শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন




মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো

আরও ১৩ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ৭:৫৫ pm
labour জনশক্তি প্রবাসী MANPOWER EXPORTS migrant workers wage worker মাইেগ্রন অভিবাসী শ্রমিক মাইেগ্রন অভিবাসী শ্রমিক রেমিট্যান্স রেমিটেন্স মজুর ডলার রির্জাভ migrant workers worker মাইেগ্রন অভিবাসী শ্রমিক
file pic

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ‘সিন্ডিকেট’ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৩ রিক্রুটিং এজেন্সির কর্তা ব্যক্তিদের মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ নিয়ে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুদক বলছে, ‘অনিয়মে’ যুক্ত থাকা এসব রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সাবেক সভাপতি এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিমের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে পাঁচগুণ পর্যন্ত অর্থ নিয়ে ‘আত্মসাৎ’ করার তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। রোববার দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে দায়ের হতে যাওয়া মামলায় আসামির সংখ্যা হতে পারে ৩১ জন।

এর আগে ‘সিন্ডিকেট করে’ মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামালের প্রতিষ্ঠানসহ ১২ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক।

এবার ১৩ এজেন্সির ‘অনিয়মের’ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে তারা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) বিভিন্ন পদে থেকে সিন্ডিকেট করে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে শ্রমিকদের কাছ থেকে ৫ গুণ বেশি অর্থ আদায় করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এছাড়া মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের নির্ধারিত নিয়ম এড়িয়ে ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ খাটিয়ে চুক্তির বাইরে শ্রমিক পাঠানো হয়। ওই প্রক্রিয়ায় ‘প্রতারণার’ মাধ্যমে শ্রমিকদের পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়।

এভাবে মোট ১ হাজার ১৫৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং’ করা হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলছে দুদক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে

>> এর মধ্যে আকাশ ভ্রমণের মনসুর আহমেদ কালাম ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ১৩৫ কোটি ৫৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা।

>> উইনার ওভারসিজ লিমিটেডের রহিমা হক ও মাহফুজুল হক ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৫৯ কোটি ৮৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।

>> শাহীন ট্রাভেলসের এম. শাহাদাত হোসাইন (তসলিম) ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ১২৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

>> নাভিরা লিমিটেডের শেখ মোহাম্মদ শাহিদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান ও মো. শামিম হাসান ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৮১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।

>> আদিব এয়ার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মো. কে.এম. মোবারক উল্লাহ, মো. আবুল কালাম আজাদ, নওশাদ আরা আক্তার ও হাছনা আক্তার আজাদ ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ১৩২ কোটি ২৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা।

>> ইউনাইটেড ম্যানপাওয়ার কনসালটেন্স লিমিটেডের নাজমা আক্তার, জেডইউ সায়েদ, জুহানা সুবাইতা ও জিসান সায়েদ ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।

>> গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজের রেহানা আরজুমান হাই ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৭৯ কোটি ৬১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা।

>> পি. আর. ওভারসিজ লিমিটেডের ইমান আকতার পুনম ও গোলাম রাকিব ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৭৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা।

>> জাহারত অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের মুহাম্মদ শফিকুল আলম (ফিরোজ), নাহিদা আক্তার রওশন আরা পারভিন ও এ.কে.এম. মোশারফ হোসেন ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ১১৬ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

>> অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সির মহিউদ্দিন আহমেদ ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৫৩ কোটি ২৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

>> মেসার্স জান্নাত ওভারসিজের লিমা বেগম ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৬৩ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

>> মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেডের মোহাম্মদ রফিকুল হালদার ভূঁইয়া ও কাজী অদিতি রুবাইয়াত ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ৬২ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৫০০ টাকা।

>> সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজ লিমিটেডের মঞ্জুর কাদের, সাদিয়া মঞ্জুর, আহমেদ আতাউর রহমান, আহমেদ খালেদ লুবনানী ও আহমেদ ফয়সাল রমাদানী ‘আত্মসাৎ’ করেছেন ১১২ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কল করা হলে হাব এর সাবেক সভাপতি ও শাহীন ট্রাভেলেসের এম. শাহাদাত হোসাইন তসলিমের মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে গত এক বছরে দেশে তাকে প্রকাশ্যে দেখাও যায়নি বলে হাব ও ট্রাভেল এজেন্সি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন।

দুদক বলছে, নতুন করে দায়ের হতে যাওয়া ১৩ মামলায় আসামির সংখ্যা হতে পারে ৩১ জন।

এর আগে গত মার্চে একই অভিযোগে সাবেক অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রতিষ্ঠানসহ ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

নতুন অনুসন্ধানের ভিত্তিতে দুদক বলছে, দীর্ঘদিন পর জনশক্তি রপ্তানির বাজার খোলা মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে এই ১৩টি এজেন্সি এবং আগের ১২টি এজেন্সি মিলিয়ে মোট ২৫টি প্রতিষ্ঠান ও ৬৪ আসামি এই জালিয়াতিতে জড়িত। এদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করে মোট ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিভিন্ন অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া৷ ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি করে দেশটি৷

ওই সময় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। ২০২২ সালে এক অফিস আদেশে এ খরচ নির্ধারণ করেছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়।

তবে সেখানেও তৈরি হয় নতুন সিন্ডিকেট বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০-২৫টি এজেন্সির সিন্ডিকেটই নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD