ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা থাকলেও বায়ুদূষণের মাত্রা কমছে না। বরং রোববার (৮ জুন) সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়, যেখানে বাতাসের মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সকাল ১০টা ৭ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী ঢাকার স্কোর ছিল ১৫৩। একই সময় চিলির সান্তিয়াগো ১৬৬ স্কোর নিয়ে প্রথম, ভারতের দিল্লি ১৬০ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় এবং ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ১৪৬ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল।
একিউআই সূচক মূলত পাঁচটি দূষণ উপাদানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। এগুলো হলো: অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর তথ্য অনুযায়ী, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। পরিবেশবিদদের মতে, ঢাকার বায়ুর মান বছরের বিভিন্ন সময় ভিন্ন হয়ে থাকে। শীতকালে এটি সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়, তবে বর্ষাকালে কিছুটা উন্নতি ঘটে।
পরিবেশবিদরা আরও জানান, বাংলাদেশের মোট বায়ুদূষণের প্রায় ৩৫ শতাংশই আসে আশপাশের দেশগুলো থেকে, যাকে আন্তঃদেশীয় দূষণ বলা হয়।
যদিও ঈদের সময় যানবাহনের সংখ্যা কমে, তবুও নির্মাণকাজ, ইটভাটা ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং পাশ্ববর্তী দেশগুলোর দূষণ ঢাকার বাতাসকে দূষিত রাখছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ রোধে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। ঢাকায় নির্মাণকাজের নিয়ম মেনে পরিচালনা, উন্নত যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃদেশীয় দূষণ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।