শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট চরমে। প্রধান শিল্প বস্ত্র ও পোশাকসহ প্রায় সব ধরনের শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমে এসেছে। নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনকে গুরুত্ব না দিয়ে আমদানিনির্ভরতাকে এ জন্য দায়ী করা হয়ে থাকে। এ বাস্তবতায় দেশের বিভিন্ন ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানে ১০০ নতুন কূপ খনন কার্যক্রম জোরদার করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে আরও তিনটি নতুন কূপ খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। কুমিল্লার শ্রীকাইল, পাবনার মোবারকপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে এই কূপ তিনটি খনন করা হবে।
সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) তিনটি অনুসন্ধান কূপ (শ্রীকাইল ডিপ-১, মোবারকপুর ডিপ-১ ও ফেঞ্চুগঞ্জ সাউথ-১) খনন শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে এক হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের ৯০৯ কোটি টাকার সরকার জোগান দেবে। বাকি ২২৭ কোটি দিচ্ছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন কোম্পানি (বাপেক্স)। আগামী ২০২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।
নতুন এই প্রকল্পটিসহ ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। এসব প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থ ৯ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। বিদেশি ঋণ ৫১০ কোটি টাকা। বাকি ৩৭৯ কোটি টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব জোগান।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, সমাজকল্যাণ ও নারী-শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিল্প ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ সড়ক ও রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ বন ও পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদন অন্য প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। নতুন এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মানসম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধন অনুমেদন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এই প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিরপুর ৯ নম্বর সেকশনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-২০২৪-এ আহত বা কর্মক্ষমতা হারানো জুলাইযোদ্ধা পরিবারের জন্য ১৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ এবং একই আন্দোলনের শহীদ পরিবারের জন্য ‘৩৬ জুলাই’ আবাসিক ফ্ল্যাট প্রকল্প। এই দুই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৪৪ কোটি ও ৭৬১ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকাগুলোর জন্য অগ্নিনিরাপত্তা আধুনিকায়ন এবং সচিবালয়ে নতুন ২১ তলা অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন হয়েছে। এ ছাড়া সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা এমআরটি লাইন-৬ এর তৃতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় কমানো হয়েছে ৭৭৬ কোটি টাকা।
অনুমোদন হওয়া অন্য প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সিরাজগঞ্জ-রায়গঞ্জ (চান্দাইকোনা) সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, নারায়ণগঞ্জ গ্রিন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন, জাপান হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপ, ডিজিটাল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন ইকো-সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম সংশোধন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ও কেন্দ্রীয় গবেষণাগারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, ক্লাইমেট রেসপন্স রিপ্রোডাকটিভ হেলথ অ্যান্ড পপুলেশন সার্ভিস ইম্প্রুভমেন্ট, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের অত্যাবশ্যক কার্যক্রম বাস্তবায়ন প্রকল্প।