বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন




ফসলের মৌসুমে টানা বৃষ্টি

খুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান-সবজি

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ১১:২২ am
ফসলের মাঠ ফসল মাঠ Climate Change Conference COP27 সম্মেলন Conference জলবায়ু climate cop কপ জলবায়ু Boro paddy farmers ইরিগেশন Irrigation Rice ধান আমন ধান কৃষক agri সেচ মৌসুম ডিজেল climate jamuna flood Water level Of Jamuna jamuna-river প্লাবন flood flood Disaster Flood Safety adb Flood Flooding overflow water rain snow coastal storms storm surges dangerous floodwaters floodwater বন্যা কবলিত পানি প্রবাহ প্রবাহিত পানি জোয়ার ভাটা কৃষি জোয়ার-ভাটা দুর্যোগ বন্যা বন্যার্ত পানি বন্যা-Kurigram ফসল Flash floods threaten haor crops in Netrokona, farmers fear heavy losses Flash flood haor crops Netrokona farmer
file pic

খুলনায় বোরো ধান ঘরে তোলার মৌসুমে টানা অতি বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এপ্রিলজুড়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহের ভারি বর্ষণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান, গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়েও কৃষকরা শঙ্কায় পড়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ মৌসুমে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টরে। কিন্তু মৌসুমের শেষদিকে অতি বৃষ্টিতে অন্তত ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান ও সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো খেত পানিতে ডুবে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ ভাগ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ৯ বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গেল মাসে জেলায় গড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়া ১ মে ১৯ মিলিমিটার, ৩ মে ১০ মিলিমিটার, ৪ মে ৪ মিলিমিটার এবং ৫ মে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। টানা এ বৃষ্টিতে নিচু এলাকার ধানখেতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর ও মধুগ্রাম এবং রূপসা উপজেলার বিল জাবুসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক কৃষক পাকা ধান কাটার আগেই খেত ডুবে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কোথাও কোথাও কাটা ধান কৃষকরা শুকাতে পারেননি। রূপসার বাগমারা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম বলেন, এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু ধান পাকতেই টানা বৃষ্টি শুরু হয়। বিল জাবুসার জমি পুরো পানির নিচে চলে গেছে। অনেক ধানের শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ছে। এখন শ্রমিক দিয়ে ধান কাটলেও খরচ উঠবে কিনা সেই চিন্তায় আছি। একই গ্রামের কৃষক মো. ওমর আলী শেখ বলেন, ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটের সঙ্গে মজুরিও অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে ৬-৭শ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন ১২শ থেকে ১৩শ টাকা দিতে হচ্ছে। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কাজ করিয়েও সময়মতো ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতি আরও বেড়েছে। কৃষক আলেমান শেখ বলেন, বীজ, সার, কীটনাশকসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। ঋণ করে চাষ করেছি। এখন বৃষ্টিতে ধান নষ্ট হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা না করে, তাহলে অনেকেই আগামী মৌসুমে চাষ করতে পারবে না। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ ও ধান কাটার সময় শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। তবে রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদায় শ্রমিক সংকটের কারণে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করেছেন। জেলায় হেক্টরপ্রতি গড়ে ৪ দশমিক ৭৪ টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তবে অতি বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে।
(যুগান্তর)




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD