জাতীয় নারী ক্রিকেট দল থেকে বাদ পড়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটার জাহানারা আলম সম্প্রতি সাবেক নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত এই ক্রিকেটারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বোর্ড একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিসিবি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশের হয়ে ১৩৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জাহানারা আলম দীর্ঘদিন জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান তারকা ছিলেন। জাতীয় দল থেকে তার বাদ পড়ার পর, তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন যে তার ক্যারিয়ারে অবহেলা, বঞ্চনা এবং দলের ভেতরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। তার অভিযোগের তীর ছিল সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম, বিসিবির নারী বিভাগের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদুর রহমান এবং বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির দিকে।
এই আলোচনার মধ্যেই ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহানারা সরাসরি মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। তিনি জানান, “উনি (মঞ্জুরুল ইসলাম) একদিন আমার কাছে এসে, আমার কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘তোর পিরিয়ডের কত দিন চলছে? পিরিয়ড শেষ হলে বলিস, আমার দিকটাও তো দেখতে হবে। পিরিয়ড শেষ হলে, যখন ডাকব চলে আসিস।'” এছাড়াও, বিশ্বকাপ চলাকালীন ম্যাচের পর হ্যান্ডশেকের সময় মঞ্জুরুল হাত না মিলিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরতেন বলেও গুরুতর অভিযোগ করেন জাহানারা। মঞ্জুরুল ছাড়াও, অধিনায়ক জ্যোতির বিরুদ্ধেও তিনি জুনিয়রদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং সাবেক কোচ দিপাকে চড় মারার অভিযোগ তোলেন।
নারী দলের এই তারকা পেসার আরও জানান, তিনি দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তৎকালীন বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান নাদেল স্যার-এর কাছে এই বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি; “এক-দুই দিন সব ঠিক থাকত, পরে আবার যেই লাউ সেই কদু”—বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন জাহানারা।
বিসিবির বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তারা তাদের সকল খেলোয়াড় ও কর্মীদের জন্য একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বোর্ড এই সংবেদনশীল অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে বলেছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে কঠোর ও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিসিবি বর্তমানে সকল পক্ষকে অনুমাননির্ভর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছে, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। দেশের নারী ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এই নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সকলের প্রত্যাশা।