সকালে সাধারণত হালকা খাবার খেয়ে দিন শুরু করা হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকেই পুষ্টিকর খাবার হিসেবে খাদ্যতালিকায় কলাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। নাশতায় কলা রাখা অবশ্য ভালো। এটি শরীরকে অল্প সময়ের মধ্যে চাঙা করে, আবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কলা পুষ্টিসমৃদ্ধ হলেও সকালে এটি খাওয়া সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে উঠেই খালি পেটে কলা খাওয়া ঠিক নয়। এতে রক্তে শর্করার বা ব্লাড সুগারের মাত্রার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলায় ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজের মতো প্রাকৃতিক শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট থাকে। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ২৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। এ ক্ষেত্রে সকাল বেলা খালি পেটে কলা খাওয়া হলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যেতে পারে।
এ জন্য ডায়াবেটিসের রোগী বা ডায়াবেটিসজনিত সমস্যা থাকলে সকালে খালি পেটে কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়। অবশ্য কলায় থাকা আঁশ রক্তে শর্করার শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীর করে, যা কৃত্রিম চিনিযুক্ত খাবারের তুলনায় কলাকে নিরাপদ করে তোলে।
এদিকে কলা খাওয়ার আগে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখার কথাও বলা হয়। কলা যদি অতিরিক্ত পেকে যায়, তাহলে তাতে শর্করার পরিমাণও বেড়ে যায়, যা আপনার সুগার লেভেল দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার কিছুটা কাঁচা বা শক্ত কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।
সকালে ঘুম থেকে উঠে কেবল কলা খেলেই আপনার রক্তে শর্করা যেমন তাৎক্ষণিক বাড়ে, আবার তা নেমেও যায়। যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সুগার ক্র্যাশ বলা হয়। এ কারণে দুপুরের আগেই প্রচণ্ড ক্লান্তি বা ক্ষুধা অনুভব হয়। সকালের নাশতায় শুধু কলা না খেয়ে, সঙ্গে ডিম, বাদাম বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। কলায় বিদ্যমান প্রোটিন ও ফ্যাট সুগারের শোষণকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আপনাকে দীর্ঘ সময় সুস্থ ও সতেজ রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।