রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন




ঢাকার বাসে ই-টিকিট ছাড়া যাত্রা নয়, এ সপ্তাহে কার্যকর

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬ ৬:৩৮ pm
rapid MRT pass Smart Card Recharge POS Machine Ticket Office Machine TOM বিআরটিসি বাসে র‌্যাপিড পাস কার্ড এমআরটি পাস কার্ড পাঞ্চ টিকিট ভ্রমণ স্টেশন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বিআরটি DHAKA MASS TRANSIT COMPANY LIMITED DMTCL ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড ডিএমটিসিএল ওয়েবসাইট এমআরটি পাস মেট্রোরেল পাস কার্ড মেট্রোরেলের পাস মেট্রোরেল পাস MRT Pass Metro Rail Platform মেট্রোরেল প্ল্যাটফর্ম Dhaka metro rail formal test run Dhaka Metro Rail ঢাকা মেট্রোরেল মেট্রোরেলের
file pic

রাজধানী ঢাকা ও শহরতলির রুটে চলাচলকারী বাসগুলোতে এখন থেকে যাত্রীদের ই-টিকিট কেটে চড়তে হবে। বাস স্টপেজে কিউআর কোড দেওয়া থাকবে। যাত্রীরা সেটা স্ক্যান করে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিজেরাই টিকিট কাটতে পারবেন। যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন না, তাদের জন্য থাকবেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি টিকিটমাস্টার। তাদের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ পদ্ধতি পুরোদমে চালু করা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে। আরবানমুভ টেক নামের একটি কোম্পানি এ ব্যবস্থায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম। তিনি বলেন, বিভিন্ন রুটের পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে আরবানমুভ টেক ই-টিকিটিং ব্যবস্থাপনার সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই কার্যক্রম চালু করা হবে জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও পুলিশ প্রশাসন এই কার্যক্রম পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকি করবে।

এ পদ্ধতিতে সাধারণ পালনীয় কিছু বিষয় সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। এর মধ্যে রয়েছে-

• সব বাস নির্ধারিত স্টপেজে যাত্রী তুলবে এবং নামাবে।

• সব যাত্রীকে অ্যাপ অথবা ডিভাইসের মাধ্যমে ই-টিকিট সংগ্রহ করে গাড়িতে ভ্রমণ করতে হবে।

• এ পদ্ধতিতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হবে না। ছাত্রদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নেওয়া হবে আগের মতই।

সাইফুল আলম বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এই পদ্ধতি কার্যকর হলে রাস্তায় যানজট কমবে, অসম প্রতিযোগিতায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হবে, দুর্ঘটনা কমিয়ে যাত্রী সাধারণের চলাচলে নিরাপত্তা, আরাম, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং রাস্তায় গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা শহর ও শহরতলী রুটে চলাচলরত বাস সার্ভিস গত ১৬ বছর ধরে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলাচল করছে। যাত্রী ওঠা-নামার জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ না থাকা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন না হওয়া, গাড়ি চলাচলে বৈধ রুট পারমিট না থাকা, গাড়ির চালকদের বৈধ লাইসেন্স পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও বিড়ম্বনা এবং মাসিক বা দৈনিক বেতনে গাড়ি চলাচলের পরিবর্তে কন্ট্রাক্ট পদ্ধতিতে চালকদের গাড়ি পরিচালনা করতে দেওয়ার মতো নানা সমস্যা বিরাজমান।

ফলে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া অসম প্রতিযোগিতায় গাড়ি চালানোর কারণে রাস্তায় যানজট, দুর্ঘটনা হচ্ছে। প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায় প্রতিটি গাড়ি লক্কর-ঝক্কর, ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এবং পরিবহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনা, যাত্রী সেবার মানোন্নয়ন, দুর্ঘটনা কমানো ও দৃষ্টিনন্দন পরিবহন ব্যবস্থাপনা করার লক্ষ্যে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং ডিএমপির ট্রাফিক ও ক্রাইম বিভাগহ যৌথ উদ্যোগে ই-টিকিটিং ও কাউন্টার পদ্ধতিতে ঢাকা শহর ও শহরতলীর বাস পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সাইফুল আলম আরও বলেন, এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ও গাজীপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসন ঢাকা ও মানিকগঞ্জ, হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট পরিবহন শ্রমিক, পরিবহন কোম্পানি ও প্রশাসনের সঙ্গে আট মাস ধরে দফায় দফায় আলোচনা সভা, কাউন্সেলিং সভা ও মতবিনিময় করা হয়েছে।

যেভাবে বাস্তবায়ন
আরবানমুভ টেক-এর এমডি জুনায়েদ আবদুল্লাহ বলেন, ঢাকার ৮০০টির বেশি বাস স্টপেজে কিউআর কোড দেওয়া থাকবে। যাত্রীরা সেটা স্ক্যান করে অ্যাপ ডাউনলোড করে নিজেরাই টিকিট কাটতে পারবেন।

যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন না, তাদের জন্য থাকবেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি টিকিট মাস্টার। তাদের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) সরওয়ার হোসেন, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান, ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD