রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ন




পে-কমিশন

সর্বনিম্ন বেতন ২০০০০, সর্বোচ্চ ১৬০০০০ টাকা করার সুপারিশ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬ ৮:২০ pm
Bangladesh Government gov govt বাংলাদেশ সরকার ঢাকা Dhaka সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারি প্রশাসন সচিবালয় ‎মন্ত্রণালয় প্রশাসন
file pic

নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ আগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন পেশ করেছে নবম জাতীয় বেতন কমিশন। ২৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদনটি পেশ করা হয়। বিভিন্ন রকমের পর্যালোচনা শেষে বেতন স্কেলের গ্রেড বা ধাপ চলমান পে-স্কেলের মতো ২০টি গ্রেডই রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসময় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সব পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইনে জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনমানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত বিবেচনায় নিয়েছে বেতন কমিশন। চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।

কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। প্রতিবেদনের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে কাজটি সম্পন্ন করেছে কমিশন। বেতন কমিশনের জমা দেওয়া সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। তবে নির্বাচনের আগে এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণের পর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি বলেন, ‌‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’

নতুন এ বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরেদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতদিন ১১তম থেকে ২০তম ধাপের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াতের ভাতা ছিল। এ যাতায়াতের ভাতা নতুন বেতন কমিশন ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়নোর সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিশন প্রধান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়েছে। সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো না থাকায় সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করেছে কমিশন।

নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে অনলাইন ও অফলাইনে মোট ১৮৪টি সভা আয়োজন করেছে এবং ২৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কমিশন। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার মাধ্যমে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়েছে।

কমিশন সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২০টি বেতন স্কেলে সুপারিশ দিয়েছে। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনপ্রধান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

কমিশনের প্রতিবেদনে নতুন নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে— সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরসমূহে ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

মাসে ২০ হাজার টাকার কম পান, এমন পেনশনভোগীদের পেনশন বাড়ছে ১০০ শতাংশের মতো। যারা মাসে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৭৫ শতাংশ। আর যারা মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পান, তাদের বাড়ছে ৫৫ শতাংশ। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনধারীদের চিকিৎসার ভাতা ১০ হাজার টাকা দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এমনিতে বয়সভেদে আট হাজার টাকা চিকিৎসার ভাতা। ৫৫ বছরের কম বয়সীদের চিকিৎসার ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা।

প্রথম থেকে দশম ধাপ পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়া তুলনামূলক কম হারে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম ধাপে বাড়িভাড়ার হার তুলনামূলক বেশি দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিশন। এদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রতিবেদন দাখিলের পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা বেতন কমিশন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ১ম গ্রেডের মূল বেতন (নির্ধারিত) বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ২য় গ্রেডের ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, ৩য় গ্রেডের ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, ৪র্থ গ্রেডের ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা, ৫ম গ্রেডের ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা।

ষষ্ঠ গ্রেডের ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, ৭ম গ্রেডের ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা, ৮ম গ্রেডের ৪৭ হাজার ২০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ৯ম গ্রেডের ৪৫ হাজার ১০০ থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ম গ্রেডের ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা, ১১তম গ্রেডের ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।

১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা, ১৩তম গ্রেডের ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, ১৪তম গ্রেডের ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা, ১৫তম গ্রেডের ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা, ১৬তম গ্রেডের ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা, ১৭ তম গ্রেডের ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮তম গ্রেডের ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা, ১৯তম গ্রেডের ২০ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০১৫ পে-স্কেল বনাম ২০২৬ নবম পে-স্কেল (প্রস্তাবিত)

খাতের নাম বর্তমান কাঠামো (২০১৫) প্রস্তাবিত কাঠামো (২০২৬) পরিবর্তনের ধরন
সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা ১৭,০০০ – ১৮,০০০ টাকা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি
সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা ১,২০,০০০ – ১,২৫,০০০ টাকা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
বেতন অনুপাত ১:৯.৪৫ ১:৮ (প্রস্তাবিত) বৈষম্য কমানোর চেষ্টা
বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫% চক্রবৃদ্ধি হারে ৫% – ৮% (গ্রেড ভেদে) পরিবর্তনের সুপারিশ
চিকিৎসা ভাতা ১,৫০০ টাকা ৩,০০০ – ৫,০০০ টাকা দ্বিগুণ বা তার বেশি
বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০% মূল বেতনের ৫০% বড় উল্লম্ফন
বাড়ি ভাড়া (৯ম-২০তম) মূল বেতনের ৪৫-৬৫% আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি নিম্ন গ্রেডে সুবিধা বেশি
বাড়ি ভাড়া (১ম-৮ম) নির্দিষ্ট হারে বরাদ্দ কিছুটা কমানোর প্রস্তাব বেতন বৃদ্ধির সমন্বয়

 

নবম পে-স্কেল: গ্রেড ভিত্তিক আনুমানিক বেতন ক্যালকুলেশন (২০২৬)

গ্রেড ও পদের ধরন বর্তমান মূল বেতন (২০১৫) প্রস্তাবিত মূল বেতন (২০২৬) আনুমানিক মোট মাসিক বেতন (ভাতাসহ)
১ম গ্রেড (সচিব) ৭৮,০০০ টাকা ১,২০,০০০ – ১,৬০,০০০ টাকা ২,০০,০০০+ টাকা
৫ম গ্রেড (উপ-সচিব) ৪৩,০০০ টাকা ৯০,০০০ – ৯৫,০০০ টাকা ১,২৫,০০০+ টাকা
৯ম গ্রেড (বিসিএস ক্যাডার) ২২,০০০ টাকা ৪৬,০০০ – ৫০,০০০ টাকা ৭০,০০০+ টাকা
১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণি) ১৬,০০০ টাকা ৩৫,০০০ – ৪০,০০০ টাকা ৫২,০০০+ টাকা
১৩তম গ্রেড (হিসাব রক্ষক) ১১,০০০ টাকা ২৫,০০০ – ২৮,০০০ টাকা ৩৮,০০০+ টাকা
১৬তম গ্রেড (ড্রাইভার) ৯,৩০০ টাকা ২১,৫০০ – ২৩,০০০ টাকা ৩২,০০০+ টাকা
২০তম গ্রেড (অফিস সহায়ক) ৮,২৫০ টাকা ১৮,০০০ – ২০,০০০ টাকা ২৮,০০০+ টাকা

দ্রষ্টব্য: মোট বেতনের হিসাবটি ঢাকা মহানগরীর বাড়ি ভাড়া (প্রস্তাবিত আনুপাতিক হার), চিকিৎসা ভাতা (প্রস্তাবিত ৩০০০-৫০০০ টাকা) এবং অন্যান্য সাধারণ ভাতার ওপর ভিত্তি করে একটি গড় ধারণা মাত্র।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD