শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন




শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জাতিসংঘের

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬ ১:০৬ pm
United Nations Nation UN ইউএন জাতিসংঘ পরিষদ secretary general United Nations UN António Manuel de Oliveira Guterres জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও ম্যানুয়েল দে অলিভেরা গুতেরেস
file pic

চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলে ইতোমধ্যে এল নিনোর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক মাসে এর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দেশগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এতে মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধরন, বায়ুপ্রবাহ ও বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটে। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এ ঘটনা দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস।

ডব্লিউএমওর সর্বশেষ মৌসুমি পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে এল নিনো ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সংস্থাটি এল নিনোর তীব্রতাকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী এবং অত্যন্ত শক্তিশালী-এই চারটি স্তরে ভাগ করে থাকে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো আরও শক্তিশালী হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, ভারী বৃষ্টিপাত এবং স্থল ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বাড়তে পারে। বিভিন্ন জলবায়ু মডেলে একই ধরনের পূর্বাভাস পাওয়া যাওয়ায় এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের আস্থাও বেশি।

ডব্লিউএমওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের বৈশ্বিক উষ্ণতার অন্যতম কারণ ছিল এল নিনো। আর ২০২৪ সাল ছিল পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর। যদিও এল নিনোর সর্বোচ্চ প্রভাব সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেখা যায়, তবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এর প্রভাব আরও কিছু সময় স্থায়ী হতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষি, স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও মৌসুমি পূর্বাভাস আরও জোরদার করা হচ্ছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও ভারতীয় উপমহাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হতে পারে।

তবে ডব্লিউএমও বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর সংখ্যা বা তীব্রতা বেড়েছে-এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই। কিন্তু সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD