বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন




বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হজযাত্রী নিচ্ছে সৌদি এয়ারলাইন্স, দুর্ভোগ

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৪ জুন, ২০২৩ ৪:১৭ pm
সৌদিয়া saudi arabia bangladesh flag Saudi Arabia saudi crown prince Mohammed bin Salman Al Saud MBS সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি আরব সৌদি আরব বাংলাদেশ saudi flag saudia সৌদিয়া এয়ারলাইন্স Hajj Muslims perform Umrah Grand Mosque Saudi holy city Mecca Saudi Arabia KSA Islamic pilgrimage Mecca Saudi Arabia holiest city Muslims mandatory religious duty ইসলাম Saudi kaba mecca mokka hajj সৌদি Kaba hajj islam makka macca baitulla হজ কাবা মক্কা বাইতুল্লাহ ইসলাম Outlookbangla.com আউটলুকবাংলা ডটকম macca makka kaba hajj ওমরাহ
file pic

হজযাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিয়ম রয়েছে, বাংলাদেশ থেকে প্রত্যেক হজযাত্রীকে নিতে হবে ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটে। এ কারণে জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। হজযাত্রীদের জন্য নির্বিঘ্নে চেকইন ও ইমিগ্রেশনের আয়োজন করা হয়েছে আশকোনা হজ ক্যাম্পে। তবে সেই নিয়ম ভঙ্গ করে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হজযাত্রী বহন করছে সৌদি এয়ারলাইন্স।

হজ ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে, বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হজযাত্রী বহনের বিষয়টি সৌদি এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ জানায়নি। তবে সৌদি এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশি এজেন্ট বলছে, ক্যাপাসিটি লস হয়েছে, সেটা সমন্বয় করতেই কমার্শিয়াল ফ্লাইটে হজযাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

হজযাত্রীদের কষ্ট লাঘব ও জটিলতা কমাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে হজযাত্রী বহনের অনুমতিপ্রাপ্ত এয়ারলাইনগুলো ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রী বহন করবে। এ ছাড়া হজযাত্রীদের চেক ইন ও বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন হচ্ছে আশকোনা হজ ক্যাম্পে।

অন্যদিকে রোড টু মক্কার আওতায় হজযাত্রীদের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশনও সম্পন্ন হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ফলে হজযাত্রীরা সৌদি আরবে পৌঁছে কোনও জটিলতা ছাড়াই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি হোটেলে চলে যেতে পারছেন।

একই সঙ্গে হজযাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরে লাগেজ সংগ্রহ করতে হয় না। হজ ব্যবস্থাপনার আওতায় তাদের লাগেজও পৌঁছে দেওয়া হয় হোটেলে। বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হজযাত্রী বহন করলে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হজযাত্রীর। বরং সৌদি আরবে লাগেজ সংগ্রহ, ইমিগ্রেশনসহ নানা জটিলতার মধ্যে পড়তে হবে তাদের।

জানা গেছে, সৌদি এয়ারলাইন নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট এসভি-৮০৫ এ হজযাত্রী বহন করা হয়েছে। এসভি ৮০৫ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় ১৩ জুন রাত ১টায়। ফ্লাইটটি রিয়াদে গিয়ে পৌঁছানোর শিডিউল সময় (সৌদি সময়) ভোর ৪টা ৫ মিনিটে। রিয়াদ বিমানবন্দরে তাদের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এমকি রিয়াদ বিমানবন্দরে তাদের ছয় ঘণ্টা অপেক্ষার পর জেদ্দাগামী সৌদি এয়ারলাইনের আরেকটি ডমেস্টিক ফ্লাইটে উঠতে হবে। এসভি ১০২৭ ফ্লাইটে রিয়াদ থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা উড়ে তারপর জেদ্দা পৌঁছাবেন যাত্রীরা। এই বাণিজ্যিক ফ্লাইটে প্রায় ৭০ জন হজযাত্রী ছিলেন।

আশকোনা হজ ক্যাম্পের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, হজযাত্রীদের ডেডিকেটেড ফ্লাইটের মাধ্যমে সৌদি আরবে নিতে হবে, এটা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিয়ম। বাণিজ্যিক ফ্লাইটে হজযাত্রী বহনের বিষয়টি সৌদি এয়ারলাইন আমাদের জানায়নি।

এদিকে গত ৩ জুন হজ ফ্লাইটের ক্যাপাসিটি লস সামলে অতিরিক্ত হজ ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়ে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সে নির্দেশনা দিয়েছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়। এয়ারলাইনটির কান্ট্রি ম্যানেজারকে ক্যাপাসিটি লস পূরণের লক্ষ্যে জেদ্দায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত হজ ফ্লাইট প্রদানের বিষয়ে সৌদি আরবের জিএসিএর কাছে আবেদন করতে বলা হয়। একই রকম নির্দেশনা দেওয়া হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনকেও। ইতোমধ্যে সৌদি আরবে আবেদন করে ফ্লাইটের সংখ্য বাড়ানোর অনুমতি চেয়েছে বিমান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাব নেতা বলেন, সরকার নির্বিঘ্নে ও হজযাত্রীদের কষ্ট কমাতেই ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নিয়ম করেছে, এ জন্য বিমান ভাড়াও অনেক বেশি। সেটি না করে হজযাত্রীদের কমার্শিয়াল ফ্লাইটে নেওয়া হলে তাদের বেশি কষ্ট হবে। সৌদি এয়ারলাইন এই নিয়ম না মেনে হজযাত্রীদের দুর্ভোগের মধ্যে ফেলেছে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।

এ বিষয়ে সৌদি এয়ারলাইনের কোনও কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এয়ারলাইনটি বাংলাদেশে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) ইউনাইটেড লিংক লিমিটেডের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, সৌদি এয়ারলাইনের ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইটের কিছু ক্যাপাসিটি লস হয়েছে, সেটা সমন্বয় করতেই কমার্শিয়াল ফ্লাইটে হজযাত্রী নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে কমার্শিয়াল ফ্লাইটে হজযাত্রীরা রিয়াদে যাচ্ছেন, তারপর সেখান থেকে ডমেস্টিক ফ্লাইটে জেদ্দায় যাবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে কমার্শিয়াল ফ্লাইটে হজযাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

২৫ মে বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু করেছে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৭ জুন (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট এক লাখ ২২ হাজার ২২১ জন হজ পালনে যাচ্ছেন। এর মধ্যে মোট যাত্রীর অর্ধেক ৬১ হাজার ১১১ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে বিমান। বাকি যাত্রীদের পরিবহন করছে সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাই নাস। [BT]




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD