বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন




মুখ থুবড়ে অর্থনীতি দ্রব্যমূল্য বল্গাহীন

আউটলুকবাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪ ৭:২৮ pm
শেয়ার বাজার শেয়ারবাজার বাজেট Budget বাজেট Budget বাজেট Inflation মূল্যস্ফীতি index dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange dse cse ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই Dhaka Stock Exchange চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ Chittagong Stock Exchange শেয়ারবাজার dse ডিএসই Share point সূচক অর্থনীতি economic দরপতন dse ডিএসই শেয়ারবাজার দর পতন পুঁজিবাজার CSE BSEC share market DSE CSE BSEC sharemarket index discrimination সূচক market down বাজেট বাজেট Budget-বাজেট
file pic

নড়বড়ে অর্থনীতি আর লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের ধাক্কায় স্বস্তিতে নেই সরকার। এর মধ্যেই সরকারি দুর্নীতিবাজ কর্তাদের অনিয়মের ফিরিস্তি একের পর এক সামনে আসায় সরকার পড়ছে আরও বেকায়দায়। নানামুখী সমালোচনার মুখেও পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থ মেয়াদে থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। গেল ১১ জানুয়ারি এ সরকার যাত্রা শুরু করেছিল।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ১১ বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এর প্রথমটিই ছিল, দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। তবে আদতে নিত্যপণ্যের দাম ক্রেতার নাগালে রাখা যায়নি। কার্যকর তদারকি না থাকায় আগের মতো এখনও বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফলে ইচ্ছামতো দাম বাড়ানো হচ্ছে সব পণ্যের। এতে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতার।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু নতুন সরকার গঠনের শুরুর দিকে নিয়মিত বাজার তদারকি করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। দ্রব্যমূল্যও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে পরে রহস্যজনক কারণে বাজার তদারকি ব্যবস্থাপনা খুব একটা এগোয়নি। অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে গত জুন থেকে বাজার তদারকিতে ফের সক্রিয় হয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, পণ্যের দাম কমে আসবে।

মন্ত্রী নন, তবে আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য– এমন কয়েকজন শীর্ষ নেতার মতে, সরকারি সংস্থার জবাবদিহি শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। ফলে দুর্নীতি সীমা ছাড়িয়েছে। এ জন্য তারা পরোক্ষভাবে সরকারকেই দুষছেন।

অবশ্য দুর্নীতির বিষয়ে একরকম ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে দুর্নীতি আছে, বাংলাদেশও মুক্ত নয়। তবে দলের মধ্যম সারির নেতারা সংসদে স্পষ্ট বলেছেন, সরকারের সব অর্জনে দুর্নীতি ছাপ ফেলেছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীল নীতি বাস্তবে রূপ পায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই– সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ ও সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির চিত্র হিমশৈলের উপরিভাগ মাত্র। এখনই দুর্নীতির বিস্তার রোধ করা না গেলে হিমশৈলের ধাক্কায় উন্নয়ন অগ্রগতির সলিল সমাধি হবে।

দুর্নীতির বিস্তার নিয়ে নাখোশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও। তিনি বলেছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির যে ভয়াবহতা বেরিয়ে আসছে, তাতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে অনাস্থা দেখা দিয়েছে। তিনি তাঁর ভাষায় দুর্নীতির মচ্ছব বন্ধ করতে বিশেষ কমিশন গঠন ও দুর্নীতিবাজের অর্থ-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান।

দুর্নীতি করে সম্পদশালী হওয়ার অভিযোগ ওঠায় এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানসহ তাঁর দুই স্ত্রী ও ছেলেমেয়ের সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এনবিআরের সাবেক প্রথম সচিব কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালসহ ১৪ জনের সম্পদ জব্দ, সিলেটের কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনার এনামুল হকের ঢাকা ও গাজীপুরে থাকা বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত বেনজীর আহমেদের সম্পদও ক্রোক করেছেন।

তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীল নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগের শাসনামলে শীর্ষ পদে থাকা সরকারি কর্তাদের নামে দুর্নীতির অভিযোগ আসায় দলের নেতাকর্মী এক ধরনের অস্বস্তিতে পড়েছেন। তাদের দৃষ্টিতে, অর্থনীতির গতি কমে আসার পাশাপাশি আর্থিক খাতে দুর্নীতির বিষয়ও চিন্তার কারণ হয়েছে। তারা এমন বিরূপ পরিস্থিতির উত্তরণ চান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দুর্নীতি প্রতিরোধে সোচ্চার। তিনি সংসদে ও মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট বলেছেন, কিছুতেই দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে বৈদেশিক ঋণের বোঝা বাড়ার কারণে আওয়ামী লীগে দুশ্চিন্তা ভর করেছে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতে বড় ধস নেমেছে। কিছুতেই মন্দ ব্যাংককে টেনে তোলা যাচ্ছে না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও কমছে। তাদের দৃষ্টিতে, ছয় মাসের শাসনামলে ১৩ মে ভারতের কলকাতায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনা দলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলার সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল বাবু।

গেল ছয় মাস সরকার পরিচালনার সময় উপজেলা নির্বাচন হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এ নির্বাচনে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। নির্বাচনে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। ফলে বেশির ভাগ উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অংশ নেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ত্রী ও এমপি দলের নির্দেশনা মানেননি। ফলে নতুন করে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধও দেখা দিয়েছে।

এদিকে জননির্ভরতা ছেড়ে আমলাতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সরকারের নির্ভরতা অনেক বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ত্যাগী-পরীক্ষিত রাজনীতিবিদের জায়গায় দলের পদ-পদবি পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। দুর্নীতি দমনে সরকারের পদক্ষেপ জনপ্রত্যাশা পূরণ করছে না। সেই সঙ্গে মন্ত্রী-এমপিসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের অঙ্গীকার থেকে সরে আসায় সরকারের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ম্লান হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এটা সত্য যে অর্থনীতিতে মন্দা ভাব আছে। বৈদেশিক রিজার্ভও কমছে। দুনিয়ার অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে। অবশ্য এসব বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিশ্চয়ই মুদ্রাস্ফীতিসহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD