শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ন




বিবিসির বিশ্লেষণ

যে কারণে ভেস্তে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬ ১০:৫১ am

কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে, তবে যুদ্ধের অবসান ঘটানো কতটা জটিল হবে–সেই চ্যালেঞ্জগুলোর দিকেই এখন দৃষ্টি যাচ্ছে। জ্যেষ্ঠ একজন মার্কিন কর্মকর্তা বুধবার সাংবাদিকদের ১৪ অনুচ্ছেদের একটি সমঝোতা স্মারক পড়ে শোনান।

চুক্তিটি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই বুধবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও এই চুক্তিতে সই করেছেন বলে তেহরান নিশ্চিত করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন কারণে আলোচনা বিপন্ন করতে পারে।

ইসরায়েলের লেবানন অভিযান

লেবাননসহ সব ফ্রন্টে উভয়পক্ষ সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। প্রাথমিক চুক্তি ঘোষণার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ কথা বলেন। তিনি প্রধান মধ্যস্থতাকারীদের একজন হিসেবে কাজ করেছেন। বুধবার পড়ে শোনানো এই চুক্তিতে লেবাননকেও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে তার ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করা হয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘লেবাননের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার’ কথা বলার পরও ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে।

বুধবার ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে হামলা চালিয়েছে বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি বা এনএনএ জানিয়েছে। এ ছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, যদিও লেবানন যুদ্ধবিরতির কাঠামোর মধ্যে রয়েছে, তবুও লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এই চুক্তির শর্ত নয়।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি

আরেকটি জটিল বিষয় হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, এটি জব্দ করার কোনো তাড়াহুড়া নেই। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত ইরান প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম জমা করেছিল। একটি পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির মাত্রা প্রায় ৯০ শতাংশ হয়।

তেহরান ধারাবাহিকভাবে দাবি করে এসেছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং চুক্তিতে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে বিদ্যমান সমৃদ্ধ পদার্থের ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে–এটাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এখনও একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
উভয়পক্ষ নীতিগতভাবে জমাকৃত সমৃদ্ধ পদার্থ কীভাবে পরিচালনা করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সম্মত হয়েছে। ন্যূনতমভাবে, ইউরেনিয়াম ‘ডাউনব্লেন্ড’ করা হবে, অর্থাৎ এর মান কমানো হবে।

হরমুজ প্রণালি

সমঝোতা চুক্তিটির লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যা ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে আছে। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যেত। এতে বলা হয়েছে, শুক্রবার চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এই নৌপথের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত বাধা, যার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে মাইন অপসারণও রয়েছে, দূর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক ৬০ দিনের জন্য প্রণালিটি ‘পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং এর বিপরীত দিকেও’ টোলমুক্ত থাকবে।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD