সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৬ অপরাহ্ন




রাজনৈতিক দলকে মাঠে থাকার আহ্বান সরকারের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ১:০২ pm
এটার্মিনাল য়ারপোর্ট HSIA CAAB hazrat shahjalal international airport dhaka biman হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর biman
file pic

সব বিমানবন্দরে সতর্কতা, সন্ত্রাসী ঠেকাতে বিজিবিকে নির্দেশনা

জুলাইয়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রায়ের দিন নির্ধারণ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। ওই দিন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শক্ত অবস্থানে থাকবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ১৩ নভেম্বর কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। সন্ত্রাসীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার বিচারের রায়ের দিন নির্ধারণ ঘিরে কর্মসূচি দেওয়ায় ১৩ নভেম্বরের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। চলমান পরিস্থিতিতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) দলগুলোকে মাঠে থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। কাউকে সন্দেহ হলে, আইন হাতে তুলে না নিয়ে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবার সহযোগিতা চেয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাবেন। আপনারা অনেক সময় বলেন, সন্ত্রাসীরা খুব তাড়াতাড়ি জামিন পেয়ে যায়। সহজে যাতে জামিন না পায়, সেজন্য যারা জামিন দেন, আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করব। সন্ত্রাসী যারা জেল থেকে জামিনে বের হচ্ছে, তারা অন্য ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে যেন আবার আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

গেল দুদিন ধরে বাসে আগুন ও বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে গোয়েন্দাদের কোনো ব্যর্থতা নেই। বড় ধরনের মিছিল কোথাও হচ্ছে না। তবে এগুলো যেন আর না হয়, সে ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব যারা করছে, তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের প্রতিহত করা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দুটি ঘটনায়ই সন্ত্রাসী বাহিনীর মধ্যে হয়েছে। জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো সন্ত্রাসী দেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য বিজিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, মেট্রোরেল এলাকা, রেলওয়েসহ কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। টহল বাড়ানো হয়েছে, বাসে আগুন দেওয়ার জন্য যেসব সড়কের পাম্প থেকে তেল নেওয়া হয়, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে
সূত্র জানায়, বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পুলিশের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তুতি চলতি মাসেই শেষ হবে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের প্রস্তুতি শেষ করবে। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের সময়ে মাদকের বার অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি সন্তোষজনক। সব বাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছে। হয়তো কিছু দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তারপর আমরা দু-একটি ডেমনস্ট্রেশন দেব।
তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও বেগবান করা হবে। যেহেতু কিছু কিছু অস্ত্র এখনও বাইরে, সেগুলো খুব তাড়াতাড়ি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের বডি ওন ক্যামেরার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, আজকের বৈঠকে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ক্রয় প্রক্রিয়া হয়তো কাল-পরশুর মধ্যে শেষ হবে। এ সময় তিনি মাদক নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সব বিমানবন্দরে সতর্কতা
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদপ্তর কুর্মিটোলা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) কাউছার মাহমুদ জানান, দেশের বিমানবন্দরগুলোকে সতর্ক থাকার বিষয়ে তারা চিঠি দিয়েছেন।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা নিতে বলেছে বেবিচক।

ঢাকাবাসীর সহযোগিতা চাইল ডিএমপি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘নাশকতা প্রতিহত করতে’ ঢাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, ১৩ নভেম্বর ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই। ঢাকাবাসী অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেবেন না। নিজের মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাড়া দেওয়ার আগে যাচাই করুন। কোনো দুর্বৃত্তের হাতে চলে যাচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখবেন।

রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনগণ ও ঢাকাবাসী অতীতে স্বৈরাচার পতনে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। আজকে এ ধরনের নাশকতা যারা করছে, তাদের প্রতিহত করবে ঢাকাবাসী। ঢাকাবাসীর কাছে অনুরোধ, আপনারা সাহায্য করুন, প্রতিরোধ সৃষ্টি করুন, আমরা সঙ্গে আছি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সামাজিক মাধ্যমের অপপ্রচারে একটি আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের নাশকতা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের আছে। সব বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে যে কোনো নাশকতা প্রতিহত করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে বিচার পাওয়ার জায়গা, সেখানে মানুষ যাবেই। তবে আজকের যে অবস্থা, ওই অবস্থা বৃহস্পতিবার থাকবে না। আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেব।
এ সময় ডিএমপি কমিশনার জানান, গত দুদিনে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ও ৯টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭টি মামলা ও ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD