শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন




অটোমোবাইল শিল্পে পথ দেখাচ্ছে এইচএনএস গ্রুপ

ট্রেডিং হাউজ দিয়ে ব্যবসা শুরু, এখন গাড়ির কারখানা মালিক

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৩ ৬:৪৬ pm
CAR IMPORT গাড়ি আমদানি car গাড়ি রোড সড়ক মহাসড়ক যানজট রাস্তা বাস গাড়ি সড়ক road bus gridlock Study in India comp BMW X7 bmw bangladesh lead এক্সিকিটিভ মোটরস বিএমডব্লিউ এক্স সেভেন MG5
file pic

এইচএনএস গ্রুপ। গ্রুপটি বাংলাদেশের অটোমোবাইল সেক্টরের সবচেয়ে স্বনামধন্য কোম্পানিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অটোমোবাইল শিল্পে পথ দেখাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দর্শন হলো- বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অংশগ্রহণ। এইচএনএস নিজেই তার সেরা যানবাহন এবং মানসম্পন্ন পরিষেবার জন্য একটি সুপরিচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এইচএনএস গ্রুপের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম। তার সৃজনশীল নেতৃত্বে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনায় ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে গ্রুপটি।

এইচএনএস গ্রুপটি ১৯৯১ সালে একটি ট্রেডিং হাউজ হিসেবে ব্যবসা শুরু করে। এর এক বছর পর ১৯৯২ সালে এইচএনএস জাপান থেকে গাড়ি আমদানি ও বিক্রি শুরু করে। জাপানি মোটর গাড়ির আমদানিকারক ও পরিবেশক হিসেবে যাত্রা শুরু করা এইচএনএস এখন সারা বাংলাদেশে অটোকার, ওয়াগন, মাইক্রোবাস, পিকআপ, ট্রাক ও বাস ইত্যাদির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার ব্যবসায় বৈচিত্র্য এনেছে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। এর মধ্যেই হুন্দাই সারা বাংলাদেশে এসি বিলাসবহুল বাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান দখল করে আছে।

এইচএনএস বাংলাদেশে ট্রাক, বাস এবং বিশেষ যানবাহন বাজারজাত করার জন্য হুন্দাই মোটর কোম্পানি (এইচএমসি) কোরিয়ার বাণিজ্যিক যানবাহনের একমাত্র পরিবেশক। এইচএনএস বাংলাদেশের বাজারে হানকুক টায়ারও বাজারজাত করছে। হানকুক বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল টায়ার কোম্পানি।

এইচএনএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশনের (বারভিডা) সেক্রেটারি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ডলার সংকট ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় বর্তমানে গাড়ির ব্যবসায় মন্দা যাচ্ছে। বিক্রি কমে গেছে। আগে ৫ থেকে ১০ শতাংশ মার্জিন বা টাকা দিয়ে গাড়ি আমদানি করতে পারতাম। এখন শতভাগ মার্জিন দিয়ে আমদানি করতে হয়। অর্থাৎ একটি গাড়ি আমদানির জন্য ওই গাড়ির দামের পুরো টাকাটাই ব্যাংকে জমা দিতে হচ্ছে। এতে আগের চেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিক্রি বাড়ছে না।

দেশে হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা কেমন, এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, হাইব্রিড গাড়ি একদিকে পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ী। সাধারণ তেলের গাড়ির চেয়ে হাইব্রিড গাড়িতে জ্বালানিতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ সাশ্রয় হয়। তবে এর সুফল পুরো আমরা পাচ্ছি না। আমাদের ঢাকা শহর তো তার উপযোগী নয়। সারা পৃথিবী এখন হাইব্রিড গাড়িকে প্রণোদনা দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশে এই সুবিধা তেমন পাচ্ছি না। এ জন্য দেশে ইলেক্ট্রিক গাড়ির বিক্রিও নেই। বলতে গেলে আমদানিই হচ্ছে না।

আরেক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরাও চাই দেশে গাড়ি উৎপাদন হোক। তবে তার যেন একটি নির্দিষ্ট মান থাকে। রিকন্ডিশন গাড়ির সিংহভাগ জাপানের। সেখান থেকে আমরা যে গাড়ি আনছি, জাপানি কোম্পানির একই মডেলের গাড়ি অন্য কোনো দেশ থেকে আনলে তার মান কিন্তু অনেক খারাপ হয়। কারণ জাপানের অভ্যন্তরে যে গাড়ি ব্যবহৃত হয় আর যে গাড়ি তারা অন্য দেশে উৎপাদন বা রপ্তানি করে, তার গুণগতমান কিন্তু সমান নয়। তাই আমরা চাই গাড়ি উৎপাদনের বিষয়ে সরকার যেন একটা সুষ্ঠু নীতিমালা দেয়।

অটোমোবাইলের ভবিষ্যৎ কী? এ বিষয়ে মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, গত দেড় দশকে দেশে অর্থনৈতিক বড় পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক বেড়েছে। দেশের বাইরে ১ কোটি লোক থাকে। তাদের গাড়ি কেনার সামর্থ্য আছে। গাড়ির একটা বড় বাজার তৈরির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমাদের শুল্ক কমাতে হবে। তিনি বলেন, শুধু গাড়ির বাজার বড় হলেই চলবে না। কালো ধোঁয়া রোধ করতে হবে। তাছাড়া রাস্তায় বড় দুর্ঘটনা বন্ধে সুষ্ঠু নীতিমালা করতে হবে।

নিজের ব্যবসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ব্যবসার ভিত্তি হলো- সংগঠিত ব্যবস্থাপনা, সঠিক সেবা, সদিচ্ছা এবং আন্তরিকতা, যা আমরা ভালোভাবে অর্জন করেছি। আমাদের করপোরেট কৌশল, গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা, প্রতিযোগিতা এবং সেবার ক্ষেত্রে এইচএনএস গ্রাহকদের আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরিবহন খাতে বিপ্লব ঘটাতে এবং সিবিইউ গাড়ির খরচ কমাতে আমরা একটি কারখানা স্থাপন করেছি। যার নাম এইচএনএস হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। আমরা এখন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে চেসিস আমদানি করে স্থানীয়ভাবে বিলাসবহুল বাস এবং মিনিবাসের সংযোজন করছি। এইচএনএস’র ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক।

তিনি বলেন, এটি দেশকে মোটরগাড়ি খাতে স্বনির্ভর করার জন্য একটি দৃঢ় এবং সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। গত ৩১ বছরে শুধু আমাদের ব্যবসার পরিমাণ বহুগুণ বৃদ্ধিই পায়নি একইসঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রেখে চলেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৬০০ জনেরও বেশি কর্মী কাজ করছে। আমরা বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক অটোমোবাইল শিল্প এবং সংযোজন কারখানা স্থাপনের জন্য চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD