রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ন




বিএফডিসিতে অবহেলিত গানের শিল্পীরা, লিখিত দাবি পেশ ন্যান্‌সির

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ ৮:৩৩ pm
singer Nazmun Munira Nancy nancy ন্যান্সি নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি ন্যানসি গায়িকা
file pic

সেই শুরু থেকেই গানকে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রাণ বলা হয়। যুগে যুগে চলচ্চিত্রের অসংখ্য গান কালজয়ী হয়েছে। যেকোনো চলচ্চিত্রের সফলতায় বড় ভূমিকাও রাখে গান। কিন্তু চলচ্চিত্রের গান সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের বিএফডিসি আওতাধীন চলচ্চিত্র শিল্পী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি আজ পর্যন্ত। কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধাও প্রদান করা হয়নি। যা বহুদিন ধরেই সংগীত সংশ্লিষ্টদের প্রাণের দাবি। তবে বিষয়টি নিয়ে এতদিন কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উদ্যোগ নেননি। যেটা এবার নিয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্‌সি। গত ২৬শে জানুয়ারি তিনি তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিতভাবে এই দাবি পেশ করেছেন শিল্পী সমাজের পক্ষে। সেই লেখাতে ন্যান্‌সি সচিব বরাবর বলেন, আমি চলচ্চিত্র মাধ্যমের একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। এই উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে গান একটি শক্তিশালী উপকরণ।

আমাদের চলচ্চিত্রের জন্মলগ্ন থেকেই গানের মাধ্যমে প্রায়ই চলচ্চিত্রের প্রচার, প্রসার ও ব্যবসায় সফলতা পেয়ে আসছে। আমরা কণ্ঠশিল্পী এবং চলচ্চিত্রের গান সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কলাকুশলী তথা গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, আবহসংগীত পরিচালকগণ তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়ে থাকি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএফডিসি) এর অধীনস্থ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার আওতায় গানের কলাকুশলীদের বিবেচনা করা হয় না। শিল্পী সমিতি নামক যে সংগঠন রয়েছে সেখানে আমাদের সদস্যপদ এবং ভোটাধিকারও নেই। আমরা যখন বিএফডিসিতে প্রবেশ করি, সেখানে পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি এবং শিল্পী সমিতির আলাদা কক্ষ দেখতে পাই। চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হয়ে আমাদের সংগীত সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ বা বসার ব্যবস্থা পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানে দেখতে পাইনি। আমাদের বিশ্রাম, রিফ্রেশমেন্ট বা চর্চার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নির্ধারিত নেই।

মহিলা শিল্পীদের অবস্থা নিশ্চয়ই সহজেই অনুমেয়। অথচ যেকোনো উৎসব বা আয়োজনে আমাদের গানের শিল্পীদের ডাকা হলেও বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে আমরা আজও চরমভাবে অবহেলিত। ন্যান্‌সি আরও বলেন, যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে নানা আলোচনায় এবং টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টি তুলে ধরেছি, কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা আগে কখনো প্রকাশ করা হয়নি। আমরা চলচ্চিত্র মাধ্যমের একটি অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকায় থাকার পরেও নিজেদের একটি বসার ব্যবস্থা নেই, যা চলচ্চিত্র মাধ্যমের শিল্পী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য বেদনাদায়ক। তাই বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনর সঙ্গে আমাদের দূরত্ব ঘোচাতে এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার নিমিত্তে আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে আপনার সংস্থায় একটি কার্যালয় তথা বসার সুনির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করার বিনীত অনুরোধ করছি। আমাদের চলচ্চিত্রের সংগীত সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ হতে বিনীত আবেদন এই যে, আপনার মাধ্যমে আমাদের ভালোবাসার প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন যেন এই সমুদয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংগীত সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের চলচিত্র শিল্পের একজন শিল্পী পদমর্যাদাকে আমলে নিয়ে উক্ত সকল সুযোগ- সুবিধা প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে আমাদের সামনের দিনের পথ চলাকে আরও অংশগ্রহণমূলক এবং মূল্যায়িত করার ব্যবস্থা করতে সচেষ্ট হন। এদিকে ন্যান্‌সি মানবজমিনকে এ বিষয়ে বলেন, বিএফডিসিতে চলচ্চিত্রের প্রায় প্রতিটি শাখারই সমিতি রয়েছে, আলাদা অফিস রয়েছে। শুধুমাত্র সংগীত ব্যতীত। এটা চলচ্চিত্রের সংগীত সংশ্লিষ্টদের বহুদিনের দাবি। আমি বিশ্বাস করি যেহেতু এবার আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পী সমাজের পক্ষে আবেদন করা হয়েছে, দ্রুতই হয়তো বিষয়টি আমলে নিয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD