শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০২:০৫ পূর্বাহ্ন




চটকদার বিজ্ঞাপনে সয়লাব

অনলাইন চিকিৎসার ফাঁদে রোগীরা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১১:০৪ am
Myths high blood pressure World Hypertension Day উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে কুসংস্কার বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস blood রক্ত দান blood donation Cells Plasma Circulation circulating fluid nutrition oxygen রক্ত দান হিমোগ্লোবিন রক্তশূন্যতা হৃৎপিণ্ড ধমনী শিরা তরল যোজক কলা অক্সিজেন কার্বন ডাই অক্সাইড রক্তচাপ heart হৃদরোগ বিশ্ব হার্ট দিবস চিকিৎসকরা হার্ট হৃৎপিণ্ড lung cancer Cancer Cancer Treatment Cancer disease body's cells grow uncontrollably spread parts of the body ক্যান্সার চিকিৎসা ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা ডাক্তার নার্স রোগ সংক্রমণব্যাধি হার্ট অ্যাটাক ব্রেস্ট ক্যান্সার গলার গলা ক্যান্সার ধূমপান পরিবেশ দূষণ খাবার দূষণ ক্যান্সার ক্যান্সার হাসপাতাল চিকিৎসক স্ক্রিনিং হেলথ কেয়ার lung cancer কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ Heart Disease
file pic

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) ব্যবহার করে দেদার বিক্রি হচ্ছে ক্ষতিকর ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও কসমেটিকস পণ্য। ভেষজ, হার্বাল, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি, অ্যাগ্রোভেট (গবাদিপশুর জন্য) ও অর্গানিকসহ বিভিন্ন নামে বিক্রি হওয়া এসব চিকিৎসা পণ্য তৈরিতে মানা হচ্ছে না মেডিকেল সায়েন্সের কোনো নিয়ম-কানুন। বিপণনের ক্ষেত্রে নেই কোনো অনুমোদন। উৎপাদক ও বিক্রেতারা চিকিৎসক না হয়েও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসে সপ্তাহ থেকে মাসের মধ্যে বিভিন্ন জটিল-কঠিন রোগের সুস্থতার আশ্বাস দিচ্ছেন। শতভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ও বিফলে মূল্য ফেরতের ঘোষণাসহ চটকদার বিজ্ঞাপনে রোগীদের আকৃষ্ট করছেন। অনলাইনে ভুয়া চিকিৎসার ফাঁদে ফেলছেন। আধুনিক ট্রিটমেন্ট প্রটোকল না মেনে তৈরি এসব পণ্য সেবনকারীরা দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ)সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নাকের ডগায় এসব ক্ষতিকর পণ্য বিক্রি হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বেশ কিছু দিন ধরে পক্ষ থেকে একাধিক ফেসবুক পেজ অনুসরণ করে ভেষজ ওষুধসহ অনুমোদনহীন চিকিৎসাপণ্য বিক্রির সত্যতা মিলেছে। যেখানে একেকজন বিশেষজ্ঞ সেজে পেজে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন। বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করছেন। যেগুলো সেবন করে রোগীরা এক রোগ সারাতে গিয়ে আরও নতুন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ও কসমেটিক বাজারজাতের আগে সেটি মানবদেহে কতটুকু মাত্রায় কার্যকর, ফলাফল পেতে কতটুকু পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে-এ বিষয়ে গবেষণা জরুরি। মানবদেহে প্রয়োগের আগে প্রাণীদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল দিতে হয়। ওষুধ প্রস্তুতকারক ও গবেষকদের চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ে বৈধ সনদ থাকতে হবে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ওষুধসামগ্রী বাজারজাত করা যাবে না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশে ২৮৯টি ইউনানী (কার্যকর ও অকার্যকরসহ), ২০৬টি আয়ুর্বেদিক, ৭১টি হোমিওপ্যাথিক, ৪৪টি ভেষজ ও ৩২৫টি অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানি রয়েছে। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ৫১ হাজারের বেশি ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদন করছে। সব ওষুধ দেশের চাহিদার ৯৮ ভাগ জোগান দিয়ে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে রপ্তানি করছে। ওষুধের বর্তমান বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মতো।

ওষুধ উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে ওষুধের বাজারের বড় একটি অংশ ভেষজ ওষুধের নিয়ন্ত্রণে। যারা প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরির নামে কোনো ধরনের ল্যাব টেস্ট ছাড়াই ঘরোয়াভাবে তৈরি করছে। অনিয়ন্ত্রিত মাত্রা ও পরিমাণে বিভিন্ন উপাদান মেশাচ্ছে। সংরক্ষণের জন্য সঠিক তাপমাত্রা কোল্ড বা চেইন পদ্ধতি মানছে না। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা হচ্ছে ইচ্ছামতো। রোগীদের আকৃষ্ট করতে প্রচারপত্র বিলি, ক্যাবল অপারেটরে বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি ফেসবুকে পেজ ও গ্রুপ খুলে বিভিন্ন নামে বিক্রি করছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা হাঁপানির ওষুধে উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েড, মোটা হওয়ার ওষুধে পেরিয়েক্টিন, যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধে সিল্ডেনা সাইট্রেট, ত্বক ফর্সার ক্রিমে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, দাঁত পরিষ্কারের ওষুধে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড ব্যবহার করছে। কিন্তু স্টেরয়েড জীবনরক্ষাকারী উপাদান হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগে জীবন বিপন্ন হয়। সিল্ডেনা সাইট্রেট ‘ভায়াগ্রা’ তৈরির একটি উপাদান, যা দেশে নিষিদ্ধ। পেরিয়েক্টিটিন সাধারণত ব্যবহার হয় গরু মোটাতাজা করতে। এটি মানুষের কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় বিক্রির ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ফেসবুকে এ ধরনের কয়েক হাজার পেজ রয়েছে। এর মধ্যে যেসব পেজে বেশি ভিউ বা গ্রাহকের নজর বেশি সে ধরনের অনেক পেজ শনাক্ত করা গেছে। একেকটি পেজ একেক ধরনের ওষধি পণ্য বিক্রি করছে। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি, নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ঘোষণা দিয়ে ‘তাহারাত শপ’ নামে একটি ফেসবুক পেজে দাউদ, একজিমা, সোরিয়াসিস, ফাঙ্গাল ইনফেকশনের চিকিৎসায় ‘এলার্জি কিলার’ বড়ি বিক্রি করছে। এলার্জি কিউর বিডি নামক পেজে ‘এলার্জি কিউর’, আওয়া ইন্টারন্যাশনাল হার্ব পেজে ‘এলার্জি গো পাউডার’ বিক্রি করছে। রুজাইনা বেবি কেয়ার পেজে শিশুদের ত্বকের র‌্যাশ ও একজিমা, চুলকানি কমাতে আমদানি করা পণ্যের মোড়কে ‘এভিনো বেবি ডারমেক্সা ক্রিম’ বিক্রি করা হচ্ছে।

হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো, ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, রক্তের খারাপ কোলেস্টরল দূর ও রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রার নিয়ন্ত্রণে ‘পুরোটাই পিউর’ পেজে বিটরুপ পাউডার বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপককে দিয়ে পেজটিতে বিজ্ঞাপন করে প্রচার করা হচ্ছে।

ভিটা গ্যালারি নামক একটি পেজে হার্ট, মস্তিষ্ক ও জয়েন্টের সুরক্ষায় ‘ওমেগা-৩ ফিস ওয়েল ক্যাপসুল’, নারীদের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ‘গ্লুটাথিয়ন স্কিন ব্রাইটেনার ক্যাপসুল,’ হরমোনের চিকিৎসায় ‘মায়ো অ্যান্ড ডি-চিরো ইনোসিটল ক্যাপসুল,’ ত্বকের বলিরেখা কমাতে ‘কোলাজিন পেপটিডেস ক্যাপসুল’সহ আমদানি করা অন্তত ২০ ধরনের মালটিভিটামিন বিক্রি করা হচ্ছে। অ্যাজমা রিলিফ পেজে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ‘তুলসী প্লাস ক্যাপসুল’ ও ‘তুলসী প্লাস অ্যাস্ট্রাগ্যালাসা’ সিরাপ নাম দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

‘অর্গানিক দেশি ফুড’ পেজে বুক ধড়ফড় করা, বুকে চিনচিনে ব্যথা অনুভব, রক্তনালির কোলেস্টরেল দূর, হার্ট অ্যাটাক ঝুঁকি কমানো, হার্টের ব্লকেজ রোধ, উচ্চরক্তচাপ ও ক্যানাসারের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘অর্জুন হার্ট প্লাস’ বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া ঘুমের সমস্যা সমাধানে ‘স্লিপ কেয়ার প্লাস’, গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় ‘মেথি মিক্স প্লাস’ বিক্রি করা হচ্ছে। হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ব্লকের ঝুঁকি কমাতে ‘হোম রেমেডি জেনজার মিক্স টনিক’ বিক্রি করা হচ্ছে। পাইলস, এনাল ফিসার ও ফিস্টুলার চিকিৎসায় ‘ডেইলি হেলথ’ পেজে ডেইলি হেলথ সিরাপ বিক্রি করা হচ্ছে।

ব্যাক পেইন, অস্ট্রিওআর্থ্রাইটিসসহ শরীর ব্যথার চিকিৎসায় ‘তাখফিফুল শিফা’ পেজে তাখফিফুল শিফা পেইন রিলিফ অয়েল, ‘কাসরি পেজে’ কাসরি পেইন রিলিফ অয়েল এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ‘গ্যাস্টো কেয়ার’ সিরাপ বিক্রি হচ্ছে।

‘খাজা বনাজি’ পেজে অর্জুন গাছের ছালের গুঁড়া দিয়ে প্রস্তুত ‘অর্জুন হার্ট কেয়ার রেমিডি, যৌনবর্ধক সাপ্লিমেন্ট ‘মাজুনে খরদাল’ ও ‘টাইমিং বটিকা,’ এলার্জি জম, এলার্জি বিনাশ, সজিনা সুপারফুড ও গ্যাস্ট্রো রেমিডি বিক্রি করা হচ্ছে। শরীরের ইমিউনিটি সিস্টেম বাড়াতে ‘তাকাফি’ পেজে তাকাফি আমলা প্রাশ গুঁড়া বিক্রি হচ্ছে।

ফিরনাস নামের একটি পেজে ‘হ্যান্ড মেড বিউটি বার (হাতে তৈরি সাবান)’ ও শাওয়ার জেলসহ একাধিক পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। ‘অ্যালব্রাটোস বিডি’ পেজে আলট্রা হোয়াইট সোপ, ট্রিকালা সোপ, ডাবল গ্লুটা প্লাস পেঁপে গাজর সাবান ও ২০ মিনিটে ত্বক ফর্সা করতে গ্লুটা থিয়ন ক্রিম বিক্রি হচ্ছে।

‘সাইফুল হেলথি ফুড বিডি’ পেজে পুরুষদের যৌন-দুর্বলতার চিকিৎসা ‘কারামিত মালিশ,’ অশ্বগন্ধা নাইট ওভার, হালুয়া মোহাব্বাত, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ডায়ারিশ ক্যাপসুল বিক্রি করা হচ্ছে। ‘ভেষজ হেলথ কেয়ার’ পেজে স্ত্রীরোগের চিকিৎসায় ভেষজ রেমেডি, লিউকোন ফিমেল গার্ড ক্যাপসুল ও নারীদের ব্যবহারের জন্য ‘ইন্টিমেট ওয়াশ’ সাবান বিক্রি হচ্ছে। পুরুষদের প্রস্টেটগ্রন্থি সমস্যা ও কিডনির পাথর নির্মূলে ‘লাইফ গ্লো পেজে’ ঋষি মাশরুম, পাথরকুচি, জামবজি ও সাদা তেঁতুলের গুঁড়া দিয়ে তৈরি ইউরিন শেফা ক্যাপসুল বিক্রি করছে। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া সমাধানে ‘প্রাকৃতিক নিরাময়’ পেজে গ্যানোমিক্স ভেষজ ও মিক্স তেলাকচু পাতার বড়ি বিক্রি হচ্ছে। প্রস্রাবের ইনফেকশন ও কিডনির পাথর অপসারণে ‘মুয়াজ ফুড’ পেজে পাথরকুচি প্লাস এবং ‘গ্রিন কেয়ার’ পেজে ইউনির কেয়ার বড়ি বিক্রি করা হচ্ছে।

‘ন্যাচার বাংলা’ পেজে ঘন প্রস্রাবের চিকিৎসায় ‘ইউরিন গার্ড বড়ি’ ও পাউডার, ‘গ্রিন কেয়ার বিডি’ পেজে ইউরিন কেয়ার সাপ্লিমেন্ট, ‘আল নুর শিফা’ পেজে গ্র্যাস্টি নাশক, পাইলস নাশক শিফা ও হ্যাপি নাইট নামে ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। ‘জনস্বাস্থ্যবিদ জাকিরুল ইসলাম’ পেজে ‘ইউরিন ক্লিয়ার ফুড সাপ্লিমেন্ট, ‘গুড হেলথ’ পেজে ইউরিন ক্লিয়ার পণ্য ওষুধ হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বিডি হেলদি বিডি, অর্গানকি হালাল রেমিডি, ন্যাচারাল কেয়ার জোকের তেল, প্রাকৃতিক সুরক্ষা, অর্গানিক, প্রাকৃতিক নিরাময়, অর্গানিক ও মিফতাহুল ফুড পেজগুলোতে জটিল-কঠিন রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট ঘোষণা দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যালস কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ বলেন, অনুমোদন ছাড়া ওষুধ তৈরি বা বাজারজাত করা বেআইনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি গাইডলাইন অনুযায়ী, একাধিক শর্ত মেনে ওষুধ তৈরি ও বাজারজাত করতে হয়। ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন প্রচার নিষেধ। ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩’ অনুযায়ী ফেসবুক, ওয়েবসাইট, ইন্টারনেট মিডিয়ায় লাইসেন্স ছাড়া বিজ্ঞাপন আকারে ওষুধের প্রচার করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ জন্য জরিমানা ও পাঁচ বছরের জেলের বিধান রয়েছে। তদারকি প্রতিষ্ঠান মাঠপর্যায়ে নজরদারি করলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত।

বাংলাদেশ ইউনানী অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বুয়ামা) সভাপতি ডা. তাওহিদ আল বেরুনী বলেন, যেকোনো ব্র্যান্ডের ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে আলাদা লাইসেন্স নিতে হয়। রোগীদের ওপর ক্লিনিক্যাল আইটেমগুলোর প্রয়োগের জন্য সময়সীমার অনুমোদন নিতে হয়। সব শর্ত মেনে ওষুধ প্রস্তুত ও মান নিয়ন্ত্রণে প্যাকেজিং করতে হয়। ফলে যত্রতত্র তৈরি পণ্যকে মেডিসিন বলা যাবে না। ফুড সাপ্লিমেন্ট বা খাবার বলা যেতে পারে। যেগুলোর উপকারিতা প্রচার করা যেতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই ‘মেডিসিন’ হিসাবে তৈরি, প্রচার বা রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা সম্পূর্ণরূপে অনৈতিক।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মুখপাত্র ড. মো. আকতার হোসেন বলেন, অনলাইনে ওষুধ বিক্রি বন্ধের কার্যকর কার্যক্রম নেই। তবে সশরীরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। ওষুধ ও কসমেটিকস আইন-২০২৩ পাশ হয়েছে। আইনের আলোকে বিধির দরকার হয়। বিধি প্রণয়ন হয়েছে। এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিধি হলে অনলাইনসহ সব মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা সহজ হবে। এরপরও কেউ কেউ যদি প্রমাণসহ অধিদপ্তরকে জানায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, ওষুধ নকল বা ভেজাল হলে এর প্রথম ভুক্তভোগী রোগী। তবে সঠিক নিয়ম মেনে যারা ওষুধ উৎপাদন করে তাদের ওপরও পরোক্ষ চাপ পড়ে। ভেজাল ওষুধ সঠিক উৎপাদকদের মার্কেট নষ্ট করে। আমাদের লাইসেন্সিং ও রেগুলেটরি অথরিটির নিয়ম ও স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হয়। বড় কোম্পানিগুলো হারবাল মেডিসিন থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুসারে ওষুধ বানায়। কিন্তু সেটা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। অন্যদিকে যারা রিপ্যাকেজিং করে, এমন ভুঁইফোঁড়দের নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের দায়বদ্ধতাও নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার এসেছে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার নতুন ওষুধ আইন অনুযায়ী ঔষধ প্রশাসন, উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ও একাডেমিশিয়ানদের একটি বিধি করে দেবে। তখন শুধু হারবাল বা ভেষজই নয়, প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিও ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করে ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না। করলে ঔষধ প্রশাসন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD