মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন




অর্থনীতিকে একটু ঠাণ্ডা হতে দেওয়া দরকার

ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের বাজেট পরবর্তী আলোচনা

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪ ৫:৪১ pm
Dhaka university du ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাবি ডিইউ DU ঢাবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় Dhaka University ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাসে মিলবে ওয়াইফাই The DU residential hall may open in March ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
file pic

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে, এ চাপ আরও বাড়তে পারে। এ সময় বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আরেকটু বাস্তবমুখী হওয়া দরকার ছিল। অর্থনীতিকে একটু ঠাণ্ডা হতে দেওয়া দরকার। এটা হিটেড অর্থনীতি। যেভাবে মূল্যস্ফীতি চলছে, তারজন্য প্রবৃদ্ধি যদি কমেও আসে সেজন্য শঙ্কার কারণ নেই।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অর্থনীতি বিভাগ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা ২০২৪-২৫’ শীর্ষক সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

সভায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী নাহার, ড. রুমানা হক ও ড. সৈয়দ নাঈমুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মাসুদা ইয়াসমীন।

অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, বাজেটে ট্যাক্স আদায়ে বেশ জোর দেওয়া হয়েছে। এটা বেশি হয়েছে পরোক্ষ করের দিকে, প্রত্যক্ষ কর কম। ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে কালো টাকা সাদা করা—সেটা ন্যায্যতাভিত্তিক সমাজের সঙ্গে সংতিপূর্ণ নয়। সৎরা ট্যাক্স দিচ্ছেন বেশি করে, যারা কালোটাকা কম রেটে সাদা করবেন। এটা দুর্নীতি, কালোটাকাকে উৎসাহিত করবে। ডিফল্ট লোনের ব্যাপারে নজর দেওয়া দরকার, ব্যাংকিং কমিশন করা দরকার।

তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি আর এডিপির পরিমাণ প্রায় সমান। আমাদের উন্নয়ন বাজেট পুরোপুরি ঋণ নির্ভর বলা চলে। ঋণ আনছি বিদেশি মূদ্রায়, টোল আদায় করছি টাকায়। ফলে ডলার আয় বাড়াতে হবে। এজন্য রেমিট্যান্স রপ্তানির পরিসর বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে এফডিআই সফলতা দুর্বল। স্পেশাল ইকনোমিক জোনের বিনিয়োগের উপর অতিরিক্ত ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে, আশা করব এটা হয়ত থাকবে না। বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে, চাপ আরো বাড়বে। এটা মোকাবিলা করার জন্য অর্থনীতি রেজিলিয়েন্ট (স্থিতিস্থাপক) নয়। এজন্য সংস্কার করতে হবে। বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, দক্ষতা বাড়াতে হবে।

শিক্ষা ও জেন্ডার ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, জিডিপির দুই শতাংশের কম শিক্ষায় বরাদ্দ, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় শিক্ষাবাজেট থেকেও কম। আবার বরাদ্দের বার্ষিক বাস্তবায়নের হার নেতিবাচক, খুবই কম। একদিকে বরাদ্দ কম, অন্যদিকে বরাদ্দের টাকাও সঠিকভাবে ব্যয় করা হয় না। এটা কেন নেতিবাচক এটি অন্তত বছরে দুটি পরিবীক্ষণ দরকার।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার অবকাঠামো বিনিয়োগ হয়। তবে শিক্ষার গুণগত মানে বিনিয়োগ হয় না। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সার্বিক উন্নয়নে তেমন গুরুত্ব দেখা যায় না। এ পর্যায়ের শিক্ষকদের ভালোভাবে গড়ে তুললে সার্বিকভাবে শ্রম বাজারের জন্য উপযোগী জনশক্তি গড়ে উঠবে। এছাড়াও কিছু মৌলিক বিষয়, বাল্যবিয়ে, নারীর প্রতি সহিংসতা—জেন্ডার বাজেটে যেন এই মৌলিক সমস্যাকে এড্রেস করা হয়। মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা বাড়ানো দরকার বলে মন্তব্য তার।

স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলেন অধ্যাপক রুমানা হক। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ জিডিপির দশমিক ৭ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী জিডিপির ৫ শতাংশ স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় করা উচিত। তবে এ বরাদ্দও স্বাস্থ্যখাত পুরোপুরি খরচ করতে পারে না। বয়স্ক লোকের সংখ্যা বাড়ছে, এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, পরিবেশগত ঝুঁকি, ডায়াবেটিস বাড়ছে। সঠিক সময়ে বরাদ্দ, সেবার মান, মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যের পিছনে জনপ্রতি ৮৮ ডলার খরচ করা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে প্রায় ৪৫ ডলারের মত খরচ করা হয়। এরমধ্যে ১০০ টাকা ব্যয় করলে ৬৯ টাকাই জনগণ নিজের পকেট থেকে খরচ করে। সরকার দেয় মাত্র ২৩ শতাংশ।

রুমানা হক আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে গিয়ে আমরা দরিদ্র সীমার নিচে চলে যাচ্ছি। সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবায় পার্শবর্তী দেশ ভারতের অবস্থান ৬১ শতাংশ, আমাদের ৫১ শতাংশ। এ জায়গায় আমাদের ঘাটতি রয়ে গেছে অনেক। স্বাস্থ্য খাতে গবেষণায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হচ্ছে, এটা কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে। আবার এটি পরবর্তী বছর স্বাস্থ্যখাতে উন্নতির ভূমিকা রাখছে কিনা—এটা জানতে হবে।

অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী নাহার বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেটা খরচ করা হয় না। এটা নয় যে বরাদ্দ অনেক, বরাদ্দ কম। কিন্তু আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোর খরচ করার সক্ষমতা নেই। আরেকটি বিষয় হলো টাকা খরচ করতে প্রস্তুতি লাগে। টাকাটা চলে আসে, কিন্তু সেটা ব্যয় করার প্রস্তুতি নেই।

শেষে উপাচার্য ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বাজেটে বরাদ্দের পুরো টাকা ঠিকভাবে খরচ করার মতো সক্ষমতা আমাদের সবগুলো মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা—এটা বড় প্রশ্ন? দক্ষতার অভাবে বিভিন্ন খাতে অপচয়ের পরিমাণ বাড়ছে। যদি এই অপচয়ের পরিমাণ কমিয়ে আনা যায় তাহলে বাজেট থেকে আরও বেশি সুফল পাওয়া যাবে। সেজন্য দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের ৫৮ শতাংশ তরুণ প্রজন্ম, যাদের বয়স ত্রিশের কম; এই তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD