জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের শেষ দিন ছিল প্রচারণার তীব্রতম সময়। প্রতিটি প্যানেল প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছেছেন। লিফলেট বিতরণ সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ ছিল নির্বাচনী মাঠের প্রধান আকর্ষণ। তবে এদিন কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
এদিন সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রার্থীদের ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। শুধু মেডিকেল সেন্টারে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, আকস্মিক সময়সূচি নির্ধারণে তারা প্রচারণার ব্যস্ত সময়ে সমস্যায় পড়েছেন।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ভোটের দিন এক হাজার থেকে বারোশো পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তবে তারা কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থান করবেন। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে আনসার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী। মোট ২১টি ভোটকেন্দ্রে ৬৭টি বুথ ও ২২৪টি গোপন কক্ষ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভোটার তালিকা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনের সচিব রাশেদুজ্জামান জানান, চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৮৮৭ জন। তবে নারী ও পুরুষ ভোটারের পৃথক হিসাব এখনও জানানো যায়নি। তালিকা আপডেট হচ্ছে, নির্বাচনের আগে প্রকাশ করা হবে।
ব্যালট পেপার সংক্রান্ত প্রশ্নে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ওএমআর সিস্টেমের ব্যালট পেপার তৈরি হবে। প্রচলিত ‘বেল’ পদ্ধতির ব্যালট থাকবে না। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ভোটাররা নির্বাচনী কর্মকর্তার সহায়তায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অতিরিক্ত ব্যালট ছাপা হয়েছে—এটি সঠিক নয়। ব্যালট পেপার ছাপা হবে ভোটগ্রহণের দিন সকালে।
আগামী ১১ সেপ্টেম্বর প্রায় বারো হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন এই নির্বাচনে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ডোপ টেস্ট, নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা ও ব্যালট বিতর্ক সব মিলিয়ে এটি জাকসুর ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।