শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন




ওয়ারেন্টভুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে: সেনাসদর

আউটলুক বাংলা রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ৬:৪৪ pm
Army Staff Bangladesh Army বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সেনা sena army Bangladesh Armed Forces AFD Military Army Navy Air Force সেনাবাহিনী আর্মি বাহিনী ‎বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সামরিক শক্তি United Nations Peacekeeping Mission জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা শান্তি মিশন নারী শান্তিরক্ষী UN শান্তিরক্ষী army
file pic

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জারি হওয়া ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে চাকরিতে থাকা ১৫ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। বাকি একজন কর্মকর্তা পলাতক বলে জানিয়েছে সেনাসদর।

শনিবার ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় অভিযুক্ত সদস্যদের বিষয়ে সেনাবাহিনী আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তার পরোয়ানার কপি এখনো হাতে পায়নি সেনাসদর

গুমের মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে এখনো ওয়ারেন্টের কপি হাতে পায়নি সেনাসদর। মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, অভিযুক্ত ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ৯ জন অবসরে রয়েছেন। ইতোমধ্যে অবসরপ্রাপ্ত একজনসহ মোট ১৫ জনকে সেনা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনী আদালতের রায় মেনে নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, টিভি স্ক্রল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেই ১৬ জনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীতে থাকার সময় এরা অন্যায় করেনি, বিভিন্ন বাহিনীতে তাদের যখন পাঠানো হয়, তখন তারা এসব অপরাধে জড়ায়।

মেজর জেনারেল কবিরের দেশত্যাগ রোধে তৎপর সেনাবাহিনী

মেজর জেনারেল কবির যাতে বিদেশে পালাতে না পারে সে বিষয়ে তৎপরতা অব্যাহত রয়ে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, গুমের শিকার হওয়া প্রতিটি পরিবারের প্রতি সহানূভুতিশীল সেনাবাহিনী, সকল অপরাধের বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান সেনাবাহিনীর।

ব্রিফিংয়ে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, মেজর জেনারেল কবির না জানিয়ে অবৈধভাবে ছুটিতে গেছেন। এয়ারপোর্টসহ সবাইকে বলা হয়েছে- উনি যেন দেশ ছাড়তে না পারেন। যারা গুম হয়েছেন, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল সেনাবাহিনী। সকল অপরাধের বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে সেনাবাহিনী।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্তরা কোনও অন্যায় করেননি; বিভিন্ন বাহিনীতে তাদের যখন পাঠানো হয়, তখন তারা এসব অপরাধে জড়ায়।

মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘ওয়ারেন্ট ইস্যুর বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে তাদের হাজির করার বিষয়ে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল (এ্যাডজুটেন্ট) মো. হাকিমুজ্জামান জানান, গুমের শিকার যারা হয়েছেন তাদের জন্য আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর কেউ যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন এজন্য দেশের সব বিমানবন্দর, নৌবন্দর ও স্থলবন্দরে নাম পাঠানো হয়েছে।

হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের কখন আইনে সোপর্দ করা হবে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, টিভির স্ক্রল দেখে আমরা ১৫ জনকে হেফাজতে নিয়েছি। আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গুমের সঙ্গে জড়িতদের গত ১৪ মাসে কেন সেনাবাহিনী সেনা আইনে বিচার করা হলো না এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ডিজিএফআই সেনাবাহিনীর অধীনের সংস্থা নয়। এটা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিরোধী মতের লোকদের গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দুই মামলায় প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গত বুধবার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর মধ্যে র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটকে রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৭ জন এবং জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) বন্দি রেখে নির্যাতনের মামলায় ১৩ জন আসামি।

দুই মামলাতেই প্রধান আসামি করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালকের নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।




আরো






© All rights reserved © outlookbangla

Developer Design Host BD