নিম্নমানের বালাই নাশক আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। নিম্নমানের পেস্টিসাইড (বালাই নাশক) অননুমোদিত সোর্স থেকে আমদানি, ট্যাক্স ফাঁকি ও জাল জালিয়াতিসহ এ খাতের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। অনেক প্রতিষ্ঠানে বেশকিছু বালাই নাশক রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোন কেমিক্যালের অস্তিত্ব ও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, কোন অবকাঠামো নির্মাণ, ল্যাবরেটরি ও দক্ষ জনশক্তি ইত্যাদি মূল্য সংযোজন ব্যাতিরেকেই তারা ৪/৫ গুণ দামে বালাই নাশক বিক্রি করছেন এবং আমদানিকৃত এসকল বালাই নাশকে কোন প্রকার ল্যাবরেটরি টেস্ট ছাড়া বা মাঠ পরীক্ষা না করেই কৃষকের হাতে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। যার ফলে কৃষিক্ষেত্র ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং কৃষকরা পড়ছেন লোকসানে।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট এনালাইসিস করে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে শত শত এলসি নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমদানি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ খাতের ব্যবসায়ী বাংলাদেশ গ্রুপ প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিপিএ) সভাপতি ও মিমপেক্স এগ্রোকেমিক্যাল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সায়েদুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া স্বৈরাচারের দোসর সায়েদুজ্জামানের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রেরও যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন সময়ে ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম ও কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে খামার বাড়ি এলাকায় সংগঠিত মিছিল ও সমাবেশের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সায়েদুজ্জামান।
জানা গেছে, সেই সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী তথা জুলাই যোদ্ধাদের হামলা ও হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে একাধিক বৈঠকও করেছিলেন তিনি। সকল তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সম্প্রতি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে।
সূত্র বলছে, গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সায়েদুজ্জামান নিজের অপকর্ম স্বীকারও করেছে। এদিকে তার আমদানি করা বিভিন্ন এগ্রো কেমিক্যাল নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় যে বছরে প্রায় শতকোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছেন তিনি। ২ বছর আগে চিটাগাং পোর্টে অনিয়মের কারণে এগ্রো কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার মালামাল আটকে ছিল যেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা প্রতি এলসিতে ৪ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়।