ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দাবি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর অবস্থান নিতে পারেনি, সেটা স্পষ্ট। রোববার (৭ ডিসেম্বর) ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অঙ্গীকার নিয়ে ধানমন্ডির অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এমন দাবি করেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দুর্নীতি দেশে বেড়েছে অথবা কমেছে সে হিসাব টিআইবি এখনও করেনি। তবে দুর্নীতি অব্যাহত আছে।’ এসময় তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশে দুর্নীতি বেড়েছে অথবা কমেছে সে তথ্য টিআইবির কাছে এখন নেই। তুলনামূলক তথ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গত ৫৪ বছর ও ১৫ বছরের জঞ্জাল কাটিয়ে উঠে চট করে দুর্নীতিমুক্ত দেশ করা সম্ভব নয়, সময় লাগবে।’
নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গে টিআইবির এ কর্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর ক্যাপিটাল পেশিশক্তি, অর্থ ও ধর্মের বিষয়ে নির্বাচনি ইশতেহারে পরিষ্কার করা উচিত।’
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার পরিচালনায় দুর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনে দলগুলোর অবস্থান ইশতেহারে তুলে ধরা উচিত বলেও মনে করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তবে দুর্নীতি অব্যাহত আছে। আর তার দৃষ্টান্ত কিন্তু আমরা ৫ আগস্ট বিকেলবেলা থেকে দেখেছি। দলবাজি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও গভর্ন্যান্স স্পেস এর ক্ষমতাকে অপব্যহার করে ঠিকই একটি মহল দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছেন। সরকারের অভ্যন্তরীণ কোনো কোনো ক্ষেত্রেও দুর্নীতি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সম্ভাবনা ছিল আরও আরও কঠোরভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানটা গ্রহণ করার। সেটি করতে তারা হয়তো ব্যর্থ হয়েছে সেটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।’