শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন




বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক থেকে রেকর্ড ঋণ নিয়েছে সরকার

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১০ জুলাই, ২০২৩ ৬:৩৯ pm
money laundering illegal process money generated criminal drug trafficking terrorist funding illegally concealing illicit drug trafficking corruption embezzlement gambling converting legitimate source crime jurisdictions আমদানি ওভার ইনভয়েসিং রপ্তানি আন্ডার-ইনভয়েসিং আমদানি-রপ্তানি অবৈধ জাল অর্থ পাচার জিএফআই মানি লন্ডারিং আর্থিক খাত গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউ হুন্ডি অর্থ পাচার Per capita income মাথাপিছু আয় Reserves Reserve রিজার্ভ remittance রেমিট্যান্স প্রবাসী আয় ডলার dollar Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা Pagla Mosque পাগলা মসজিদ কোটি টাকা
file pic

করোনার সময় থেকেই দেশের অর্থনীতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অর্থনীতির নানা চাপ সামাল দিতে ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে সরকার। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে সরকার এক লাখ ২৪ হাজার ১২২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের যে উৎস থেকে রাজস্ব বাড়ানো উচিত, সেখান থেকে আয় না হওয়ার কারণে ঘাটতি বাজেট মেটাতে শেষ দিকে ব্যাংকঋণ বাড়িয়েছে সরকার। এছাড়া সঞ্চয়পত্র বিক্রি নেতিবাচক ধারায় নেমেছে। বৈদেশিক ঋণ ছাড়েও গতি নেই। ফলে সরকার বাধ্য হয়েই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সমাপ্ত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এক লাখ ২৪ হাজার ১২২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। যা বাজেটের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আট হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা বেশি। এদিকে সরকারের বর্তমান ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছিল এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। কিন্তু সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ কমে যাওয়া এবং রাজস্ব আহরণ কম হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে এক লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপরেও বাড়তি ব্যয় মেটাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আট হাজার ৭০০ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক থেকে নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ৯২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। আর ২০ জুন তা বেড়ে এক লাখ ১২ হাজার ২৪১ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ জুনের প্রথম ২০ দিন সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের অঙ্ক ছিল ১৯ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা। তবে ২২ জুন সরকারের নিট ঋণের অঙ্ক আরও বেড়ে এক লাখ ২৭ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকাতে পৌঁছায়। অর্থাৎ দুই দিনে সরকার ব্যাংক থেকে নিট ঋণ নিয়েছে ১৫ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা। পুরো টাকাই জোগান দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে ২৬ জুন ছিল গত অর্থবছরের শেষ দিন। কারণ ২৭ তারিখ থেকে শুরু হয় পবিত্র ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি। অর্থবছর শেষে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের অঙ্ক দাঁড়ায় এক লাখ ২৪ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯৮ হাজার ৮২৬ কোটি টাকা সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিয়েছে ২৫ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত কয়েক বছরে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তার মধ্যে বিদায়ি বছরে নেওয়া ঋণের অঙ্কই সর্বোচ্চ। সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নিয়েছে মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে তীব্র তারল্য সংকট থাকার কারণে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে অস্থিরতার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের মুখে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ যত বাড়বে, মূল্যস্ফীতিও তত বাড়বে। কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ঋণের অর্থ টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশ ব্যাংককে ঘাটতি বাজেটের অর্থায়নের সূত্র হিসাবে ব্যবহার করছে সরকার। আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এত পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়নি।

খুবই সামান্য নেওয়া হতো। সেটা ক্যাশ না থাকার কারণে এক দিনের জন্য হতো। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত ঋণ নেওয়া শুরু হয়েছে। এ ধারা চলতে থাকলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। বরং মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিদায়ি অর্থবছরে সরকারের মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৮ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। চলতি (২০২৩-২৪) অর্থবছর ঘাটতি বাজেট মেটাতে ব্যাংক থেকে এক লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ নেবে বলে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD