বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক শিশুশ্রম জরিপ অনুযায়ী, দেশে শিশু শ্রমিকের বর্তমান সংখ্যা ১৭ লাখ ৭৬ হাজার। গত ৯ বছরে ৭৭ হাজারের বেশি শিশু শ্রমিক বেড়েছে। আর গত ১০ বছরে দেশে শিশু শ্রমিক বেড়েছে ৮০ হাজার। ২০১৩ সালের দেশে শিশু সংখ্যা ছিল ১৭ লাখ। যা ২০২২ সাল শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮০ হাজার।
বুধবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জাতীয় শিশুশ্রম জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দুই লাখ কমলেও, ঝুঁকিপূর্ণ নয় এমন খাতে বেড়েছে তিন লাখ।
বিবিএসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে মোট শিশুর তুলনায় কর্মজীবী শিশুর হার ৮.৯০ শতাংশ। ২০১৩ সালের জরিপে এই সংখ্যা ছিল ৮.৭০ শতাংশ। একইভাবে, শিশুশ্রমের হার ২০১৩ সালের ৪.৩০ শতাংশের চেয়ে বেড়ে ২০২২ সালে ৪.৪০ শতাংশ হয়েছে।
রিপোর্টে আরো বলা হয়, বর্তমানে ৩৭ লাখ শিশু কোন ধরণের শ্রমের সাথে যুক্ত নয়। যা একটি ইতিবাচক দিক।
বিবিএস বলছে, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫ জন। ২০১৩ সালে তা ছিল ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৪ জন।
২০২১ সালের জুনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬০ মিলিয়ন। শেষ চার বছরে বাড়ে ৮.৪ মিলিয়ন।
জরিপে বলা হয়, দেশে অনুমোদিত কাজ করে এমন শিশুর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২ সালে কাজে জড়িয়ে পড়া শিশুর সংখ্যা ৩৫ লাখ ৪০ হাজার, ২০১৩ সালে এমন শিশু ছিল ৩৪ লাখ ৫০ হাজার।
এতে দেখা যায়, দেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়া শিশুর সংখ্যা কমেছে। ২০২২ সালে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়া শিশুর সংখ্যা ১০ লাখ ৭ হাজার। ২০১৩ সালে তা ছিল ১২ লাখ ৮০ হাজার।
বিবিএস বলছে, দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫ জন। ২০১৩ সালে তা ছিল ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৪ জন।