শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন




প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন সরকারের ৩৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:১৮ pm
Public Administration secretary District Commissioner convention meeting জেলা প্রশাসক ডিসি সম্মেলন Bangladesh Government gov govt বাংলাদেশ সরকার ঢাকা Dhaka সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারি প্রশাসন সচিবালয় ‎মন্ত্রণালয় প্রশাসন Bangladesh Government gov govt
file pic

সরকারি প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন বাংলাদেশের ৩৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দুই সপ্তাহের এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত ন্যাশনাল স্কুল অব পাবলিক পলিসিতে। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত।

গত বুধবার (০৪ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার পাঁচজন এবং যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ৩০ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। আগামী ৮ নভেম্বর তাদের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সরকারি আদেশ অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের যাতায়াত, আবাসন, খাবার এবং প্রশিক্ষণসংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করবে পাকিস্তান সরকার। এ সফরে বাংলাদেশ সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তর থেকে কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হয়েছে। তালিকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চারজন কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দুজন করে কর্মকর্তা অংশ নিচ্ছেন। অন্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রশিক্ষণের জন্য কর্মকর্তাদের নাম চূড়ান্ত করে।

প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা জামান জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশটির প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হবে। পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি নীতিকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক কর্মকর্তাকে তাদের সফর ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিতে যান বাংলাদেশের ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে ৪ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই দলে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার একজন এবং যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ১১ জন কর্মকর্তা ছিলেন। প্রথম দফার প্রশিক্ষণের পর এবার দ্বিতীয় দফায় আরও বড় পরিসরে ৩৫ কর্মকর্তাকে পাকিস্তানে পাঠানো হচ্ছে।

বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে প্রশিক্ষণে পাঠানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে দেশের পুরোনো একটি গন্তব্য থেকে সরে আসার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের উত্তরাখন্ডের মুসৌরিতে অবস্থিত লাল বাহাদুর শাস্ত্রী রাষ্ট্রীয় প্রশাসন একাডেমি ছিল বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিশেষ করে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তারা সেখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণে অংশ নিতেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ভারতের দিল্লিভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর গুড গভর্ন্যান্সের (এনসিজিজি) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দু’দেশের মধ্যে এ বিষয়ে একাধিকবার চুক্তি নবায়ন করা হয়। ২০১৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় চুক্তি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকায় তৃতীয় দফার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সর্বশেষ চুক্তিটির মেয়াদ ছিল এক বছর। পরবর্তী সময়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত এর মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণে পাঠানো বন্ধ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাকে এ কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে বিদেশে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বিকল্প গন্তব্য হিসেবে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্ব পাচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানালেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেই প্রস্তাবে সাড়া দেয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব এবং বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির পাকিস্তান সফরের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই সফরে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেয়া হলে তাতে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়।

পরবর্তী সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমন্ত্রণপত্র পাঠায়। সেই আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণে ৩৫ কর্মকর্তাকে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দু’দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তির আগে প্রশাসনিক পর্যায়ে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে আপাতত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে দু’দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রগুলো এ উদ্যোগকে প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখছে।

এদিকে জনপ্রশাসন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশে প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল না থেকে একাধিক দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো প্রয়োজন। ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেই বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকা উচিত। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব ও পেশাগত দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হতে পারে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD