শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন




রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারক

শান্তিতে নোবেল পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার নাভি পিল্লাই

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৩৪ pm
শান্তি Peace Nobel Prize নোবেল পুরস্কার
file pic

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টার জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পিল্লাই বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্বে আছেন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন কেন্দ্রিক। ২০১৭ সালে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশসহ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাড়ি জমায়। এ নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করে গাম্বিয়া।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেলে নরওয়ের অসলোতে শান্তিতে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই।

দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারও ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

পিল্লাইয়ের পরিচয় হিসেবে নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, তিনি ১৯৪১ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পর তিনি এই ক্ষেত্রের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিল্লাই এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে সমন্বিত বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ দেখিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

নাভি পিল্লাই বিভিন্ন রাষ্ট্র ও নেতাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বারবার আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে যারা পেলেন
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামেও পরিচিত।

জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি কাগান রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। রাসায়নিক অণুর ‘মিরর ইমেজ’ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই আবিষ্কার ওষুধ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি অ্যান কারসন। ধ্রুপদি সাহিত্যধারার সঙ্গে সৃজনশীল ও নিরীক্ষাধর্মী সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ সৃষ্টির সাহসী ও অভিনব কাজের জন্য এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে।

নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

শান্তিতে নোবেল পাওয়া কে এই নাভি পিল্লাই

শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তাকে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নরওয়ের নোবেল কমিটি। নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী এবং বিচারক।

তিনি ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পর হার্ভার্ড ল স্কুল থেকে এলএলএম ও ডক্টরেট (এসজেডি) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। হার্ভার্ড থেকে আইনে ডক্টরেট প্রাপ্ত প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান নারী নাভি পিল্লাই।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা অনেক রাজনৈতিক বন্দি ও কর্মীর পক্ষে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করে নাভি পিল্লাই।

১৮৯৫ সালে সুইডিশ শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেলের উইলের মাধ্যমে সৃষ্ট এই শান্তি পুরস্কার তাকেই দেওয়া হয়, যিনি বা যারা জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত কিংবা হ্রাস এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD