ফেসবুক গ্রুপে সংবাদ শেয়ার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস লাইভ২৪ ডটকমের প্রতিনিধি। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে কোনো নিউজ শেয়ার না করার মুচলেকা চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
শুক্রবার (৭ এপ্রিল) বহিষ্কারের হুমকি ও মুচলেকা চাওয়ার কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবুল কালাম বলেন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ‘শিক্ষক নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীকে কাছে টানার চেষ্টা, গভীর রাতে ভিডিও কল’ শিরোনামে একটি নিউজ ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির (ডিআইইউসাস) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে শেয়ার করি। পরবর্তী সময়ে ওই দিন দুপুরের পরে আমার কাছে কল আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে বিভাগের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ আহমেদ শোভন আমাকে কয়েকঘণ্টা বসিয়ে রেখে নানান তির্যক প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে এমন সংবাদ শেয়ারের জন্য আমার ছাত্রত্ব বাতিল ও বহিষ্কারের হুমকি দেন। পরবর্তীতে এমন নিউজ শেয়ার করবো না, এমন মুচলেকাও চেয়ে বসেন। এঘটনায় আমি ভীত ও অনিরাপদ বোধ করছি।
এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংবাদিক সমিতি। বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের হুমকি ও হেনস্তার ঘটনা বেড়েই চলছে। এসব ঘটনার কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে না। ক্যাম্পাস লাইভের প্রতিবেদক আবুল কালামকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি এবং মুচলেকা চাওয়ার ঘটনা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধা এবং স্বাধীন গণমাধ্যম ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপন্থি।
তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইনে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘটনাস্থলে থাকা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একজন শিক্ষক জানান, আমি পুরো বিষয়টি অবগত আছি। তিনি (বিভাগীয় প্রধান) যা করেছেন সেটি করতে পারেন না। তিনি আসলেই অতিরিক্ত বলে ফেলেছেন। তবে ট্রাস্টি বোর্ডের চাপ থাকায় এভাবে বলতে বাধ্য হন অনেক শিক্ষক।
অভিযুক্ত শিক্ষক সাজ্জাদ আহমেদ শোভন এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আসলে ভুল বোঝাবুঝি থেকে হয়েছে। আমি তাকে এভাবে বলতে চাইনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলামকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।