বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ন




ব্রিকস ব্যাংকে যোগ দিতে চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই, ২০২৩ ১০:৪৬ am
Brics Brazil Russia India China and South Africa BRICS ব্রিকস ব্রিক ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা New Development Bank NDB New নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এনডিবি
file pic

ব্রিকস জোটের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দেওয়া সংক্রান্ত চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এ বৈঠকে ‘ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি, ২০২৩’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইনের খসড়া চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের মেয়াদ ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৪ বছর করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে বিকালে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক নামে নতুন ব্যাংক করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাণিজ্য এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো বা টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন করা।

মাহবুব হোসেন বলেন, আটটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এই ব্যাংকে অংশ গ্রহণ করে। অংশগ্রহণের সেই চুক্তি রেটিফাই (অনুসমর্থন) করার প্রয়োজন ছিল, মন্ত্রিসভা ওই চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই চুক্তি অনুমোদন হওয়ায় সুবিধা কী পাওয়া যাবে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কয়েকটি প্রজেক্ট আছে, এসব প্রজেক্টের ছয়শ কোটিরও বেশি টাকা পাইপলাইনে আছে। অনুসমর্থন হয়ে গেলে ওই প্রকল্পগুলো পাওয়া সহজ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমরা (বাংলাদেশ) চাঁদা দিই। কিন্তু তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি অর্থায়ন পাচ্ছি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিশ্বব্যাংক, এডিবির মতো দাতা সংস্থা যারা আছে, তারা ফসিল ফুয়েলের ওপর প্রকল্পে অর্থায়ন করতে চায় না। এই ব্যাংকে সে বিষয়ে বিধিনিষেধ নেই। তারা এখানে অর্থায়ন করছে। অর্থায়নের জন্য আমাদের প্রকল্প বাছাই করছে।

মাহবুব হোসেন জানান, ব্রিকসের আওতায় এই ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে। আমরা এই ব্যাংকের সদস্যপদ ও শেয়ার নিয়েছি। এখন তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা আরও নিবিড় করতে চাই। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প পাইপলাইনে আছে। ওই দুটি প্রকল্পে এই ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হবে।

ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসির খসড়া অনুমোদন : ‘ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি, ২০২৩’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমাদের ট্যারিফ কমিশন আছে, তারা এ সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে থাকে। এই পরামর্শ প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো পলিসি ছিল না। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ট্যারিফ পলিসির খসড়া উপস্থাপন করা হয়। মূলত চেষ্টা করা হবে বাংলাদেশের শিল্পায়নকে সহায়তা করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বা বাজারে যাতে বাংলাদেশি পণ্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারে। সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে ট্যারিফ পলিসির একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। সেটির খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হলো। এটি বাংলাদেশে প্রথম করা হলো। ট্যারিফ পলিসিতে ১৭টি নীতি রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মনিটরিং ও অডিট কমিটি করা হয়েছে।

বিএসএমএমইউর ব্যয় নিরীক্ষায় আইন সংশোধন : ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৩’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়ায় মহা হিসাব নিরীক্ষককে দিয়ে বিএসএমএমইউর ব্যয় নিরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন আমাদের আছে, যেটি ১৯৯৮ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। সেই আইনের কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তনের জন্য সংশোধনী আনা হয়েছে। ওই আইনে ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারারের মেয়াদ আছে তিন বছর। কিন্তু অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়াদ চার বছর। নতুন সংশোধনীতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হয়েছে। আগের আইনে চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার শব্দগুলো থাকলেও সেগুলোর জায়গায় বাংলায় আচার্য, উপাচার্য বা উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ ব্যবহার করা হয়েছে।

‘বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়’ আইনের খসড়া অনুমোদন : সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নাম হবে ‘বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়’। এ জন্য বিদ্যমান ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) আইন, ২০২৩’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

জেলা আইন : মন্ত্রিসভার বৈঠকে জেলা (চট্টগ্রাম পার্বত্য জেলাসমূহে বলবৎকরণ) আইন, ২০২৩-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত সামরিক শাসনের সময়ের অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হচ্ছে। বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন নেই বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এছাড়া মন্ত্রিসভার এ বৈঠকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ (অধস্তন কর্মচারী) কল্যাণ তহবিল আইন, ২০২৩’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিন মাসে মন্ত্রিসভার ৬৫ সিদ্ধান্তের ৩৪টি বাস্তবায়িত : চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে অর্থাৎ তিন মাসে মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া ৬৫টি সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩৪টি বাস্তবায়ন হয়েছে। মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৩ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD