রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন




নতুন কেনার বদলে লিজে উড়োজাহাজ আনছে বিমান

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৪ ২:৩৪ pm
টার্মিনাল এয়ারপোর্ট HSIA CAAB hazrat shahjalal international airport dhaka biman হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমানঘাঁটি Hazrat Shahjalal International Airport বিমানবন্দর বিমান বন্দর Hazrat Shahjalal International Airport Flight International biman bangladesh airline বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এয়ার লাইন্স শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিমান বন্দর এয়ারলাইনস এয়ার লাইনস ফ্লাইট
file pic

নতুন ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে অনেক দূর এগিয়েও গিয়েছিল সংস্থাটি। ইউরোপের এয়ারবাস নাকি যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কেনা হবে, তা নিয়ে চলছিল আলোচনা। এর মধ্যেই দুটি পুরনো উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান। বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ দুটি লিজ নিতে আহ্বান করা হয়েছে দরপত্র।

বিমানের একটি সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত নতুন উড়োজাহাজ কেনার পক্ষে নয়। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমবর্ধমান যাত্রীর চাপ সামাল দিতে লিজে দুটি উড়োজাহাজ আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিমানের বহরে থাকা উড়োজাহাজের দুটি লিজে নেয়া। সেগুলোর লিজের মেয়াদ শেষের পথে। এ কারণেও বহরে নতুন করে উড়োজাহাজ যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

নতুন করে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয়া হবে ছয় বছরের জন্য। এর মধ্যে প্রথম উড়োজাহাজটি ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ও দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি ২০২৫ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে সংস্থাটির বহরে যুক্ত করা হবে। আহ্বান করা দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, উড়োজাহাজগুলোর বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ১৫ বছর (২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে)। লিজ নেয়ার ক্ষেত্রে একই কোম্পানির দুই উড়োজাহাজকে প্রাধান্য দেবে বিমান।

বোয়িংয়ের তৈরি ৭৩৭-৮ মডেলের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজগুলো সাধারণত মাঝারি পাল্লার রুটে বেশি ব্যবহৃত হয়। এগুলোর সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ১৮৬। তবে বিমানের আহ্বান করা দরপত্রে ১৫০টি ইকোনমি ও ১২টি বিজনেস ক্লাস আসন নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

দুটি উড়োজাহাজ লিজের জন্য দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‌আমরা দরপত্র আহ্বান করেছি। ক্রমবর্ধমান যাত্রীর চাপ সামাল দিতে উড়োজাহাজ দুটি লিজ নেয়া হচ্ছে।’

বিমানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‌আসন্ন হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহনের জন্য উড়োজাহাজ দুটি ব্যবহার করা হবে। এজন্য আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যেই এগুলো বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা হচ্ছে। সরকার আপাতত নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াটি স্থগিত রেখেছে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ছয়টি বোয়িং ৭৩৭ ও পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ।

৭৭৭-৩০০ ইআর মডেলের উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে ২০১১ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে যুক্ত হয়। ২০১৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে যুক্ত হয় দুটি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হয়। অন্যদিকে ২০২০ ও ২০২১ সালে পর্যায়ক্রমে ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত করে বিমান।

বর্তমানে ২৩টি আন্তর্জাতিক ও সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ৩১ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে। ওই অর্থবছর বাংলাদেশে বিমানের আন্তর্জাতিক মার্কেট শেয়ার ছিল ২২ শতাংশ।

ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা এবং নতুন নতুন গন্তব্য তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছিল বিমান। ওই সময় বিমানের কাছে উড়োজাহাজ বিক্রির জন্য পৃথকভাবে প্রস্তাব করেছিল এয়ারবাস ও বোয়িং। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন কূটনীতিকরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে একাধিক বৈঠকেও আলোচনা করেন। ওই সময় সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, এয়ারবাস ও বোয়িং—দুই প্রতিষ্ঠানই বেশ ভালো প্রস্তাব দিয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবগুলো মূল্যায়ন করছে। যে প্রস্তাব দেশের স্বার্থে ভালো হবে, সেটিই বিবেচনা করা হবে।

বিগত সরকারের আমলে উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ও দুটি পুরনো উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার বিষয়ে জানতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। গতকাল একাধিকবার চেষ্টা করেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি উল্লেখ করে খুদে বার্তা দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। বণিক বার্তা




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD