বান্দরবানে রোববার রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টি চলছে। এতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি স্রোত স্বাভাবিক না হওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সময় পর্যন্ত সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের থানচি সড়কে সোমবার পাহাড় ধসে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকে। সেখানে যান চলাচলের স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল বলেন, বান্দরবান-থানচি সড়কে পাহাড় ধসে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তিন ঘণ্টার পর যা চলাচল স্বাভাবিক করা হযেছে।
থানচি ইউএনও আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যায়ক্রমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নদীর পানি ও স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনে নদীপথে যাতায়াত না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।