২৫ বছর আগে ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গান দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন এক স্বপ্নবাজ তরুণ। সেই গান ও অ্যালবাম অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিহাস রচনা করে। এরপরের গল্প মোটামুটি সবার জানা। একের পর এক সফল অ্যালবামের মাধ্যমে আসিফ হয়ে ওঠেন অডিও ইন্ডাস্ট্রির যুবরাজ। ২৫ বছর পরও ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ এর গানগুলোর আবেদন এতটুকু কমেনি।
কালজয়ী হয়ে ধরা দিয়েছেন নতুন প্রজন্মের কাছে। বিষয়টি অনুধাবন করেন আসিফও। এ গায়ক বর্তমানে গানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিজের অতীতটাকে মনে করে ভক্তদের সঙ্গে কিছু কথা ভাগ করে নিলেন তিনি।
আসিফ লিখেন, ’৯৭ সালের অক্টোবরে সপরিবারে ঢাকায় আসা গায়ক হওয়ার স্বপ্ন চোখে নিয়ে। ’৯৯ সালে ঢাকায় জন্ম নেয় দ্বিতীয় সন্তান। অনার্স ও মাস্টার্স কমপ্লিট করেও চাকরিতে যাচ্ছি না। বাংলাদেশের সবচেয়ে অনিরাপদ এবং অনিশ্চিত পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামও একদিন শেষ হলো। ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ বদলে দিলো আমাকে, কেটে গেল একটা জীবন। আসিফ আরও বলেন, শোবিজকে বাইরে থেকে ঝলমলে মনে হলেও সবচেয়ে জরাজীর্ণ অবকাঠামো এখানেই। কোনো পর্যায়ে নেই সামাজিক নিরাপত্তা। তারকা আসে তারকা যায়, পরিবর্তন আসে না সিস্টেমে।
এটার মূল কারণ শিল্পীদের বৈচিত্র্যপূর্ণ আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতা, এখানে কেউ কারও নয়। গানের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বাংলা গানে সমৃদ্ধ কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই। এখানে গান লেখা, গাওয়া, সুর, সংগীত- সবই হবে, শুধু কখনো আসবে না সম্পৃক্তদের সামাজিক নিরাপত্তা। সব সময় একটা অভিশপ্ত বলয়ে আটকে থাকবে শিল্পচর্চা। ‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ অ্যালবামের গানগুলো ২৫ বছর পেরিয়ে এখনো সগৌরবে বেজে যাচ্ছে মানুষের মনে, এটাই প্রশান্তি। এদিকে, আসিফ বর্তমানে গানের কাজ তুলনামূলক কম করছেন। তবে আসছে ঈদে তার কমপক্ষে হাফ ডজন নতুন গান প্রকাশের জন্য প্রস্তুত।