা প্রকাশ করা হয়।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজ দুর্বল হয়ে গেছে। এর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে, সাংস্কৃতিক মান, রাজনৈতিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক সঞ্চালনের সব জায়গায় আমাদের বিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী সবসময় বড় ভূমিকায় ছিল। কিন্তু এখন তাদের ভূমিকা নির্জীব হয়ে গেছে। আর মধ্যবিত্তদের নির্জীব হওয়ার ফলে অলিগার্কদের উত্থান হয়েছে। এই অলিগার্করা অত্যন্ত বিত্তবান, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত।
তিনি বলেন, বিপন্ন মানুষের কণ্ঠস্বর সক্ষমভাবে উচ্চ জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। তাই অনেকের জীবনমান পরিবর্তন হয়নি। উন্নয়নের মধ্যে ন্যায্যতা আনতে হবে, এটা ফিরিয়ে আনাই পরবর্তী প্রজন্মের মূল চ্যালেঞ্জ। অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া মানুষের হিস্যা যদি জোরদার করতে না পারি তাহলে ওই উন্নয়ন প্রকৃত উন্নয়ন হয় না। সেটা মানবিক সমাজ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমাজ হয় না।
তিনি আরো বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের কণ্ঠস্বর কার্যকর করতে হলে গণতান্ত্রিক জবাবদিহি আনতে হবে। না আনতে পারলে আমাদের ওই ঘাটতি কখনোই পূরণ করতে পারব না। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি পিছিয়ে পড়া মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করার জায়গা দেয়। গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নাগরিকদের অধিকার প্রকাশ করার সবচেয়ে বড় ক্রীড়াক্ষেত্র নির্বাচন। এজন্য জাতীয় নির্বাচনে এই মানুষগুলোর কণ্ঠস্বরকে প্রতিফলিত করতে হবে।