শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ন




বড় অংশই জন্ম তারিখ ও বয়স সংশোধন সংক্রান্ত

ঝুলে আছে এনআইডি সংশোধনের দেড় লাখ আবেদন

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৫৮ pm
smart card smart-card স্মার্টকার্ড National Identity Card NID এনআইডি জাতিয় পরিচয় পত্র পরিচয়পত্র nid জাতিয় পরিচয় পত্র পরিচয়পত্র
file pic

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের প্রায় দেড় লাখ আবেদন ঝুলে আছে। বেশিরভাগই জন্ম তারিখ, বয়স ও বাবা-মায়ের নাম সংশোধন সংক্রান্ত। ‘ঘ’ ক্যাটাগরির এসব সংশোধন আবেদন নিয়ে জটিল পরিস্থিতি এড়াতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই অবস্থায় তারা এসব আবেদন নিষ্পিত্তির ক্ষমতা মাঠপযায়ে হস্তান্তরসহ এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একটি কমিটিও গঠন করেছে।

ইসির জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের তৈরি করা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশন ২০২০ সালে ‘কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ এর মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়া চালু করে। ওই বছর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে এনআইডির বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের জন্য ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৭০টি আবেদন পেয়েছে ইসি। এর মধ্যে ৬২ লাখ ৩০ হাজার ৫৯২টি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে তারা। নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের মধ্যে ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৩৮টি আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫৪টি। সবমিলিয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৮টি আবেদন এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বছরে গড়ে ৯ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭টি বা প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৬৮৮টি সংশোধন আবেদন পেয়েছে ইসি। আর বছরে গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আবেদনের নিষ্পত্তি করেছে সংস্থাটি।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংশোধন আবেদনগুলোকে ছয়টি ক্যাটাগরিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়: ক, ক-১, খ, খ-১, গ এবং ঘ। ‘ক’ ক্যাটাগরিতে বানান সংশোধনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। ‘খ-১’ ক্যাটাগরিতে বিয়ে-সংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো পড়ে। ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি ও তার বাবা-মায়ের নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। আর ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে জন্ম তারিখ, বয়স এবং বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তনের বিষয়গুলো থাকে। এসবের মধ্যে ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা সবচেয়ে জটিল।

ইসি বলছে, পাসপোর্ট, জন্ম সনদ, ভ্রমণ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং বাবা-মায়ের এনআইডির মতো প্রয়োজনীয় প্রমাণক বা নথিসহ অধিকাংশ সংশোধন আবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে কর্মকর্তারা যখন সংশোধনের জন্য আবেদন করা তথ্যের সাথে নথিপত্রগুলো মিলিয়ে দেখেন, তখন প্রায়শই তাতে অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। এমনকি অনেক আবেদনকারী পাঁচ-ছয়বার আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ার পরও একই সংশোধনের জন্য অনলাইনে পুনরায় আবেদন করেছেন। যা আবেদনের জট বা ব্যাকলগ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আর এসব কারণেই এ নিয়ে জটিলতা বেশি হয়।

এদিকে, এনআইডি সংশোধনের ‘ঘ’ ক্যাটাগরির আবেদনগুলো তথা জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধন ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ করে মাঠপর্যায়ে ফিরিয়ে দিয়েছে ইসি। এখন থেকে ইসির জেলা বা উপজেলা/থানা কার্যালয় থেকে এসএসসি, জেএসসি ও পিএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ ও বয়স সংশোধন করা যাবে। এজন্য নাগরিকদের ঢাকায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ছুটে আসতে হবে না। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও সোমবার প্রকাশ করেছে ইসি।

এছাড়া ‘ঘ’ ক্যাটাগরিসহ এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সহজতর করতে ইসি চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। গত ১৬ জুলাই গঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) এবং সদস্য সচিব হিসেবে সহকারী পরিচালক (সংশোধন ও প্রতিস্থাপন) দায়িত্ব পালন করবেন। সদস্য হিসেবে আছেন, উপপরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) ও সহকারী পরিচালক (মুদ্রণ ও বিতরণ ইউনিট)। এই কমিটিকে অন্যান্য ক্যাটাগরির আবেদন নিষ্পত্তি সহজ করাসহ ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হতে প্রমাণক অপর্যাপ্ত থাকায় বাতিল করে নিষ্পত্তিকৃত এবং পুনঃদাখিলকৃত আবেদনে পর্যাপ্ত প্রমাণক দাখিল করা হলে সেসব আবেদন নিষ্পত্তির জন্য করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

এনআইডি নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশনস) সাইফুল ইসলাম বলেছেন, এনআইডি সংশোধন নিয়ে নাগরিকদের দুর্ভোগ ও হয়রানি এড়াতে নানা ব্যবস্থা নিচ্ছেন তারা। কমিটির সুপারিশ পেলে আরও কীভাবে এটিকে সহজ করা যায়, সেসব ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ইসির সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন। সমকাল




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD