সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন




সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে রোববার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬ ৫:২২ pm
Saint Martin's Island সাগরপথ সাগর পথ cox bazar sea beach sent martin launch ticket cabin crew জাহাজ সমুদ্র সৈকত যাত্রী জলযান সাগর Bay of Bengal Cheradip বঙ্গোপসাগর cox bazar sea beach sent martin launch ticket cabin crew জাহাজ সমুদ্র সৈকত যাত্রী জলযান সাগর Bay of Bengal Cheradip বঙ্গোপসাগর Saint Martin’s Island jetty
file pic

পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে। আজ শনিবার চলতি মৌসুমের শেষদিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে।

এরপর নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এতে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও পরিবহন খাতের মানুষের মধ্যে নতুন করে জীবিকা সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকে। তবে এবার সরকার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। নভেম্বর মাসে দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল।

দ্বীপবাসীর দাবি, সময় কমিয়ে দেওয়ায় পর্যটনের ভরা মৌসুমেও তারা প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপের মানুষের সামনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক গেলেও আয় হয়নি
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক করে চলতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার থেকে জাহাজে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু এবার দ্বীপের স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা তেমন কোনো আয়-রোজগার করতে পারেননি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, আজ সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ সব পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করবে। কাল থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার পরে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘লাভ তো দূরের কথা, লোকসানে পড়েছি’
সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, অনেক মানুষ সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভের চেয়ে লোকসানে পড়েছেন। অতীতে দ্বীপে এমন সংকট দেখা যায়নি। কাল থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ শুরু হবে। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটনখাতের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ করে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। সময়টা আর একটু বাড়ানো গেলে আগামী নয় মাস পার করা সহজ হতো।

‘ঋণ করেছি, এখন শোধ করব কীভাবে’
দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ। কাল থেকে আমাকে আবার মাছ ধরতে যেতে হবে। রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছি, কিন্তু দুই মাসেও সেই টাকা তুলতে পারিনি। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব।

দ্বীপের কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, এবার আমরা কোনো আয় করতে পারিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ, ঢাকার কিছু বিনিয়োগকারী, হোটেল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট গলাকাটা বাণিজ্য করেছে। তার ওপর সরকারের বিধি-নিষেধে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে স্থানীয়দের ওপর। এখন ৯ মাস পর্যটক বন্ধ থাকলে দ্বীপবাসীর দুর্দিন আরও বাড়বে।

কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের
দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটনখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত আরও চার মাস বা কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কড়াকড়ি নির্দেশনা বহাল
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শও রয়েছে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD